প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মাদারীপুরে ভুয়া দাতাকে হাজির করে ৪৭ শতাংশ জমি জালিয়াতির মাধ্যমে লিখে নেওয়ার ঘটনায়, আদালতের রায়ে পাঁচজনকে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হলেও, বর্তমানে মামলাটি আপিল ও লিভ টু আপিল পর্যায়ে বিচারাধীন রয়েছে।
এদিকে, ওই মামলাটি থেকে বাঁচতে বাদীপক্ষের স্বজনদের বিরুদ্ধে একের পর এক হয়রানিমূলক মামলা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যে জমির মালিক নুর জাহান বেগম ১৯৯০ সালের ১৬ অক্টোবর মারা যান। এরপর তার বৈধ ওয়ারিশদের কাছ থেকে ইতালিপ্রবাসী জসিম মোল্লা মাদারীপুর সদর উপজেলার পেয়ারপুর মৌজার এসএ ৯০৬ নম্বর খতিয়ানের ৩৮৮৬ নম্বর দাগের ২৩ শতাংশ এবং একই খতিয়ানের ৩৮৯৩ নম্বর দাগের ২৪ শতাংশসহ মোট ৪৭ শতাংশ জমি ক্রয় করেন।
অভিযোগ রয়েছে যে, নুর জাহান বেগমের মৃত্যুর প্রায় চার বছর পর ১৯৯৪ সালের ২ নভেম্বর সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অন্য এক নারীকে নুর জাহান বেগম পরিচয়ে হাজির করে ৪১৬৪ নম্বর দলিলের মাধ্যমে ওই জমি জালিয়াতির মাধ্যমে বিক্রি দেখানো হয়।
এই ঘটনার পর জসিম মোল্লার শ্বশুর, শহরের বাগেরপাড় এলাকার মৃত রুইজউদ্দিন হাওলাদারের ছেলে দিদার হাওলাদার সাতজনের বিরুদ্ধে বাদী হয়ে অভিযোগ দায়ের করলে, ২০১৭ সালের ৪ আগস্ট মাদারীপুর সদর মডেল থানায় প্রতারণার মামলা রেকর্ড করা হয়।
দীর্ঘ তদন্ত, সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ ও বিচারিক কার্যক্রম শেষে ২০২৩ সালের ১৮ জুলাই তৎকালীন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশিদ আব্দুল জলিল ওরফে দুলাল শেখসহ পাঁচজনকে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। পরে দণ্ডপ্রাপ্তরা আপিল করেন। তখন বাদীপক্ষ লিভ টু আপিল করলে মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
এদিকে বাদীর আত্মীয় এবং জসিম মোল্লার বড় ভাই ইদ্রিস মোল্লার অভিযোগ, ওই মামলায় সাজা হওয়ার ক্ষোভ থেকে আব্দুল জলিল ওরফে দুলাল শেখ তাদের পরিবারকে ফাঁসাতে ধারাবাহিকভাবে হয়রানিমূলক মামলা করে আসছেন।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, অভিযুক্ত আব্দুল জলিল ওরফে দুলাল শেখ একসময় মাদারীপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শাজাহান খানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতেন। বর্তমানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি নিজের অবস্থান পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন বলেও স্থানীয়ভাবে অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি আব্দুল জলিলের একটি পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে ফায়ার সার্ভিস শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করলেও ওই ঘটনায় জসিম মোল্লার পরিবারের সদস্যদের আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল জলিল ওরফে দুলাল শেখ বলেন, “আমিসহ আমার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছিল। আমার অনুপস্থিতিতে রায় হয়েছিল। পরে আপিল করলে আদালত আমাকে খালাস দেন। বর্তমানে লিভ টু আপিলের পর মামলাটি আবার বিচারাধীন রয়েছে। আমি কোনো অপরাধ করিনি। আমিও কারও বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করিনি। ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছি।”
ভুক্তভোগী ইদ্রিস মোল্লা জানান, “একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি কীভাবে এত প্রভাব খাটান, সেটাই প্রশ্ন। আমাদের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা দেওয়া হয়েছে, যেগুলো মিথ্যা হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। সম্প্রতি শর্ট সার্কিটে তার একটি পরিত্যক্ত টিনশেড ঘর পুড়ে যায়। এতে পাশের আমার ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অথচ পূর্বের মামলার ক্ষোভ থেকে আমাদের বিরুদ্ধে ঘর পোড়ানোর অভিযোগ এনে নতুন মামলায় যুক্ত করা হয়েছে। আমরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও সুষ্ঠু বিচার চাই।”
এ বিষয়ে মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু কালাম আজাদ জানান, “পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও মামলার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। কাউকে অন্যায়ভাবে হয়রানি করতে দেওয়া হবে না। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন