প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সার্বিয়ার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজয় মেনে নিয়েছেন দীর্ঘদিনের ক্ষমতাসীন নেতা আলেকসান্দার ভুচিচ। প্রাথমিক ভোটের ফলাফল অনুযায়ী, বিরোধী জোট ‘স্টুডেন্ট লিস্ট’ সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে যাচ্ছে। এ তথ্যটি ইউরোনিউজের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই নিউজ জানিয়েছে, নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশের পর জাতির উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে ভুচিচ বলেন, নমুনা ভোট গণনার ফলাফলের ভিত্তিতে তার দল নির্বাচনে পরাজিত হয়েছে। তিনি বিরোধীদের বড় জয়ের বিষয়টিও স্বীকার করেছেন।
ভুচিচের হিসাব অনুযায়ী, স্টুডেন্ট লিস্ট সংসদে ১৩৫ থেকে ১৪০টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, তার দল সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টি (এসএনএস) প্রায় ১০৫টি আসন পেতে পারে। ফলে বিরোধী জোটের সরকার গঠনের প্রক্রিয়া সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ভুচিচ বলেন, সংসদে মূলত দুটি বড় রাজনৈতিক জোটের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। এছাড়াও কয়েকটি সংখ্যালঘু দলও আসন পাবে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ভয়ভোদিনা হাঙ্গেরিয়ানদের জোট তিনটি এবং আলবেনীয়রা একটি আসন পেয়েছে। এসডিএও একটি আসন পেয়ে থাকতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ইউরোনিউজের তথ্য অনুযায়ী, ভোট গণনার ফলাফলে স্টুডেন্ট লিস্ট প্রায় ২২ লাখ ভোট পেয়েছে, যা মোট ভোটের প্রায় ৫২ শতাংশ। অপরদিকে, ক্ষমতাসীন এসএনএস পেয়েছে প্রায় ১৭ লাখ ২০ হাজার ভোট, মোট ভোটের ৩২ দশমিক ৩ শতাংশ।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। নির্বাচনের পূর্বে এবং ভোটের সময় দেশটিতে রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। ভুচিচ ও তার ডানপন্থী দলের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন বিভিন্ন গোষ্ঠী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে।
শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন এই গোষ্ঠীগুলি সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল করার অভিযোগ তুলেছে। সম্প্রতি তাদের পক্ষে ব্যাপক জনসমর্থন তৈরি হয়েছে। নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন। তিনি স্টুডেন্ট লিস্টকে জয়ের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সার্বিয়ার সংস্কার এবং দেশটির ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দেওয়ার পথে অগ্রগতি আনতে একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে উরসুলা লেখেন, সার্বিয়ার মানুষ ব্যাপক সংখ্যায় ভোট দিয়ে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে অংশগ্রহণ করেছেন। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা, দুর্নীতি দমন এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার সংস্কারে সহায়তা করতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রস্তুত বলেও তিনি জানান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন