প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে চীনের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ওষুধ ও স্বাস্থ্য প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল স্বাস্থ্য, টিকা এবং স্বাস্থ্য নিরাপত্তার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা বৃদ্ধি করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) চীনের হাইকোতে অনুষ্ঠিত ‘বিএফএ গ্লোবাল হেলথ ফোরাম ২০২৬ হাইকো কনফারেন্স’-এ বক্তৃতা দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
সম্মেলনে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য চারটি অগ্রাধিকার তুলে ধরেন তিনি। এই অগ্রাধিকারগুলো হলো—ওষুধ ও স্বাস্থ্য প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল স্বাস্থ্য, সুস্থ বার্ধক্য এবং টিকা ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তা।
বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের সক্ষমতা তুলে ধরে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দেশের ওষুধ বর্তমানে প্রায় ১৬০টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। তিনি চীনের বাজারে বাংলাদেশের ওষুধ প্রবেশের সুযোগ আরও সহজ করার পাশাপাশি এপিআই উৎপাদন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, গবেষণা এবং স্মার্ট স্বাস্থ্য অবকাঠামো উন্নয়নে দেশটির সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
স্বাস্থ্যসেবায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা এবং চিকিৎসা শিক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে অনকোলজি, প্রিসিশন মেডিসিন, রোবোটিক সার্জারি, দীর্ঘমেয়াদি রোগ ব্যবস্থাপনা এবং দূরবর্তী রোগী পর্যবেক্ষণে আধুনিক প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকতে পারে।
এ ক্ষেত্রে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
বয়স্ক জনগণের স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টিও মন্ত্রীর বক্তব্যে গুরুত্ব পায়। তিনি বলেন, এশিয়ায় প্রবীণ জনগণের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে পুনর্বাসন সেবা, সহায়ক প্রযুক্তি, জেরিয়াট্রিক সেবা এবং প্রবীণবান্ধব স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রয়োজন।
টিকা ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও দেশগুলোর যৌথ উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তার মতে, টিকা গবেষণা, উৎপাদন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং স্থিতিশীল সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘এশিয়ার স্বাস্থ্য খাতের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে আমরা সামনে কতটা ভালোভাবে সহযোগিতা করি, উদ্ভাবন করি এবং যৌথভাবে দায়িত্ব ভাগ করে নিই তার ওপর।’
এশিয়ার স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।
সম্মেলনে চীনের ১৪তম জাতীয় গণরাজনৈতিক পরামর্শ সম্মেলনের জাতীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও হংকং বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চলের চতুর্থ প্রধান নির্বাহী লিয়াং চুন-ইংসহ চীন, লাওস, মিশর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন