প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নারায়ণগঞ্জের বন্দরের একটি ভাড়া বাসায় গ্যাসের লাইন লিকেজের কারণে আগুন লেগে এক দম্পতির মৃত্যু হয়েছে। গত বুধবার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রথমে খোকন সরকার মারা যান। তার মৃত্যুর পর মাত্র ছয় ঘন্টা পর তার স্ত্রী ফজিলত বেগমের মৃত্যু ঘটে।
এভাবে মিনিটের মধ্যে স্বামী ও স্ত্রীর মৃত্যুতে কুমিল্লার দেবিদ্বারের উজানীকান্দি ও উজানীজোড়া গ্রামে শোকের আবহ নেমে এসেছে। নিহত খোকন সরকার (৫৪) কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার গুনাইঘর দক্ষিণ ইউনিয়নের উজানীকান্দি গ্রামের মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে এবং ফজিলত বেগম (৪০) একই ইউনিয়নের উজানীজোড়া গ্রামের নানু মিয়া খন্দকারের মেয়ে। তারা দুজনই নারায়ণগঞ্জের মদনপুর এলাকার জাহীন গার্মেন্টসে কাজ করে সংসার চালাতেন। তাদের ইউসুফ সরকার ও খাদিজা আক্তার নামে দুই সন্তান রয়েছে। ঘটনার মুহূর্তে তারা গ্রামের বাড়িতে ছিল।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার রাতে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার মুরাদপুর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় গ্যাস লিকেজ থেকে হঠাৎ আগুন ধরে যায়। এই ঘটনায় খোকন ও ফজিলত দম্পতি গুরুতর দগ্ধ হন।
তাদের তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চারদিন আইসিইউতে চিকিৎসার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে খোকন সরকারের মৃত্যু হয়। পরদিন বুধবার সকালে তার মরদেহ দেবিদ্বারের উজানীকান্দি গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। সেখানে সকাল ১০টায় জানাজার পর পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন সম্পন্ন করা হয়।
স্বামীর দাফন শেষ হওয়ার মাত্র ছয় ঘণ্টা পর বুধবার বিকেল ৪টার দিকে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্ত্রী ফজিলত বেগমও মারা যান। পরে বুধবার রাতে নিহত ফজিলতের মরদেহ উজানীজোড়া গ্রামে নিয়ে আসা হয়।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় ফজিলতের জানাজার শেষে স্বামীর কবরের পাশে তাকে দাফন করার কথা রয়েছে। স্বামীর দাফনের খবর পর পরই স্ত্রীর মৃত্যুর সংবাদে কুমিল্লার দেবিদ্বারে শোকের মাতম শুরু হয়েছে। গ্রামে মানুষের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।
নিহতদের মেয়ে খাদিজা আক্তার কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় বাসা ভাড়ায় থাকতাম। ঘটনার সময় আমার ভাই এবং আমি গ্রামের বাড়িতে চলে আসি। শুক্রবার রাতে কেউ ফোন করে আমাকে জানায়, আব্বা ও আম্মা দুজনই আগুনে দগ্ধ হয়েছেন। পরে আমরা ঢাকার মেডিকেল কলেজে গিয়ে জানতে পারি তারা দুজনই বার্ন ইউনিটে আইসিউতে ভর্তি আছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আমার আব্বা এবং পরের দিন বুধবার বিকেল ৪টার দিকে আমার আম্মাও মারা যান।
এ বিষয়ে দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, অগ্নিকাণ্ডে দেবিদ্বারের দুই পোশাকশ্রমিকের মৃত্যুর খবরটি অত্যন্ত মর্মান্তিক এবং হৃদয়বিদারক। আমরা শোকাহত পরিবারের সঙ্গে দেখা করব এবং এই কঠিন সময়ে অসহায় পরিবারটির পাশে উপজেলা প্রশাসন আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন