প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সরকারের পক্ষ থেকে খালের পাড়ে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা আছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
তিনি বলেছেন, জনগণের ম্যান্ডেট পেলে পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল তা বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে। তার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ৭০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা প্রয়োজন। চলতি বছরে এই লক্ষ্যে ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার খননের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে ঢাকার ধামরাইয়ে অবস্থিত স্নোটেক্স আউটওয়্যার লিমিটেড নামে একটি পোশাক কারখানা পরিদর্শনের সময় ত্রাণমন্ত্রী এ কথা বলেন। পরে ধামরাইয়ে খননকাজ চলমান একটি খাল পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। ওই সময় ঢাকা-২০ (ধামরাই) আসনের সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিনও উপস্থিত ছিলেন।
খাল খননের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, আমাদের নির্বাচনি ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছিল, জনগণের ম্যান্ডেট পেলে আমরা পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করব। এটি চার-পাঁচটি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে ভাগ করা হয়েছে। আমাদের মন্ত্রণালয়ের অংশ ৭ হাজার কিলোমিটার। এই বছর আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার।
তিনি বলেন, আপনাদের জানি, এ বছর আগাম বৃষ্টি হয়েছে, যার কারণে অনেক জায়গায় সুষ্ঠুভাবে কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কিন্তু আমাদের আন্তরিকতার অভাব নেই।
তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। তখন বাংলাদেশ খাদ্যঘাটতির দেশ ছিল। তিনি এই খাল ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশকে খাদ্যে উদ্বৃত্ত করেছিলেন এবং বিদেশে রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি করেছিলেন। কিন্তু গত ১৭ বছরে ফ্যাসিস্ট শাসনের সময় অবজ্ঞা, অবহেলা ও অযত্নে অনেক খাল ভরাট হয়ে গেছে, বেদখল হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, এখন খাল কেটে মানুষের মুখে হাসি ফিরছে। বিশেষ করে গ্রামীণ অর্থনীতিতে খাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমরা বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করতে চাই। আপনাদেরও জানি, পার্শ্ববর্তী দেশের পানিবৈষম্যের কারণে আমাদের দেশে অনেক নদী শুকিয়ে যাচ্ছে। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, উপরিভাগের পানিকে ধরে রাখতে হবে।
তিনি বলেন, এ খালের মাধ্যমে বর্ষাকালে পানি নিষ্কাশন হবে এবং শুকনো মৌসুমে কৃষকদের সেচের জন্য পানি সরবরাহ করা যাবে। সঙ্গে সঙ্গে খালের পাড়ে গাছ লাগানো হবে। আমাদের ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচি রয়েছে। ইতোমধ্যে গাছ লাগানোর কাজ শুরু হয়েছে। আমরা চাই, সামাজিক চুক্তির মাধ্যমে হতদরিদ্র মানুষদের এই কাজে সম্পৃক্ত করা হোক, যাতে তারা কর্মসংস্থান পায় এবং আয়বর্ধক কর্মসূচি হিসেবে এটি কাজে আসে। আমাদের চেষ্টা থাকবে পুরো কার্যক্রম দুর্নীতিমুক্তভাবে পরিচালনা করা। কোথাও অভিযোগ উঠলে তাৎক্ষণিক তদন্ত টিম পাঠিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খাল খননে ২৫ শতাংশ শ্রমিক সম্পৃক্ত করার সরকারি নির্দেশনার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, না, মূল খননের কাজ ভেকু দিয়ে করা হবে। কারণ এটি ড্রেজিংয়ের কাজ। তবে স্লোপিং, বৃক্ষরোপণ এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ মানুষের মাধ্যমে করা হবে। আপনাদের জানা উচিত, বর্তমানে এ কাজে দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি দেওয়া হচ্ছে, যা বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে খুবই কম। আমরা নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেছি এবং আগামী অর্থবছরে এই মজুরি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে যাতে মানুষ আরও উৎসাহ নিয়ে এ কাজে অংশগ্রহণ করতে পারে।
এ সময় সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিন বলেন, জনগণের মধ্যে বিএনপির ওপর একটি বিশাল আস্থা ও আত্মবিশ্বাস রয়েছে। আমাদের শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং সর্বোপরি আমাদের নেতা তারেক রহমানের প্রতি জনগণের এই আস্থা তৈরি হয়েছে। মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় আজ ধামরাইয়ে এসেছেন। আমার নির্বাচনি এলাকার জনগণের পক্ষ থেকে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমি তাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। তিনি অনুগ্রহ করে মানিকগঞ্জের কর্মসূচি শেষ করে এ সময় আমার এলাকায় এসে পদচারণা করেছেন। এজন্য আমরা কৃতজ্ঞ। ধামরাইবাসীর পক্ষ থেকে আমি আমাদের এই নেতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন