প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বার্সেলোনায় লিওনেল মেসির ট্রফির অভাব ছিল না। একের পর এক শিরোপা জিতে সাফল্যের নতুন ইতিহাস লিখেছিলেন তিনি, জাভি হের্নান্দেস, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা ও কার্লেস পুয়োলদের পাশে। তবে আর্জেন্টিনার মহাতারকা জানালেন, কাতালান ক্লাবটিতে কাটানো সেই সোনালি সময় শুধুমাত্র ট্রফি জয়ের আনন্দে সীমাবদ্ধ নয়। মাঠে ও মাঠের বাইরে সতীর্থদের সঙ্গে কাটানো প্রতিদিনের মুহূর্তগুলোও সমপরিমাণ মূল্যবান বলে মনে করেন আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই ফুটবলার।
স্প্যানিশ সংবাদ সংস্থা এফেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের নানা বিষয় নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন মেসি। বার্সেলোনার হয়ে সম্ভাব্য সব বড় সাফল্য পেলেও, ক্লাবের চেয়ে সতীর্থদের সঙ্গে ফুটবল উপভোগের স্মৃতিটাই মেসির কাছে বেশি উজ্জ্বল। ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করার অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সবকিছু জেতার সৌভাগ্য হয়েছিল আমাদের। যেভাবে আমরা সেসব অর্জন করেছিলাম, সেটাও ছিল বিশেষ কিছু। আমরা মাঠে নামতে, জিততে এবং গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য পেতে ভালোবাসতাম। তবে সবচেয়ে বেশি উপভোগ করতাম অনুশীলনের প্রতিদিনের সময়গুলো। সতীর্থদের সঙ্গে আমাদের সময়টা দারুণ কাটত।’
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে খেলা মেসি দুই মৌসুম ফরাসি ক্লাব পিএসজিতে কাটিয়েছেন। ঠিকানা বদলালেও বার্সেলোনাকে এখনও নিজের ‘প্রাণের ক্লাব’ মনে করেন তিনি। তিন সন্তানের জন্ম এই শহরে উল্লেখ করে মেসি বলেন, ‘বার্সেলোনার সঙ্গে আমার সম্পর্ক কেবল ফুটবলেই সীমাবদ্ধ নয়। শহর ও ক্লাবের প্রতি আমার খুব গভীর ভালোবাসা রয়েছে।’
ক্লাব ফুটবলে ধরা দেওয়া সাফল্য পেলেও, জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপ জয়ের জন্য মেসিকে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়েছিল। ২০২২ সালে কাতারে সেই অধরা ট্রফি উঁচিয়ে ধরার মুহূর্তটি তার কাছে ‘স্বপ্নের চেয়েও বেশি কিছু’ ছিল। ফ্রান্সের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর ফাইনালে করা গোলগুলোকে ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গোল হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল ও ক্লাসিকোর গোলগুলোর পাশেই জায়গা পাবে বিশ্বকাপের ফাইনালের গোলগুলো।
সংবাদ সংস্থা এফেকে দেওয়া এ সাক্ষাৎকারে গত আগস্টে প্রয়াত বাবা হোর্হে মেসির স্মৃতির কথাও উঠে আসে। স্পেনের মর্যাদাপূর্ণ ‘প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস’ পুরস্কার পাওয়ার খবরের কথা জানিয়ে মেসি জানান, এই সম্মাননা নিয়ে তার বাবা ভীষণ রোমাঞ্চিত ছিলেন। ব্যস্ত সূচির মধ্যেও ছেলেকে ওবিয়েদোয় গিয়ে পুরস্কার গ্রহণের উৎসাহ দিয়েছিলেন তিনি। বাবার অকালপ্রয়াণে শোক প্রকাশ করে মেসি বলেন, মাঠের অর্জনের বাইরে গিয়ে দেওয়া এ সম্মাননা তার বাবা স্বচক্ষে দেখে যেতে পারলে সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন।
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই বাবার দেওয়া এক বিশেষ উপদেশ আজও মনে রেখেছেন মেসি। ফল যাই হোক, চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার সেই দর্শনই তার ক্যারিয়ারের ভিত্তি। বাবার শিক্ষাকে স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘কখনও চেষ্টা বন্ধ করবে না—বাবা সব সময় আমাকে বলতেন, বল পায়ে নাও এবং চেষ্টা করো। সফল হও কিংবা ব্যর্থ, সেই মুহূর্তেই আটকে থেকো না। কারণ আবার চেষ্টা করার সুযোগ সব সময়ই আসবে।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন