প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রায় ১৮০ কোটি (১.৭৭৬ বিলিয়ন) ডলারের একটি বিশেষ তহবিল স্থগিত করা হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি ছিল, যারা অতীতে সরকারি ‘অস্ত্রায়নের’ বা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের এই তহবিল থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
কিন্তু ট্রাম্পের নিজের দল রিপাবলিকানের আইনপ্রণেতারাই এর তীব্র বিরোধিতা করায় হোয়াইট হাউস পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। সোমবার (১ জুন) এই পরিস্থিতির সাথে জড়িত একাধিক মার্কিন সূত্র তহবিলটি স্থগিতের খবরটি নিশ্চিত করেছে।
এই ঘটনার পেছনে রয়েছে ট্রাম্পের সাথে মার্কিন বিচার বিভাগের একটি গোপন আইনি সমঝোতা। ট্রাম্পের কর সংক্রান্ত নথিপত্র অপব্যবহারের অভিযোগে দেশটির রাজস্ব বিভাগের (আইআরএস) বিরুদ্ধে ১০ বিলিয়ন ডলারের একটি মামলা হয়েছিল।
সেই মামলার নিষ্পত্তি হিসেবে এই ১.৭৭৬ বিলিয়ন ডলারের তহবিল গঠন করা হয়। তবে এই তহবিল ঘোষণার পরপরই তীব্র রাজনৈতিক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। রিপাবলিকান সিনেটরদের বড় ক্ষোভ ছিল যে, ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি মার্কিন ক্যাপিটলে হামলাকারী দাঙ্গাবাজরাও করদাতাদের এই টাকায় ক্ষতিপূরণ পেয়ে যেতে পারে। এ ছাড়া এই চুক্তির অধীনে ট্রাম্প ও তার পরিবারের অতীত কর ফাইল নিয়ে কোনো ধরনের তদন্ত বা অডিট না করার শর্ত থাকায় সমালোচকেরা এটিকে একটি ‘গোপন তহবিল’ হিসেবে আখ্যা দেন।
এর মাঝেই গত শুক্রবার (২৯ মে) ফেডারেল বিচারকেরা এই তহবিলের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করলে বিচার বিভাগ আদালত মেনে চলার ঘোষণা দেয়।
এই তহবিলকে কেন্দ্র করে ট্রাম্পের নিজের দলের ভেতরেই এক নজিরবিহীন বিদ্রোহ দেখা গেছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের আগে দলের শীর্ষ সিনেটরদের বাদ দিয়ে ট্রাম্প তার পছন্দের প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ায় আগে থেকেই ক্ষুব্ধ ছিলেন রিপাবলিকান নেতারা। মেমোরিয়াল ডের ছুটি কাটিয়ে সিনেটররা যখন ওয়াশিংটনে ফেরেন, তখন বাজেট সংক্রান্ত একটি অচলাবস্থার মধ্যে তারা হোয়াইট হাউসকে এই বিতর্কিত তহবিল বাতিলের জন্য চরমপত্র বা আলটিমেটাম দেন। সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা জন থুন স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে প্রশাসন নিজে থেকে এটি বন্ধ না করলে সামনে এগোনোর কোনো পথ নেই।
ট্রাম্পের অনুগত ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ এই তহবিল গঠনের পেছনে মূল ভূমিকা রাখলেও, সিনেটরদের তোপের মুখে পড়ে এখন তার স্থায়ী পদ পাওয়াই ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
পুরো ঘটনায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘খুব একটা খুশি নন’ বলে তার ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, তবে আপাতত পরিস্থিতি সামাল দিতে এটি মেনে নেওয়া ছাড়া তার কোনো উপায় ছিল না।
এদিকে বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটরা এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করছে। সিনেটের সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে কোনো রাষ্ট্রপতি যেন ক্ষমতার অপব্যবহার করে এমন কোনো গোপন তহবিল বানাতে না পারেন, সেজন্য তারা চলতি সপ্তাহেই সিনেটে একটি নতুন আইন পাসের জন্য চাপ দেবেন। ফলে তহবিলটি সাময়িকভাবে স্থগিত হলেও এটি মার্কিন রাজনীতিতে ট্রাম্পের একক ক্ষমতার ওপর একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র : রয়টার্স
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন