প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি৭ শীর্ষবৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, “আমিই বস।”
এ সময় সেখানে জি৭-এর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্ব অর্থনীতির নিরাপত্তা বিষয়ক একটি অধিবেশনের জন্য ফ্রান্সে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়। এই অধিবেশনে সাংবাদিক ও রাষ্ট্রনেতাদের সামনে ট্রাম্প তাঁর এই মন্তব্য করেন। তবে, তিনি কিসের প্রেক্ষিতে এটি বললেন, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি।
এদিকে, উপস্থিত রাষ্ট্রনেতাদের মধ্যে কেউ তাঁর মন্তব্যের প্রতি কোন প্রতিবাদও করেননি। বরং, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি এবং ইরানের সঙ্গে আমেরিকার সংঘাত নিয়ে ইউরোপের নেতাদের মধ্যে সমালোচনার সুর কিছুটা নরম হয়েছে।
ট্রাম্পের এই ‘বস’ ঘোষণার সময় অধিবেশন কক্ষে উপস্থিত ছিলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি।
১৫ জুন থেকে শুরু হওয়া জি৭ সম্মেলন ১৭ জুন, বুধবার পর্যন্ত চলবে। ইতিমধ্যে ট্রাম্পের সাথে রাষ্ট্রনেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং জি৭ সদস্যরাষ্ট্রগুলো একটি যৌথ বিবৃতিও প্রকাশ করেছে।
বুধবারের অধিবেশন ছিল দুষ্প্রাপ্য খনিজ এবং অর্থনীতির ভারসাম্যহীনতা নিয়ে।
রাশিয়া এবং ইউক্রেনের যুদ্ধ নিয়ে পিছনের আলোচনা হয়েছে। তার পরেই ট্রাম্প নিজেকে ‘বস’ বলে ঘোষণা করেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ বাহিনী ইরান আক্রমণ করে, যার ফলে সে দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। এরপর থেকেই পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইরান ওই অঞ্চলের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালাচ্ছে ও হরমুজ প্রণালীতে পণ্য পরিবহণে বাধা প্রদান করছে। ইউরোপের একাধিক দেশ এই আগ্রাসী নীতির তীব্র সমালোচনা করেছে।
হরমুজ খোলার জন্য ট্রাম্প ইউরোপের দেশগুলোর সাহায্য চেয়েছিলেন। কিন্তু ইউরোপের বেশিরভাগ শক্তিশালী দেশ সে প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি। এ নিয়ে ট্রাম্প প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। জি৭ বৈঠকে ট্রাম্পের সঙ্গে ইউরোপের নেতাদের সম্পর্কের কিছুটা পরিবর্তন দেখা যায়।
জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মের্ৎজ মঙ্গলবার ট্রাম্পকে একটি ফুটবল জার্সি উপহার দেন, যার নম্বর ছিল ৪৭।
এটি পরিষ্কার যে, ইউরোপের এই সুর বদলের পেছনে ট্রাম্পের ইরান চুক্তি অন্যতম কারণ। সম্প্রতি ইরানের সাথে আমেরিকার সমঝোতা চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে এবং শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি স্থাপন এবং স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য এই চুক্তিটি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধে আমেরিকার নীতি নিয়ে ইউরোপে ক্ষোভের সুর ছিল। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সাথে ট্রাম্পের বৈঠক না হলেও, তিনি জি৭ শীর্ষবৈঠকে ছিলেন। সেখানে রাশিয়া বিষয়ক আলোচনা ছিল অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপীয় নেতারা স্বীকার করেন যে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ এবং নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেন, “আমেরিকা এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবস্থান বদলেছে। রাশিয়ার প্রতি তাদের অবস্থান কঠোর হয়েছে। আমার মতে, এটি যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তব পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।”
সূত্র: রয়টার্স
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন