প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সৌদি সরকারের কাছে ২০ হাজার অতিরিক্ত হজ কোটা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছে হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব), কারণ নির্ধারিত ৭৮ হাজার ৫০০ জনের কোটা পূর্ণ হয়ে গেছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে একটি হোটেলে হজ ব্যবস্থাপনার সর্বশেষ অবস্থা জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হাবের মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার এই দাবি উত্থাপন করেন। এ সময় হাবের সভাপতি সৈয়দ গোলাম সরওয়ারও উপস্থিত ছিলেন।
হাবের মহাসচিব জানান, "চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী বছরের ১৫ মে (৯ জিলহজ ১৪৪৮ হিজরি) পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। এই বছর রাজকীয় সৌদি সরকার ৭৮ হাজার ৫০০ জনের কোটা নির্ধারণ করেছে। বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত হজ কোটা ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন থাকলেও বিগত কয়েক বছর ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে হজযাত্রীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। ফলে রাজকীয় সৌদি সরকার ২০২৭ সালের জন্য বাংলাদেশের হজ কোটা কমিয়ে ৭৮ হাজার ৫০০ জন নির্ধারণ করেছে।"
তিনি আরও বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের গৃহীত সঠিক পদক্ষেপের কারণে হজযাত্রীর সংখ্যা আশাতীতভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। নিবন্ধনের সময়সীমার মধ্যে কোটা পূর্ণ হওয়ার পরও প্রায় ২০ হাজারেরও বেশি হজযাত্রী অপেক্ষমাণ রয়েছেন।
ফরিদ আহমেদ মজুমদার উল্লেখ করেন, "এই হজযাত্রীরা মানসিক ও আর্থিকভাবে হজ পালনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন। কিছু পরিবারের সদস্য নিবন্ধিত হলেও বাকিরা অপেক্ষমাণ রয়েছেন। আল্লাহ পাকের মেহমানদের কথা বিবেচনা করে রাজকীয় সৌদি সরকার থেকে কমপক্ষে আরও ২০ হাজার কোটা বরাদ্দ নেওয়া একান্ত প্রয়োজন।"
তিনি বলেন, "আমাদের মূল কোটা ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন, তাই আমরা যৌক্তিকভাবে এই বর্ধিত কোটার দাবিদার।"
হাবের মহাসচিব আরও জানান, গত হজে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সঙ্গে রাজকীয় সৌদি সরকারের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবার অত্যন্ত চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে। তিনি বলেন, "রাজকীয় সৌদি সরকারের মন্ত্রী মহোদয় জেদ্দা ও রিয়াদে একাধিকবার আমাদের মন্ত্রী মহোদয়কে সাক্ষাতের সময় ও সুযোগ দিয়েছেন।"
তিনি আরও জানান, তাদের সহযোগিতায় বিগত হজ অত্যন্ত সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন, মন্ত্রী মহোদয় ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করলে দ্রুত অপেক্ষমাণ হজযাত্রীদের সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে, ইনশা-আল্লাহ।
২০২৭ সালের হজের প্রাথমিক নিবন্ধন শুরুর দিকে নির্ধারিত কোটা পূরণ হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় ছিল। তবে নিবন্ধনের শেষ পর্যায়ে এসে হঠাৎ করে হজে গমনেচ্ছুর সংখ্যা বেড়ে যায়। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিবন্ধনের সময় শেষ হওয়ার আগেই সৌদি আরবের দেওয়া ৭৮ হাজার ৫০০ জনের কোটা পূর্ণ হয়ে যায়।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোটা পূর্ণ হওয়ার পরও অনেক হজ গমনেচ্ছু টাকা জমা দেন। হজযাত্রীদের টাকা গ্রহণের জন্য গত শুক্র ও শনিবার ব্যাংক খোলা রাখা হলেও কোটা পূর্ণ হওয়ার পর নিবন্ধন সার্ভার বন্ধ হয়ে যায়। ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, ফলে টাকা জমা দেওয়ার পরও প্রায় ১৭ হাজার ব্যক্তি হজে যেতে নিবন্ধিত হতে পারেননি।
এখন পর্যন্ত হাবের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত হজের কোটা বরাদ্দের জন্য ব্যবস্থা নিতে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোটা বাড়ানোর প্রস্তাবের চিঠি ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে সৌদি হজ মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠানো হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন