প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় নীলফামারী জেলার ১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। এ ছাড়া, মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডের আওতায় ২টি প্রতিষ্ঠান থেকে অংশগ্রহণকারী সকলেই ফেল করেছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, নীলফামারী জেলার ১৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে- নীলফামারী সদর উপজেলার আদর্শ কলেজ (৪০ জন), পঞ্চপুকুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ (৬ জন), তারনিবাড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজ (২ জন), লক্ষ্মীচাপ সৃজনশীল কলেজ (১ জন), কিশোরগঞ্জ উপজেলার ভেরভেরি মঝাপাড়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ (৫১ জন), নয়ন খাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ (৩ জন), ডোমার উপজেলার জামিরবারি মহিলা কলেজ (৫ জন), বাগডোকড়া নিমোজখানা হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ (৩ জন), জলঢাকা উপজেলার সমিরুদ্দিন আদর্শ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ (২ জন), ডিমলা উপজেলা আদাবাড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজ (২ জন), জেলা পরিষদ স্কুল অ্যান্ড কলেজ (১ জন) এবং গয়াখড়িবাড়ি মহিলা কলেজ (১ জন)।
মাদরাসা বোর্ডের অধীনে দুইটি প্রতিষ্ঠান হলো- সৈয়দপুরের পোড়াহাট ইসলামিয়া আলিম মাদরাসা (৭ জন) এবং ডোমারের পাঙ্গা চৌপথী আব্দুল মজিদ আলিম মাদরাসা (১৫ জন)।
নীলফামারী সদর উপজেলার আদর্শ কলেজের প্রভাষক সারিউল ইসলাম জানান, "২৫ বছর ধরে প্রতিষ্ঠান চলছে, এমন ফলাফল এর আগে হয়নি। আমাদের প্রতিষ্ঠানের কোনো বিল-বেতন এখনো খোলেনি। কলেজের ৩৭ জন স্টাফ মানবেতর জীবনযাপন করছি সরকার এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।"
ডোমারের পাঙ্গা চৌপথী আব্দুল মজিদ আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ আবুল কালাম বলেন, "আমাদের মাদরাসা থেকে এবার ১৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই ফেল করেছে। পর্যাপ্ত গুরুত্ব সহকারে সবাইকে পাঠদান করার পরেও এবারের ফলাফল কেন এমন হলো বুঝতেছি না। বেশিরভাগ শিক্ষার্থী ১ বিষয়ে ফেল করেছে, আমরা বোর্ড চ্যালেঞ্জ করার পরিকল্পনা নিয়েছি।"
স্থানীয়রা জানান, ফেল করা অনেক স্কুলের এখনো বিল-বেতন খুলেনি। এরপরেও ১৪ প্রতিষ্ঠানে মোট ১৩৯ জন শিক্ষার্থীর শতভাগ ফেল করার ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানের উদাসীনতাকে দায়ী করছেন তারা।
মনিরুজ্জামান নামে এক অভিভাবক ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, "একটা কলেজে ৪০ বা ৫০ জন অংশ নিয়ে সবাই ফেল করবে এটা মেনে নেয়া যায়না। যদি সামান্য কয়েকজন পাস করত এরপরেও তাদের বিষয়গুলো মেনে নেওয়া যেত- যে তারা চেষ্টা করেছে।"
এ বিষয়ে শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে কেউ ফোন রিসিভ করেননি।
২০২৫ সালে নীলফামারী জেলায় এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৬৩ দশমিক ৭১ শতাংশ। ২০২৬ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪৯ দশমিক ৯২ শতাংশে। এক বছরের ব্যবধানে জেলায় এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার কমেছে ১৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন