প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরীগুলোর দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েন নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাসের পর মাস সমুদ্রেই অবস্থান গ্রহণ করতে হচ্ছে নৌসেনাদের। এতে জাহাজের যান্ত্রিক এবং রক্ষণাবেক্ষণজনিত সমস্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি নাবিকদের মধ্যে মানসিক চাপ, ক্লান্তি এবং কর্মী ধরে রাখার সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
বর্তমানে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এমন এক দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েনে রয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর কোনো মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর নিজ ঘাঁটি থেকে দূরে থাকার সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের রেকর্ড গড়তে পারে।
সিএনএনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী ক্রমেই তার বিমানবাহী রণতরী বহরকে সুপারিশকৃত সাত মাস বা ২১০ দিনের মোতায়েনসীমার চেয়েও বেশি সময় সমুদ্রে রাখতে বাধ্য হচ্ছে। এর ফলে জাহাজ এবং নাবিক উভয়ের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে এমন সতর্কতা জানিয়েছেন সামরিক বিশেষজ্ঞ এবং সাবেক কর্মকর্তারা।
আব্রাহাম লিংকনকে ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে নিয়মিত বিরতি ছাড়াই মোতায়েন রাখা হয়েছে। ২০২৫ সালের ২১ নভেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগো থেকে যাত্রা করা জাহাজটি এখনও দেশে ফেরেনি। এর আগে, ডিসেম্বরের ১১ তারিখে গুয়ামে সংক্ষিপ্ত বন্দরযাত্রার সময় লিংকনের বেশির ভাগ নাবিক সর্বশেষ স্থলভাগে পা রাখার সুযোগ পেয়েছিলেন।
যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জাহাজটি মিত্রদেশগুলোর বন্দরে নিয়মিত থামতে পারছে না। ফলে নাবিকদের বিশ্রাম, বিনোদন, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম এবং খাদ্য সংগ্রহের সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে।
লিংকনে কর্মরত একজন নাবিক মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে জানিয়েছেন, "জাহাজটির মনোবল অত্যন্ত নিচে নেমে গেছে।" তিনি দাবি করেছেন, সহকর্মীদের মধ্যে আত্মহত্যার চিন্তার কথা বারবার শুনেছেন।
ওই নাবিকের ভাষ্যমতো, "জাহাজের টয়লেট এবং পানির ফোয়ারার মতো জরুরি সুবিধাগুলো প্রায়ই বন্ধ থাকতে দেখা যাচ্ছে।" অনেক সময় গরম পানিও পাওয়া যাচ্ছে না।
“প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে আমরা ক্যাপ্টেনের বক্তব্য শুনি। কখন দেশে ফিরব, সে বিষয়ে কোনও আপডেটের আশায় আমরা মরিয়া হয়ে থাকি এবং উৎকণ্ঠায় অপেক্ষা করি,” বলেন ওই নাবিক।
তবে মার্কিন নৌবাহিনী জানায়, জাহাজটিতে আত্মহত্যার চিন্তা বা প্রচেষ্টার ঘটনা বেড়েছে- এমন কোনও প্রবণতা তারা লক্ষ্য করেনি। নৌবাহিনীর দাবি, প্রতিটি সদস্যের কল্যাণকে তারা অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ধর্মীয়, চিকিৎসা ও মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সেবা দিতে প্রস্তুত রয়েছেন।
এক মার্কিন কর্মকর্তা আরও জানান, মোতায়েনের সময়কাল ও আত্মহানির চিন্তার মধ্যে কোনও সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে বলে নৌবাহিনী মনে করে না। ‘ম্যান ওভারবোর্ড’ বা জাহাজ থেকে কেউ পানিতে পড়ে যাওয়ার ঘটনার উদাহরণও কেবল এই বহরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
লিংকনে থাকা নাবিক এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘ মোতায়েনের কারণে জাহাজে খাবার এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সামগ্রীর সরবরাহেও সমস্যা দেখা দিয়েছে। কখনও খাবারের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে, আবার ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার সামগ্রীর সরবরাহও কমে গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নাবিক বলেন, "আগে জাহাজের দোকানে গিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী পরিচ্ছন্নতার সামগ্রী পাওয়া যেত।" এখন কেনাকাটায় সীমাবদ্ধতা রয়েছে এবং অনেক প্রয়োজনীয় সামগ্রী সহজে পাওয়া যাচ্ছে না।
নাবিকদের পরিবারের সদস্যরাও একই ধরনের সমস্যার কথা বলেছেন। একজন মা বলেন, "পারিবারিক পাঠানো ‘কেয়ার প্যাকেজ’ কখনও কখনও কয়েক মাস পরে পৌঁছাচ্ছে, আবার কিছু প্যাকেজ পুরোপুরি হারিয়ে যাচ্ছে।"
আরেক পরিবারের সদস্য সিএনএনকে জাহাজের উপচে পড়া টয়লেটের ছবি দিয়েছেন। তার দাবি, পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার সমস্যায় কিছু টয়লেট এলাকা নোংরা পানিতে ভরে যাচ্ছে।
দীর্ঘ সময় নৌসেনাদের ঘরে ফিরতে না পারার প্রভাব পড়ছে তাদের পরিবারের ওপরও। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর আ নিউ আমেরিকান সিকিউরিটির প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ কেট কুজমিনস্কি বলেন, নৌবাহিনীকে বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মোতায়েনের মডেল নতুন করে সাজাতে হবে। একই সঙ্গে নাবিক এবং তাদের পরিবারের কাছে কী ধরনের প্রত্যাশা রাখতে হবে, সেটিও স্পষ্ট করতে হবে।
তিনি প্রশ্ন করেন, "যদি কোনও পরিবার নতুন করে জেরাল্ড আর. ফোর্ডে কর্মরত কারও সঙ্গে যুক্ত হয়, তাহলে দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েনের প্রভাব সে পরিবারের সিদ্ধান্তে কীভাবে প্রভাব ফেলবে?"
তার মতে, এ ধরনের পরিস্থিতি নাবিক বা তাদের পরিবারকে শেষ পর্যন্ত নৌবাহিনী ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে প্রভাবিত করতে পারে।
লিংকনে কর্মরত একজন নাবিকের স্ত্রী সিএনএনকে বলেছেন, "তার স্বামী এটিকে জীবনের সবচেয়ে কঠিন মোতায়েন হিসেবে বর্ণনা করেছেন।" সাধারণত কর্মক্ষেত্রের চাপ তিনি বাড়িতে নিয়ে আসেন না। কিন্তু এবার তার আচরণে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
ওই নারী জানিয়েছেন, স্বামীকে আগের তুলনায় বেশি রাগান্বিত এবং হতাশ মনে হচ্ছে। স্বামীর কথা শুনে তিনি অসহায় বোধ করছেন, কারণ দূরে থাকা স্বামীকে তিনি কোনওভাবেই সাহায্য করতে পারছেন না।
লিংকন স্ট্রাইক গ্রুপের দুই নাবিক সাম্প্রতিক মাসগুলোতে জাহাজ থেকে পানিতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন বলে আগে জানিয়েছিল সিএনএন। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, দু’জনকেই জীবিত উদ্ধার করা হয়। নেভি টাইমস ও স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপসের প্রতিবেদনে আরও কয়েকজনকে পানিতে ঝাঁপ দেওয়া থেকে ঠেকানোর কথাও বলা হয়েছে।
এ ঘটনায় নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। কানেকটিকাটের ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথালও পেন্টাগনের কাছে জাহাজের নাবিকদের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি দিয়েছেন।
তবে নৌবাহিনী বলছে, আত্মহানির প্রবণতা বেড়েছে- এমন কোনও প্রমাণ তাদের কাছে নেই। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করা হলে লিংকনের দীর্ঘ মোতায়েন নিয়ে তিনি বলেন, "জাহাজটির মোতায়েন ‘প্রায় যথেষ্ট দীর্ঘ হয়নি’।"
ট্রাম্পের এই মন্তব্যে লিংকনে কর্মরত একজন নাবিকের স্ত্রীর ক্ষোভ প্রকাশ হয়েছে। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্টের আরও সহানুভূতিশীল হওয়া উচিত। তার মতে, সামরিক বাহিনী, যুদ্ধ এবং যুদ্ধরত জাহাজগুলোর বর্তমান পরিস্থিতির জন্য নেতৃত্বকে দায়বদ্ধতা গ্রহণ করতে হবে।
মার্কিন নৌবাহিনীর পরিকল্পনা অনুযায়ী, নাবিকদের জন্য অবশ্যই তিন বছরের একটি পূর্বানুমানযোগ্য কর্মচক্র থাকার কথা। এর মধ্যে সাত মাস বা ২১০ দিনের একটি মোতায়েন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত অধিকাংশ বিমানবাহী রণতরীর মোতায়েন এই সীমার মধ্যে ছিল অথবা কয়েক দিন এদিক-সেদিক হয়েছিল।
কিন্তু ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। একের পর এক রণতরীর মোতায়েনের সময় বাড়ানো হতে থাকে। জেরাল্ড আর. ফোর্ড ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ২৬০ দিন পর দেশে ফেরে। ইউএসএস ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার ২০২৪ সালের জুলাইয়ে দেশে ফেরার আগে ২৭৪ দিন মোতায়েনে ছিল। ২০২৪ সালে শুরু হওয়া তিনটি বিমানবাহী রণতরীর মোতায়েনই ২৫০ দিনের বেশি স্থায়ী হয়।
২০২৫ সালে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। দুটি দীর্ঘ মোতায়েন ২৭০ দিন ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে ফোর্ড ৩২৬ দিন মোতায়েনে থেকে ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর দীর্ঘতম মোতায়েনের রেকর্ড গড়েছিল।
এখন লিংকনও দীর্ঘ সময় ধরে মধ্যপ্রাচ্যে দায়িত্ব পালন করছে। জাপানভিত্তিক ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন পারস্য উপসাগরে লিংকনের অবরোধ-দায়িত্ব থেকে তা সরানোর পথে রয়েছে। তবে দেশে ফেরার আগে লিংকন ফোর্ডের ৩২৬ দিনের রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে।
দীর্ঘ মোতায়েনে জাহাজেও বাড়ছে ক্ষয়। দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকার ফলে শুধু নাবিকদের নয়, জাহাজের উপরও ব্যাপক চাপ পড়ছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। দীর্ঘমেয়াদি অভিযানে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। সমুদ্রে তাৎক্ষণিক মেরামত করা হলেও অনেক সময় তা স্থায়ী সমাধান নয়।
বিমান অবতরণের সময় ব্যবহৃত অ্যারেস্টিং কেবল ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যেতে পারে। সমুদ্রের লবণাক্ত পানি জাহাজের বিভিন্ন সিস্টেমে ঢুকে ক্ষয় বাড়াতে পারে। ছোটখাটো এসব সমস্যা একসময় একত্র হয়ে বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি বা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
অবসরপ্রাপ্ত রিয়ার অ্যাডমিরাল ব্রুস গিলিংহাম বলেন, কোভিড-১৯ মহামারির সময় দীর্ঘ মোতায়েনের ক্ষেত্রেও নাবিক ও মেরিনদের মানসিক স্থিতিস্থাপকতা ছিল অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তার মতে, ইতিহাসে এমন পরিস্থিতি নজিরবিহীন নয়। বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রয়োজনে নৌবাহিনীকে দীর্ঘ সময় মোতায়নে থাকতে হয় এবং নাবিকেরা সেসব দায়িত্ব পালন করেন। তবে এর অর্থ এই নয় যে, দীর্ঘ মোতায়েন মানুষ ও জাহাজের ওপর চাপ সৃষ্টি করে না।
দীর্ঘ মোতায়েনের আরেকটি বড় প্রভাব পড়ছে নৌবাহিনীতে দক্ষ কর্মী ধরে রাখার ক্ষেত্রে। নৌবাহিনীর অভ্যন্তরীণ আলোচনার সঙ্গে পরিচিত সূত্রগুলোর মতে, নৌবিমানচালক এবং রক্ষণাবেক্ষণ কর্মীদের ধরে রাখা নিয়ে এ বছর বিশেষ উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ নৌবাহিনীর স্ট্রাইক ফাইটার স্কোয়াড্রনের কর্মীদের ধরে রাখার সমস্যা পর্যালোচনার নির্দেশ দেন। দক্ষ কর্মীদের ধরে রাখতে ফ্লাইট কর্মকর্তা এবং নৌবিমানচালকদের বছরে কয়েক হাজার ডলারের বিশেষ বোনাস দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে বড় একটি কারণ হলো মার্কিন নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরীর সংখ্যা সীমিত। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে মোট ১১টি বিমানবাহী রণতরী রয়েছে। এর কিছু পুরোনো এবং ধীরে ধীরে নতুন ফোর্ড শ্রেণির রণতরী দিয়ে প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়া সব রণতরী একই সময়ে মোতায়েন করা সম্ভব নয়। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং পারমাণবিক চুল্লির জ্বালানি-সংক্রান্ত কাজের জন্যও জাহাজগুলোকে সময় দিতে হয়।
ফলে কোনো একটি রণতরী নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় মোতায়েনে থাকলে অন্য জাহাজগুলোর ওপরও অতিরিক্ত চাপ পড়ে। ইউএসএস জন এফ. কেনেডি চলতি সপ্তাহে চূড়ান্ত সমুদ্র পরীক্ষা শুরু করেছে। এটি ২০২৭ সালের মার্চে নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের কথা রয়েছে- প্রাথমিক সময়সূচির তুলনায় প্রায় দুই বছর দেরিতে।
আর ফোর্ড শ্রেণির পরবর্তী রণতরী ইউএসএস ডরিস মিলার-এর নকশায় সম্প্রতি পরিবর্তনের ঘোষণা এসেছে। এতে নির্মাণ আরও পিছিয়ে যেতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভবিষ্যৎ ফোর্ড শ্রেণির রণতরীগুলোতে বিমান উড্ডয়নের জন্য ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক চুম্বকীয় ব্যবস্থা বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বর্তমান ফোর্ড শ্রেণির জাহাজগুলোতে এই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হলেও ডরিস মিলারসহ পরবর্তী জাহাজগুলোতে নীমিটজ শ্রেণির পুরোনো রণতরীর মতো বাষ্পচালিত ক্যাটাপল্ট ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
হাডসন ইনস্টিটিউটের জাহাজ নির্মাণ বিশেষজ্ঞ ব্রায়ান ক্লার্কের মতে, এ সিদ্ধান্তের কারণে ডরিস মিলারের নকশা নতুন করে করতে হবে। এতে ব্যয় কয়েক বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে এবং জাহাজটির নির্মাণও কয়েক বছর পিছিয়ে যেতে পারে। ফলে ২০৩৪ সালের দিকে বহরে যুক্ত হওয়ার কথা থাকলেও এটি পরবর্তী দশকের শেষ নাগাদও পিছিয়ে যেতে পারে।
এ ধরনের বিলম্ব হলে পরিকল্পনা অনুযায়ী নতুন রণতরী হাতে না পাওয়ায় পুরোনো রণতরীগুলোকে আরও দীর্ঘ সময় সেবায় রাখতে হতে পারে। এমনকি নিমিটজ শ্রেণির কিছু রণতরীকে তাদের নির্ধারিত প্রায় ৫০ বছরের সেবা-জীবনের পরও ব্যবহার করার প্রয়োজন হতে পারে।
নৌবাহিনীর শীর্ষ তালিকাভুক্ত কর্মকর্তা মাস্টার চিফ পেটি অফিসার জন পেরিম্যান সম্প্রতি বর্তমান মোতায়েন ব্যবস্থাকে ‘খুবই কঠোরভাবে নির্ধারিত একটি কনভেয়ার বেল্ট’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা মূলত শান্তিকালীন পরিস্থিতিকে মাথায় রেখে তৈরি। তার মতে, বর্তমান বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীকে সম্পূর্ণ নতুন ‘ফোর্স জেনারেশন মডেল’ তৈরির প্রয়োজন।
কারণ দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক সংকট যদি নৌবাহিনীর স্বাভাবিক সাত মাসের মোতায়েনকে নিয়মিতভাবে ছাড়িয়ে যায়, তাহলে শুধু জাহাজের ওপরেই নয়, হাজার হাজার নাবিক, তাদের পরিবার এবং পুরো নৌবাহিনীর ভবিষ্যৎ জনবল কাঠামোর ওপরও এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বেই।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন