প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ : আসন্ন জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন ‘কপ৩১’-এ বাংলাদেশের অবস্থানকে যৌথ ও দৃঢ়ভাবে উপস্থাপন করার জন্য পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম সুশীল সমাজ ও জলবায়ু বিষয়ক এনজিওগুলোকে সরকারের সঙ্গে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
আজ ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে ‘কপ৩১’-এ বাংলাদেশের সুশীল সমাজের অবস্থানপত্র প্রকাশের উদ্দেশ্যে আয়োজিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।
অ্যাকশনএইডসহ বিভিন্ন সুশীল সমাজের সংস্থা ও এনজিও এই সভার আয়োজন করেছে। শামা সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান, যারা নিজেদের অভিজ্ঞতা, গবেষণা ও সুপারিশ যুক্ত করে এই অবস্থানপত্র তৈরি করেছেন। তিনি আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনায় বাংলাদেশের ন্যায্য দাবি আদায়ে সমন্বিত প্রচেষ্টার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ বৈশ্বিক কার্বন নির্গমনে আধা শতাংশেরও কম অবদান রাখে; তথাপি দেশটি প্রতিদিন জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক পরিণতির সম্মুখীন হচ্ছে, বিশেষ করে নারী ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
শামা বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে ভূমি তলিয়ে যাচ্ছে এবং মানুষ তাদের বসতভিটা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট অভিবাসনের সমস্যাটি মোকাবিলা করা অত্যন্ত জরুরি।
তিনি সুশীল সমাজের সংগঠনগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, যাতে আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের দরকষাকষির অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও গবেষণার মাধ্যমে সংগৃহীত নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরা হয়।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে তিনি একটি জলবায়ু অর্থায়ন রোডম্যাপ তৈরি, ক্ষতিগ্রস্ত দেশ ও জনগণের জন্য সহজে তহবিল প্রাপ্তি নিশ্চিতকরণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর সহজীকরণ এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির তাগিদ দেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, সীমিত সম্পদ থাকা সত্ত্বেও সরকার জলবায়ু অভিযোজন সংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে শিল্পখাতে সম্পদের পুনর্ব্যবহার, চক্রাকার অর্থনীতি (সার্কুলার ইকোনমি), উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বন সৃষ্টি ও পুনরুদ্ধার এবং নদী-খাল খনন ও পুনঃখনন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ২০৩০ সালের মধ্যে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, একটি কার্বন মার্কেট গড়ে তোলা এবং ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে ২০ শতাংশ ও ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।
শামা ওবায়েদ জানান, বাংলাদেশে উৎপাদিত 'সোনার আঁশ'কে পচনশীল ও শূন্য-বর্জ্য প্রাকৃতিক তন্তু হিসেবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে এবং এর বহুমুখী ব্যবহার প্রচারের লক্ষ্যে কপ৩১ সম্মেলনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিশেষ ‘পাট প্যাভিলিয়ন’ স্থাপন করবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই উদ্যোগ শৈল্পিক পাটপণ্যের প্রসারে এবং এদের বাণিজ্যিক পরিধি বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখবে।
সভায় সুশীল সমাজের সদস্য, বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন খাতের অংশীদারগণ উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন