প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ১১ আগস্ট, ২০২৬ : তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন যে, ‘আদিবাসী’ শব্দের নতুন বয়ান তৈরি না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি কোন ধরনের পাতানো ফাঁদে পা দিতে চাইছেন না। তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া বা নিউজিল্যান্ডের মতো অভিবাসী রাষ্ট্রগুলোর বাস্তবতার সাথে বাংলাদেশের কোনো মিল নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘অভিবাসী চিন্তাধারার মনোজগৎ বা চশমা দিয়ে বাংলাদেশের জনমিতি বা নৃবিজ্ঞানকে বোঝা সম্ভব নয়। ভৌগোলিক ও নৃতাত্ত্বিক বিচারে বাংলাদেশে ‘আদিবাসী’ শব্দ ও ধারণাটি সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক।’
আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে চিটাগাং হিল ট্র্যাকটস রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সিএইচটিআরএফ) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের জন্য ‘আদিবাসী’ পরিচয় অপ্রাসঙ্গিক’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। অনুষ্ঠানে আরও বিশেষ অতিথি হিসেবে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম উপস্থিত ছিলেন। সিএইচটিআরএফ এর চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক মো. মেহেদী হাসান পলাশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করা হয়, যেখানে ড. আবদুল্লাহ আল ইউসুফ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যেসব দেশে বহিরাগত অভিবাসীরা এসে মূল অধিবাসীদের তাড়িয়ে রাষ্ট্র গঠন করেছে, সেখানে আদিবাসীদের একটি ঐতিহাসিক ক্ষোভ রয়েছে, সেই পাপ মোচনে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো কাজ করছে। কিন্তু বাংলাদেশে কোনো অভিবাসী এসে মূল বাসিন্দাদের তাড়িয়ে জমি দখল করেনি। আমাদের জনমিতি ও জাতি গঠিত হয়েছে হাজার বছরের নৃবিজ্ঞানের প্রাকৃতিক বিবর্তনের ধারায়। সেই কারণেই এখানে বহিরাগত অভিবাসী বনাম আদিবাসীর কোনো বিরোধের অবকাশ নেই।’
মন্ত্রী এই প্রসঙ্গে সতর্ক করে বলেন, ‘আমাদের জাতীয় পরিচয় এবং জনমিতির ওপর অপ্রাসঙ্গিক বিতর্ক সৃষ্টি করা এক ধরনের অপকৌশল হতে পারে। আমাদের নেতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নাগরিকত্বের ভিত্তিতে ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর ধারণা উপস্থাপন করেছেন, যা আমাদের জাতির পরিচয়গত সংকট নিরসন করেছে। তাই এই সংহত পরিচয়কে অক্ষুণ্ন রাখতে ভুল বয়ানের বিপরীতে সঠিক ইতিহাস ও সমাজবিজ্ঞানের তথ্য উপস্থাপন করতে হবে।’
তথ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সংখ্যাগরিষ্ঠের মনোজগৎ দিয়ে ক্ষুদ্র জাতিসত্তার সমস্যা সঠিকভাবে বোঝা যাবে না।
গোলটেবিল আলোচনায় সুভাষ রুদ্র-নদীর সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি, এমরান সালেহ প্রিন্স, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রব এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক বিশেষ সহকারী মোহাম্মাদ রাশেদ খানসহ অনেকে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠিত আলোচনা সভার অন্যান্য অতিথি ও আলোচকদের মধ্যে বিশিষ্ট সাংবাদিক মারুফ কামাল খান সোহেল, ড. আবদুল হাই সিদ্দিকী, এম আবদুল্লাহ, আবু রুশদ, জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটুটের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তা লে. জেনারেল মাহফুজুর রহমান, লে. জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী, ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদসহ বিভিন্ন রাজনীতিবিদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ইতিহাসবিদ ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন