প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাতিসংঘ আগামী কয়েক বছরে গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ দ্রুত কমানোর তাগিদ দিয়েছে, যা বৈশ্বিক উষ্ণতা সীমিত রাখতে অপরিহার্য। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে নিঃসরণ ১৮ শতাংশ এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ৪৫ শতাংশ কমাতে হবে। যদি এ লক্ষ্য পূরণ না হয়, তবে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে, যা তীব্র তাপপ্রবাহসহ নানা জলবায়ু বিপর্যয়ের ঝুঁকি বাড়াবে।
ইউএনইপির এক প্রতিবেদনে এ সতর্কবার্তা তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিল্পবিপ্লবের আগের সময়ের তুলনায় বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখার লক্ষ্য অর্জন এখন অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে যদি এ লক্ষ্য ছাড়িয়ে যায়, তাহলে অতিরিক্ত উষ্ণতার মাত্রা ও স্থায়িত্ব কমানোর সুযোগ রয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দেশগুলোর দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নে বড় ব্যবধান বিদ্যমান। ফলে বৈশ্বিক উষ্ণতা সীমিত রাখার লক্ষ্য অর্জন ক্রমশ কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
ইউএনইপির হিসাব অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ ১৮ শতাংশ এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ৪৫ শতাংশ কমানো গেলে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখা সম্ভব। তবে তাও পৃথিবী আরও উষ্ণ হবে এবং চরম আবহাওয়ার ঘটনা যেমন তীব্র তাপপ্রবাহ ঘন ঘন ঘটতে পারে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালে বিশ্বে গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ আগের বছরের কাছাকাছি ছিল। তবে এক বছরের তথ্যের ভিত্তিতে নিঃসরণ বৃদ্ধি বন্ধ হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি পেলে নিঃসরণ আবারও বাড়তে পারে।
ইউএনইপির নির্বাহী পরিচালক ইঙ্গার অ্যান্ডারসন বলেছেন, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে দেরি করায় তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখার সুযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। তবে লক্ষ্যটি পুরোপুরি ছেড়ে না দিয়ে অতিরিক্ত উষ্ণতার মাত্রা ও সময়কাল কমানোর চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।
প্রতিবেদনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশগুলো তাদের হালনাগাদ জলবায়ু প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করলেও শতাব্দীর শেষ দিকে বৈশ্বিক তাপমাত্রা প্রাক্-শিল্পযুগের তুলনায় ২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে। বর্তমানে কার্যকর নীতিগুলো অপরিবর্তিত থাকলে তাপমাত্রা বৃদ্ধির পরিমাণ ২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছতে পারে।
জলবায়ু গবেষণা সংস্থা ক্লাইমেট অ্যানালিটিকসের প্রধান নির্বাহী বিল হেয়ার বলেছেন, সব দেশেরই নিঃসরণ কমানোর দায়িত্ব রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মতো বড় জীবাশ্ম জ্বালানি উৎপাদনকারী দেশগুলোর বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।
অন্যদিকে, পাওয়ার শিফট আফ্রিকার পরিচালক মোহাম্মদ আদো বলেন, সৌর ও বায়ুশক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়লেও জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সরকারগুলো যথেষ্ট দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
ইউএনইপির মতে, মিথেন নিঃসরণ কমানোও বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো ও জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া গেলে ভবিষ্যতের জলবায়ু বিপর্যয়ের মাত্রা সীমিত রাখার সুযোগ এখনো রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন