প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুমিল্লা, ৬ আগস্ট, ২০২৬ : নগরীর একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে সাইবার প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় ৬ লাখ টাকা লোপাটের তদন্তে নেমে একটি চক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কুমিল্লা।
তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে মামলার চক্রের অন্যতম আসামি ফারুক হোসেনকে (৫৫) যশোর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতারের পর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে পুরো চক্রের নাম প্রকাশ করেছে ফারুক। কিন্তু, গত দুই মাসে উদ্ধার করা যায়নি ওই টাকা। পিবিআই চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে সাংবাদিকদের এসব তথ্য দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই কুমিল্লার পরিদর্শক বিপূল চন্দ্র দেবনাথ।
পিবিআই ও মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১০ মার্চ কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যাayetনের প্রধান শিক্ষক মো. হানিফ মজুমদারের মোবাইলে মেসেজ পাঠিয়ে প্রতারক চক্রটি সিটি ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট চেক করার জন্য প্রলুব্ধ করে।
সিটি টাচ অ্যাপে অ্যাকাউন্ট চেক করার পরপরই ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোনটি হ্যাক হয়ে যায় এবং মোবাইল কাজ করা বন্ধ করে দেয়। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ভুক্তভোগী জানতে পারেন, প্রতারক চক্রটি হ্যাক করা মোবাইলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সিটি ব্যাংক কুমিল্লা শাখা থেকে দুটি পৃথক অ্যাকাউন্টে (ফারুক রাইস এজেন্সির ব্র্যাক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও মেহেরপুর শাখার জে. জে. এন্টারপ্রাইজের পুবালী ব্যাংক অ্যাকাউন্ট) মোট ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা স্থানান্তর (ট্রান্সফার) করে নিয়েছে।
এছাড়াও জনতা ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকেও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের (বিকাশ/নগদ) মাধ্যমে দুই দফায় মোট ৪৬ হাজার ৭৮৯ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। সর্বমোট ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৭৮৯ টাকা প্রতারণামূলকভাবে হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি।
পিবিআই আরও জানায়, এ ঘটনায় গত ১৬ মার্চ কোতোয়ালি মডেল থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক। এর পর পিবিআই কুমিল্লা মামলাটির তদন্ত শুরু করে তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে প্রতারক চক্রটিকে শনাক্ত করে। গত ১৭ জুন পিবিআই কুমিল্লা ও যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশের যৌথ সহায়তায় জেলার লেবুতলা এলাকা থেকে মামলার চক্রের অন্যতম আসামি ফারুক হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি যশোর সদর থানার লেবুতলা এলাকার মৃত মোসলের মোল্লার ছেলে।
পিবিআই তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, গ্রেফতারের পর প্রতারক ফারুক হোসেন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে এবং চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের তথ্য প্রদান করে।
এতে প্রতারণার পুরো প্রক্রিয়ার বিষয়ে তথ্য প্রদান করে। এই চক্রটি প্রযুক্তিতে অনেক দক্ষ।
নিজস্ব প্রযুক্তি ব্যবহার করে কম সময়ে একাধিক ব্যাংক হ্যাক করে হিসাব থেকে টাকা স্থানান্তর করে নেওয়া এবং উত্তোলন করতেও দক্ষ হয়। এর ফলে ভুক্তভোগী স্কুল শিক্ষকের টাকা এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
পিবিআই কুমিল্লার পুলিশ সুপার মতিয়ার রহমান জানান, মোবাইলে ক্ষুদে বার্তা এবং ওটিপি পাঠিয়ে মোবাইল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে লোকজনের ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার নেপথ্যে একটি বড় চক্র রয়েছে।
কুমিল্লার স্কুল শিক্ষকের মামলার তদন্ত করতে গিয়ে যশোর থেকে প্রধান আসামি ফারুক হোসেনকে গ্রেফতারের পর আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। আসামির জবানবন্দীতে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী এ চক্রের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে পিবিআইয়ের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন