প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন মন্তব্য করেছেন যে সরকার মানসম্পন্ন বই প্রদান করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তিনি শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, যদি কোন প্রিন্টার্স খারাপ বই সরবরাহ করে অথবা চাহিদার তুলনায় কম বই দেয়, তাহলে সেগুলো গ্রহণ না করার জন্য তাদের নির্দেশ দেন। তিনি উল্লেখ করেন, "এবার আমরা যেদিন স্কুল-কলেজ-মাদরাসার পরীক্ষা শেষে বন্ধ হবে, সেদিন সকল শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিবো।" মাদরাসা প্রধানদের প্রতি তার অনুরোধ, যদি কোন প্রিন্টার্স আমাদের স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী কাগজের গ্রেডিং কম দেয়, বাইন্ডিং খারাপ হয়, তাহলে সেই বই গ্রহণ করবেন না। তিনি আরও বলেন, "যত পরিমাণ বই আপনাকে রিসিভ করার কথা, তার নিচে একটি বইও রিসিভ করবেন না।"
শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর মহখালীস্থ গাউসুল আজমস্থ কমপ্লেক্সে মাদরাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের অরাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের নির্বাহী কমিটির সমাবেশে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন শিক্ষার্থীদের হাতে ভালো মানের বই তুলে দিতে শিক্ষকদের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, বিগত সময়ে দেখা গেছে যে প্রিন্টার্সগুলো সঠিক কাগজে বই সরবরাহ করেনি এবং সময়মত বই দেয়নি। এবার শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, "আপনারা প্রতিটি মাদরাসা ও প্রতিষ্ঠানে এ বিষয়ে দৃষ্টি রাখবেন।" তিনি আরও জানান, "আমরা প্রিন্টার্সদের ৯০% বিল পরিশোধ করেছি, বাকীটা স্কুল-কলেজ-মাদরাসার ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে যেদিন বই উঠবে, সেই বইগুলো আমরা পর্যালোচনা করবো, তারপরে বাকী টাকা দেবো।" তিনি বলেন, "কারণ এবার আমরা প্রিন্টার্সদের যেভাবে দরপত্র দিয়েছি, বাজার দরে তারা পেয়েছে, ফলে কোনো অবস্থাতেই এর মধ্যে কোনো রকম দুর্নীতি করার সুযোগ নেই।"
জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের সাথে জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও নিজের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জমিয়াতুল মোদার্রেছীন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন মাওলানা আব্দুল মান্নান, যিনি নিজে শিক্ষক ছিলেন এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সাথে কাজ করেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, শহীদ জিয়া মাদরাসা শিক্ষার উন্নতির জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। তিনি প্রথম মাদরাসা শিক্ষাতে সাধারণ শিক্ষাকে সম্পৃক্ত করেছিলেন। মাদরাসা শিক্ষককে সমমানের শিক্ষা উন্নত করার জন্য সেই সময়ে ৫০০ নাম্বার এড করেছিলেন। পরে বেগম খালেদা জিয়ার সময় মাওলানা মান্নান সাহেবের সাথে আলোচনা করে মাদরাসা শিক্ষাকে আধুনিকায়ন করার চেষ্টা হয়েছিল।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, "তিনি মাদরাসা শিক্ষাতে আরো কার্যকারী করার জন্য কারিগরী শিক্ষাকেও দাখিল ভোকেশনাল এবং আলিম ভোকেশনাল পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছিলেন।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, "মাদরাসা শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ থেকে শুরু করে সব জায়গায় ভর্তি হতে শুরু করেছিল এবং মাদরাসা বোর্ডকে ফাজিল ও কামিলের জন্য কুষ্টিয়া ইসলামিক ইউনিভার্সিটিতে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল।"
বর্তমান সরকারের সময়ে শিক্ষাবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী জানান, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং ৭৭ হাজার নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, "জমিয়াতুল মোদার্রেছীন বিএনপি সরকারের সাথে সব সময় ছিল, কাজ করছে, তাদের আদর্শ, উদ্দেশ্য দেশ গঠন করা, শিক্ষার্থীদের সঠিকভাবে লেখাপড়া করানো।" তিনি বলেন, "এই বিষয়ে বিএনপি সরকারের সাথে জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের কোনো পার্থক্য আমার পরিলক্ষিত হয়নি।"
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের সভাপতি ও দৈনিক ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন বলেন, বিগত নির্বাচনে দেশের সমস্ত দরবার, অরাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ইসলামের চর্চাকারী মুসলমানরাই ভোট দিয়ে বিএনপি এবং তারেক রহমানকে ক্ষমতায় এনেছে। তিনি বলেন, "এই দেশে যারাই ক্ষমতায় আসবে এবং থাকবে তাদেরকে ৯২ ভাগ মুসলমানের সমর্থন নিয়ে আসতে এবং থাকতে হবে।"
এ এম এম বাহাউদ্দীন সরকারের কাজে বরকতের সঙ্কট আছে মন্তব্য করে বলেন, বিগত নির্বাচনে দেশের সমস্ত দরবার এবং অরাজনৈতিক মুসলমানরা বিএনপি ও তারেক রহমানকে ক্ষমতায় এনেছে। তিনি বলেন, "সবার আগে ওনার সবচাইতে বড় সংকট হচ্ছে সরকারের উপরে বরকতের বড় সংকট আছে।" তিনি আশা প্রকাশ করেন যে বরকত আসবে আলেম-ওলামাদের সহবতে।
সমাবেশ সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির মহাসচিব অধ্যক্ষ সাব্বির আহমদ মোমতাজী।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন