প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে আবারও মুখ খুললেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। বুধবার দিল্লির রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবি জানান। একই সাথে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ভূমিকা নির্বাচন কমিশনের অনিয়মের পেছনে রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তাঁদেরও তদন্তের আওতায় আনার আহ্বান করেছেন তিনি।
ভারতীয় প্রভাবশালী সংবাদপত্র 'দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস'-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের উদাহরণ তুলে ধরে রাহুল গান্ধী বলেন, "গত তিন বছর ধরে আমি প্রমাণসহ 'ভোট চুরি' ও নির্বাচনী কারচুপির বিষয়টি তুলে ধরে আসছি। এখন তো খোদ নির্বাচন কমিশনেরই দুজন কমিশনার ভেতরের অনিয়ম ও অস্বচ্ছতার বিষয়টি প্রকাশ্যে এনেছেন।" তিনি আরও দাবি করেন, শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) অনেক ছোট-বড় নেতাও জানেন যে নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সাবেক কংগ্রেস সভাপতি বলেন, "ভোটার তালিকার ওপর কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। বিশেষ করে ভোটার তালিকা হালনাগাদ (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে।" দেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক পরিস্থিতিকে অভূতপূর্ব উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করে বলেন, "সিস্টেমে বড় ধরনের গলদ তৈরি হয়েছে এবং দেশবিরোধী কার্যকলাপ চলছে।"
হরিয়ানা, ছত্তিশগড় ও উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলোর সাম্প্রতিক নির্বাচনী ফলাফলের উদাহরণ টেনে রাহুল বলেন, "এই রাজ্যগুলোতে সাধারণ মানুষের মধ্যে সরকারবিরোধী হাওয়া বা 'অ্যান্টি-ইনকাম্বেন্সি' স্পষ্টভাবে বিদ্যমান ছিল। তা সত্ত্বেও নির্বাচনের ফলাফলে সেই জনমতের প্রতিফলন ঘটেনি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীও তার জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা অবস্থায় নির্বাচনে হেরেছিলেন, সেখানে বর্তমানে শাসক দলের ক্ষেত্রে অ্যান্টি-ইনকাম্বেন্সি সম্পূর্ণ উধাও হয়ে যাওয়া স্বাভাবিক নয়।"
তিনি জানান, দেশের সব বিরোধী দল একজোট হয়ে ভোট চুরির এই প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলবে।
এদিকে, কংগ্রেসের পাশাপাশি ককরোচ জনতা পার্টিও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করার পাশাপাশি কার নির্দেশে ভোটার তালিকায় এই ধরনের "অনিয়ম" ঘটানো হয়েছে, তার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন দলটির নেতারা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন