প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বুধবার দাবি করেছেন যে, গুজরাটের বিজেপি সরকার রাজ্য থেকে তিন লাখেরও বেশি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে তাড়িয়ে দিয়েছে। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘ ৫০ বছরের কমিউনিস্ট ও তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) শাসন পশ্চিমবঙ্গকে "ধ্বংস" করেছে।
মেহসানা জেলার ভাদনগরে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মভূমিতে অনুষ্ঠিত 'বারাণসী টু ভাদনগর সেবা যাত্রা'-র সমাপনী অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে উগ্র হিন্দুত্ববাদী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদী না থাকলে যে পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গ পৌঁছেছিল, সেখান থেকে রাজ্যকে রক্ষা করা কঠিন হতো।
বাম ও তৃণমূলের সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, "কমিউনিস্ট ও তৃণমূল উভয়ই মিলে কেবল পশ্চিমবঙ্গকে ধ্বংসই করেনি, জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও হুমকি তৈরি করতে কাজ করেছে।"
তিনি আরো দাবি করেন, গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল এবং উপ-মুখ্যমন্ত্রী হর্ষ সাংভি তাদের রাজ্য থেকে ৩ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে তাড়িয়েছেন। শুভেন্দু প্রশ্ন তোলেন, "তারা (অনুপ্রবেশকারীরা) কোথা থেকে এসেছে? তারা সবাই মমতা ব্যানার্জির আশ্রয়ে এসেছিল। পুরো ৬০০ কিলোমিটার সীমান্ত উন্মুক্ত রাখা হয়েছিল।"
পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচনী অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, কেন্দ্রে বিজেপি ক্ষমতায় আসার প্রতিশ্রুতিতে বলা হয়েছিল যে, সরকার গঠন হলে ৪৫ দিনের মধ্যে সীমান্ত রক্ষীবাহিনীকে (বিএসএফ) জমি দেওয়া নিশ্চিত করা হবে। প্রধানমন্ত্রী মোদী পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নের গ্যারান্টি দিয়েছিলেন এবং ৫০ বছর পর রাজ্যে এক জাতীয়তাবাদী "ডাবল-ইঞ্জিন" সরকার গড়ে উঠেছে, যার অধীনে আয়ুষ্মান ভারত, প্রধানমন্ত্রী আবাসন যোজনা, পিএম কিষাণ সম্মান নিধি এবং উড়ান প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে।
তৃণমূলের বিরুদ্ধে তোষণ রাজনীতির অভিযোগ তুলে শুভেন্দু বলেন, "মানুষকে শুধু দুর্গাপূজা উদযাপনের জন্যও আদালতের দ্বারস্থ হতে হতো। রামনবমীর মিছিলের অনুমতি দেওয়া হতো না।"
প্রধানমন্ত্রী মোদীর ২৫ বছরের জনপ্রতিনিধিত্বের প্রশংসা করে তিনি বলেন, "ভারতমাতার এক মহান সন্তানকে জন্ম দেওয়া এই পবিত্র ভূমির সামনে আমি মাথা নত করি, যিনি পশ্চিমবঙ্গের জাতীয়তাবাদী ও সনাতনী মানুষকে রক্ষা করেছেন। আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে মোদীজির নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি আসন তার হাতে তুলে দেওয়ার জন্য আমরা কাজ করব।"
অনুষ্ঠানে ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান এবং গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল উপস্থিত ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর মোদীর প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার কথা স্মরণ করে বলেন, মোদী সর্বদা ক্ষমতাকে "সেবার মাধ্যম" হিসেবে ব্যবহার করেছেন এবং ভূমিকম্প, বিদ্যুৎ ও পানির সংকটের মতো চ্যালেঞ্জগুলোকে কাটিয়ে গুজরাটের সার্বিক পরিবর্তন এনেছেন। প্যাটেল 'বিকশিত ভারত ২০৪৭'-এর লক্ষ্য অর্জনে 'বিকশিত গুজরাট' গড়ার ওপর জোর দেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন