বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০১:২৬ এম
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের স্মরণে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ এবং এর দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিজয়নগরে একটি সংবর্ধনা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। বুধবার (৫ আগস্ট) বিকালে উপজেলা পরিষদের মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।
অনুষ্ঠানে বিজয়ননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইমাম হোসেন সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন। প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল।
এসময় তিনি বক্তব্যে বলেন, ফ্যাসিস্টদের অন্যায় অত্যাচারে বিজয়নগরবাসী খুবই অতিষ্ঠ ছিল। এই কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে বিজয়নগরের আউলিয়া বাজার থেকে প্রথম দিকে ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলন শুরু হয়। এখানে ফ্যাসিস্টরা এতটাই ক্ষমতাধর ছিল যে, তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলার সাহস পেত না। কিন্তু সেই সময়ে ছাত্র জনতা আউলিয়া বাজার ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে সারা জেলায় একটি জাগরণ সৃষ্টি করেছিল, যা পরে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জহিরুল হক খোকন, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি, বিজয়নগর থানার ওসি মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব জাকির হোসেন, উপজেলা বিএনপি নেতা জমির হোসেন দস্তগীর, উপজেলা বিএনপি নেতা শাহ আলম মোল্লা, এনসিপি নেতা হেফাজতে ইসলাম, গণঅধিকার পরিষদ প্রতিনিধি, জুলাই যোদ্ধা শহীদ সাজিদুর রহমান ওমরের মা-বাবা এবং আহত জুলাই যোদ্ধা শাহ আলম, মো. জাকারিয়া, বাবুল মিয়াসহ উপজেলা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন组织ের নেতারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জুলাই স্মৃতি স্তম্ভ’-এর ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করা হয়েছে, যা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে স্থাপন করা হয়। বুধবারের দিনটি, ৫ আগস্ট, সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের পার্শ্ববর্তী মল চত্বরে অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য(শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, উপ-উপাচার্য(প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, শহীদ পরিবারের সদস্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন অনুষদের ডিন।
ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধনের পূর্বে উপাচার্যের সভাকক্ষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সম্মানে এক চা-চক্রের আয়োজন করা হয়। পরবর্তীতে, ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভার সূচনাতে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ, শহীদদের স্মরণে বিশেষ মোনাজাত এবং এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের একটি অবিস্মরণীয় অধ্যায়। তিনি বলেন, জনগণের মতামত উপেক্ষা করে দুঃশাসন ও বৈষম্যের ওপর নির্ভর করে কোনো শাসনব্যবস্থা দীর্ঘকাল স্থায়ী হতে পারে না। বিশ্ববিদ্যালয় জুলাইয়ের ইতিহাস ও আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার জন্য 'জুলাই স্মৃতি স্তম্ভ' নির্মাণ, 'জুলাই কর্নার' স্থাপন, আলোকচিত্র ও গ্রাফিতি সংরক্ষণ এবং জুলাই যোদ্ধা ও আহত শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি মওকুফসহ বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে।
উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে চলা অন্যায়, দুঃশাসন এবং গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের ফলস্বরূপ জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে। তিনি আন্দোলন সংক্রান্ত বিভ্রান্তিকর বয়ানের সমালোচনা করেন ও মানবতাবিরোধী ও ফৌজদারি অপরাধে জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবি জানান। পাশাপাশি নিরপরাধ কাউকে যাতে হয়রানির শিকার হতে না হয়, সে বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতার অংশ। তিনি উল্লেখ করেন, ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার ইতিহাস এই বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে এবং জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।
কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, জুলাই বিপ্লবে শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
আলোচনা সভায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ওয়াসিম আকরাম, ফারহান ফাইয়াজ, মীর মুগ্ধ ও ইয়ামিনের পরিবারের সদস্য এবং শহীদ আবু সাঈদ মিয়ার ভাইকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে আহত কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে, দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে রাতের আকাশ আলোকিত করে মনোমুগ্ধকর আতশবাজি প্রদর্শনী করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের পক্ষ থেকে।
বুধবার (৫ আগস্ট) রাতে এই প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইসমাইল হোসেন।
এছাড়া, লাইফ সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক মিয়া, লাইব্রেরি প্রশাসক অধ্যাপক মুহ. মিজানুর রহমান, সাস্ট রাইটিং সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মুরাদ, সৈয়দ মুজতবা আলী হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. আশরাফ সিদ্দিকী, মেডিকেল প্রশাসক অধ্যাপক ড. মো মাহবুবুল আলম, পেট্রোলিয়াম এন্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মনিরুল ইসলাম, নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মনযুর উল-হায়দার, মহাবিদ্যালয় পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) মো. ইউনুস আলী, পরিবহন দপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এমরান আহমদ চৌধুরী, অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার ফয়ছল আহমেদসহ অন্যান্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা এবং কর্মচারীবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দক্ষিণ আফ্রিকার ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-২০ লিগ এসএ২০-তে দলের সদস্য হয়েছেন বাংলাদেশের রিশাদ হোসেন। ডানহাতি লেগ স্পিনার রিশাদকে লিগটির সবচেয়ে সফল দল সানরাইজার্স ইস্টার্ন ক্যাপ সরাসরি চুক্তির মাধ্যমে দলে নিয়েছে।
এসএ২০-তে রিশাদের এটি প্রথমবার দলের সদস্য হওয়া। ২৪ বছর বয়সি এই ক্রিকেটার গত বছর বিগ ব্যাশে হোবার্ট হারিকেন্সের হয়ে খেলেছিলেন। পূর্বে পাকিস্তান সুপার লিগে লাহোর কালান্দার্সের হয়ে খেলার পর এবার তিনি রাওয়ালপিন্ডিজের হয়ে খেলছেন।
আগামী ৭ অক্টোবর মিনি নিলামের আগে ইস্টার্ন ক্যাপ আরও একজন খেলোয়াড়, অস্ট্রেলিয়ার মিচেল মার্শকে দলে ভিড়িয়েছে। মার্শ ও রিশাদ নতুন দলে যোগ দিয়ে কুইন্টন ডি কক, এনরিচ নর্কিয়া ও অ্যাডাম মিলনের মতো খেলোয়াড়দের সঙ্গ পেতে যাচ্ছেন। প্রতিযোগিতাটির ষষ্ঠ আসর শুরু হবে ১৭ জানুয়ারি।
ইস্টার্ন ক্যাপ নিজেদের মূল খেলোয়াড়দের ধরে রাখার কাজটি করেছে। স্টাবস টানা দ্বিতীয় মৌসুমের জন্য অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করবেন, এবং টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি ইয়ানসেন বোলিং আক্রমণের নেতৃত্ব দেবেন।
সানরাইজার্স ইস্টার্ন ক্যাপের স্কোয়াড হলো: জেমস কোলস, লুইস গ্রেগরি, রিশাদ হোসেন, মিচেল মার্শ, অ্যাডাম মিলনে, ম্যাথিউ ব্রিজ, কুইন্টন ডি কক, জর্ডান হারম্যান, প্যাট্রিক ক্রুগার, সেনুরান মুথুসামি, এনরিচ নর্কিয়া, লুথো সিপামলা, ত্রিস্টান স্টাবস, মিচেল ভ্যান বুরেন, সিজে কিং, জেপি কিং ও মার্কো ইয়ানসেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ত্রিনিদাদে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টেস্টে ব্যাট এবং বল—দুই বিভাগেই পাকিস্তান ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৮ উইকেটে পরাজিত করেছে। প্রথম ইনিংসে আবদুল্লাহ শফিকের অসাধারণ ১৬০ রানের ইনিংসের উপর ভিত্তি করে সফরকারীরা ৪৩ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ লিড অর্জন করে।
এর পর, পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে সাজিদ খান ও আলি উসমান তাদের ঘূর্ণি বোলিংয়ে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজকে মাত্র ১১৭ রানেই গুটিয়ে দেন। ফলে পাকিস্তানের সামনে ৭৫ রানের একটি সহজ লক্ষ্য দাঁড়ায়, যা তারা ২৩.৩ ওভারেই মাত্র দুটি উইকেট হারিয়ে অতিক্রম করে। ফলে সিরিজটি ড্র হলো।
ম্যাচের ভিত্তি তৈরি হয় প্রথম ইনিংসে। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩৪৪ রান সংগ্রহ করে, কিন্তু তারা বড় একটি সংগ্রহের সুযোগ হাতছাড়া করে। জাস্টিন গ্রিভস ৭৩ এবং অধিনায়ক রোস্টন চেজ ৭০ রানের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলে। ব্রেন্ডন কিং ৪৬ রান করেন এবং শাই হোপ ২৯ রান যোগ করেন। কিন্তু কেউই ইনিংসকে শতকের দিকে নিয়ে যেতে পারেননি।
পাকিস্তানের পক্ষে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন অফস্পিনার সাজিদ খান। তিনি ৩২.৪ ওভারে ৮৫ রান খরচ করে ৪ উইকেট নেন। একইভাবে কার্যকর ছিলেন আলি উসমান, যিনি ৩৫ ওভারে ৮০ রান দিয়ে ২ উইকেট শিকার করেন। মোহাম্মদ আলি এবং উবাইদ শাহও ২টি করে উইকেট তুলে নিয়ে ক্যারিবীয়দের বড় সংগ্রহ গড়ার সুযোগ তৈরি করতে দেয়নি।
বিপরীতে, পাকিস্তানের শুরুটা খুব ভালো হয়নি। তারা ৩৪ রানেই ইমাম-উল-হককে হারায়। তবে আজান আওয়াইস এবং আবদুল্লাহ শফিক দ্বিতীয় উইকেটে ৬৪ রানের একটি জুটি গড়ে ইনিংসের ভিত্তি স্থাপন করেন। আজান ৫৫ রান করে আউট হন, তবে শফিকের সঙ্গে বাবর আজম ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন।
তৃতীয় উইকেটে দুজন মিলে ১৮৩ রান যোগ করেন। বাবর ১৪৭ বলে ৮৮ রানের ভালো ইনিংস খেলেন, তবে শতকের অপেক্ষা করেই রানআউট হন। অন্যদিকে, আবদুল্লাহ শফিক ৩২৩ বল মোকাবিলা করে ১৫ চার ও ৩ ছক্কায় অসাধারণ ১৬০ রানের ইনিংস শেষে অপরাজিত থাকেন।
শেষ পর্যন্ত, মোহাম্মদ রিজওয়ান ১৮ এবং সাজিদ খান ৩০ রান করে পাকিস্তানকে ৩৮৭ রানে পৌঁছে দেন। ফলে সফরকারীরা প্রথম ইনিংসে ৪৩ রানের মূল্যবান লিড গ্রহণ করে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে জোমেল ওয়ারিকান দারুণ বোলিং করেন, যিনি ৪৬ ওভারে ১১২ রান দিয়ে ৬ উইকেট তুলে নেন। শামার জোসেফ ২টি এবং জেইডেন সিলস ১ উইকেট পান।
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ শুরু থেকেই পাকিস্তানের স্পিন আক্রমণের বিরুদ্ধে অসহায় আত্মসমর্পণ করে। উদ্বোধনী জুটিতে ৪০ রান ওঠার পর তারা একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে। কেভেম হজ সর্বোচ্চ ৩৪ রান করেন। রোস্টন চেইজ ১৭, শাই হোপ ১৫ এবং ত্যাগনারায়ণ চন্দরপল ১৭ রান করেন; কিন্তু আর কেউ উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারলেন না। ইনজুরির কারণে ব্র্যান্ডন কিং, যিনি প্রথম ইনিংসে ৪৬ রান করেছিলেন, দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে পারেননি।
ফলস্বরূপ, ৪৬.১ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ মাত্র ১১৭ রানেই অলআউট হয়ে যায়। পাকিস্তানের পক্ষে আবারও দারুণ পারফরমেন্স করেন সাজিদ খান এবং আলি উসমান, যিনি ১৯.১ ওভারে ৩৯ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন এবং সাজিদ খান ১২ ওভারে ৩২ রান খরচায় সমান সংখ্যক উইকেট নেন। মোহাম্মদ আলি নেন বাকি একটি উইকেট।
৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান শুরুতেই দুই ওপেনারকে হারান। ইমাম-উল-হক ৯ এবং আজান আওয়াইস ১৮ রান করে ফেরেন। তবে আবদুল্লাহ শফিক এবং বাবর আজম কোন নাটকীয়তার সুযোগ না দিয়ে তৃতীয় উইকেটে ৩৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে দলের জয় নিশ্চিত করেন।
শফিক ৫১ বল মোকাবিলা করে অপরাজিত ২৪ রান করেন এবং বাবরও ৩০ বলেই ২৪ রানে অপরাজিত থাকেন, যার ইনিংসে ছিল দুটি চার ও দুটি ছক্কা। ২৩.৩ ওভারে ২ উইকেটে ৭৭ রান তুলে পাকিস্তান ৮ উইকেটের জয়ের নিশ্চিত করে। ফলস্বরূপ, দুই ম্যাচের সিরিজটি ১-১ সমতায় শেষ হলো।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ