প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেছেন, ফ্যাসিস্টদের পকেট ভরার সব রাস্তা বন্ধ করা হবে। তিনি মন্তব্য করেন, ‘গত ১৭ বছরে দুর্নীতির মাধ্যমে যে যার পকেট ভরেছে, সেই রাস্তাগুলো আমাদের বন্ধ করতে হবে। কোনো ধরনের দুর্নীতিকে আমরা প্রশ্রয় দেব না।’
শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ শহরের ওসমানী স্টেডিয়ামে মুস্তাফিজুর রহমান ফাউন্ডেশনের আয়োজনে বেগম খালেদা জিয়া ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘সম্প্রতি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের একটি ভিডিও আমার কাছে পৌঁছেছে। ভিডিওটি দেখার পরই সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের ওয়ার্ক অর্ডার দুর্নীতির কারণে বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারা পাথরের বদলে ইট এবং সিমেন্টের বদলে বালু ব্যবহার করছিল।’
তিনি জানান, ‘জনগণের অর্থে নির্মিত কোনো অবকাঠামো দুর্নীতির কারণে অপচয় হতে দেওয়া হবে না। যদি কোথাও কোনো অনিয়ম ঘটে, তাহলে স্থানীয় জনগণকে সচেতন হতে হবে এবং সরকারকে জানাতে হবে।’
আমিনুল হক নীতিমালার আওতায় আরো বলেন, ‘নতুন জাতীয় শিক্ষাক্রমে ফুটবল, ক্রিকেট, দাবা, সাঁতারসহ মোট আটটি ক্রীড়া বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী বছর থেকে চতুর্থ শ্রেণি থেকে এসব বিষয়ে পাঠদান শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। মূল্যায়নের ক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষার পাশাপাশি মাঠে অংশগ্রহণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত খেলাধুলায় সম্পৃক্ত হয়।’
তিনি আরও জানান, ‘যেখানে খালি জায়গা থাকবে সেখানে খেলার মাঠ গড়ে তোলার নির্দেশনা দিয়েছেন আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ইতোমধ্যে দেশের ৩০০ জন সংসদ সদস্যের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে, যেন প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত আট বিঘা জমিতে একটি করে খেলার উপযোগী মাঠ গড়ে তোলা যায়। আগামী পাঁচ বছরে দেশের সব ইউনিয়নে খেলাধুলার উপযোগী মাঠ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।’
নারায়ণগঞ্জ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী অবহিত করেন, প্রথম ধাপে দেশের ১০টি অঞ্চলে আন্তর্জাতিক মানের স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে নারায়ণগঞ্জ প্রথম সারিতে থাকবে। এসব স্পোর্টস ভিলেজে ইনডোর গেমস, আর্চারি, শুটিং, সুইমিংসহ আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া সুবিধা থাকবে।
তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরে প্রতিটি জেলায় একটি করে আধুনিক সুইমিং পুল নির্মাণ এবং জরাজীর্ণ সুইমিং পুলগুলো সংস্কার করা হবে, যেন সাঁতার শেখার সুযোগ বাড়ানো যায় এবং পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা কমানো যায়।
ফতুল্লা স্টেডিয়ামের বর্তমান অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বললেন, ‘আন্তর্জাতিক মানের যে ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হয়েছিল, সেটির অবস্থা এখন অত্যন্ত নাজুক। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান, মুস্তাফিজুর রহমান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাসুকল ইসলাম রাজীবসহ অন্যান্যরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন