১১:৪৫ এম
ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ অভিযোগ করেছেন, তিনি ১৯৯৭ সালের হেবরন চুক্তি বাতিল করেছেন। এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে, অধিকৃত পশ্চিম তীরের সবচেয়ে বড় শহর হেবরনে নির্মাণকাজের ওপর ফিলিস্তিনি পৌরসভার কর্তৃত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।
১৯৯৭ সালের ১৭ জানুয়ারি ইসরায়েল এবং প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন (পিএলও)-এর মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক চুক্তিটি হেবরন চুক্তি নামে পরিচিত। এই চুক্তির মূল উদ্দেশ্য ছিল, পশ্চিম তীরের হেবরন শহর থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করে ফিলিস্তিনিদের হাতে শহরের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর করা।
হেবরন চুক্তির মাধ্যমে, পশ্চিম তীরের হেবরন শহরটি দুটি প্রশাসনিক অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছিল। একটি অংশের বেসামরিক নিয়ন্ত্রণ ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হাতে, এবং অন্য অংশ ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ মার্শাল আর্ট কনফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হলেন ইশরাক
স্মোট্রিচের কথায়, এই সিদ্ধান্তের ফলস্বরূপ হেবরনের নির্দিষ্ট এলাকায় ফিলিস্তিনি পৌরসভার নির্মাণসংক্রান্ত ক্ষমতা বাতিল বা সীমিত হতে পারে। তবে, এই বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক আইনি পরিবর্তন বা বাস্তবায়নের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ফিলিস্তিনি পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধির বিরুদ্ধে সমালোচনা করে আসছে। বিশ্লেষকদের মতে, হেবরন চুক্তি বাতিলের যেকোনো উদ্যোগ এলাকাটিতে উত্তেজনা বাড়াতে পারে।
এদিকে, পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী ও ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় এক ফিলিস্তিনি কিশোরী আহত হয়েছে, এবং বেশ কিছু সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফার তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনীর ছুড়ে দেওয়া গুলি ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীর কাঁধে লাগে। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। এসময়ে শহরটিতে অভিযান চালানোর সময় ইসরায়েলি সেনারা গুলি ও কাঁদানে গ্যাসের ক্যানিস্টার নিক্ষেপ করে এবং শহরের প্রবেশপথ বন্ধ করে দেয়।
এদিকে, ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা আল-লুব্বান আশারকিয়া এলাকার সড়কে চলাচলকারী বাসিন্দাদের দুটি গাড়িতে পাথর ছুড়ে হামলা চালায়, এতে গাড়িগুলোর জানালার কাচ ভেঙে যায়। এল-বিরেহ শহরেও ইসরায়েলি বাহিনী অভিযান চালিয়ে বাসিন্দাদের লক্ষ্য করে সাউন্ড বোমা, কাঁদানে গ্যাসের ক্যানিস্টার ও গুলি ছোড়ে। এতে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয় এবং যান চলাচল ব্যাহত হয়।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশের শ্রমিক আন্দোলনের ওপর নজর রাখছে ভারত: রণধীর জয়সওয়াল
এছাড়া রামাল্লার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত দেইর আবু মিশাল গ্রামে ইসরায়েলি বাহিনী গুলি ছুড়ে প্রবেশ করে। তবে, সেখানে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের পূর্বাঞ্চলের আস-সাওয়াহিরা আল-শারকিয়া এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী কয়েকটি বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় তারা ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে, বাসিন্দাদের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের মোবাইল ফোন জব্দ করে পরে এলাকা ত্যাগ করে।
এদিকে ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ দাবি করেছেন, তিনি ১৯৯৭ সালের হেবরন চুক্তি বাতিল করেছেন। এ পদক্ষেপ যদি কার্যকর হয়, তবে অধিকৃত পশ্চিম তীরের বৃহত্তম শহর হেবরনে নির্মাণকাজের ওপর ফিলিস্তিনি পৌরসভার কর্তৃত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন