প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের কোনো বিকল্প নেই, এমন মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জাহরাত আদিব চৌধুরী। তিনি উল্লেখ করেছেন, বিএনপির নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসনের বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এটি নিশ্চিত করা জরুরি যে, প্রত্যাবাসনের পর তাদের পুনরায় শরণার্থী হয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসতে না হয়।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে সন্ধ্যায় শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) কার্যালয়ে সরকারি কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
জাহরাত আদিব চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে আশ্রয় নেওয়া মানুষ অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছেন। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অর্ধেকেরও বেশি শিক্ষা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। তারা মিয়ানমারের শিক্ষাক্রম অনুযায়ী শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে না। তহবিল সংকটের কারণে ক্যাম্পে বিভিন্ন মানবিক সহায়তা ও সেবামূলক কার্যক্রম সংকুচিত হয়ে পড়েছে, যা রোহিঙ্গাদের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলছে।
তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ সংকটের সমাধান এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। বৃহস্পতিবার সকালে কক্সবাজারে পৌঁছে জাহরাত আদিব চৌধুরীর নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সরাসরি উখিয়ার রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শন করে।
প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা হলেন এস কে আজিজুল বারী, সৈয়দ আল নোমান, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, সানজিদা ইসলাম তুলি ও ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম। এ সময় কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীও প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ছিলেন।
পরিদর্শনকালে প্রতিনিধিদল রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সার্বিক পরিস্থিতি, শরণার্থীদের জীবনযাপন, মানবিক সহায়তা কার্যক্রম এবং প্রত্যাবাসন-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজখবর নেয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিনিধিদলের ক্যাম্প-৬-এর রোহিঙ্গা হেরিটেজ সেন্টার, ক্যাম্প-৯-এর তুর্কি হাসপাতাল এবং ক্যাম্প-৪-এ বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) খাদ্য বিতরণকেন্দ্র পরিদর্শনের কর্মসূচি ছিল। এছাড়া ক্যাম্পে বসবাসরত রোহিঙ্গা যুবক ও নারীদের সঙ্গে মত বিনিময়েরও কর্মসূচি রাখা হয়।
বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে প্রত্যাবাসনকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করছে। তবে, প্রত্যাবাসন টেকসই করতে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকা জরুরি বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন