প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নিম্নমানের বই ছাপানো ও সরবরাহসহ বিভিন্ন খাতে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে (এনসিটিবি) ১৭ বছরে ২ হাজার ৭১১ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে। নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উঠে আসা এসব অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষা গবেষকরা।
এনসিটিবি শিক্ষাক্রম প্রণয়ন, পরিমার্জন ও বই ছাপানোর কাজ করে। সাম্প্রতিক নিরীক্ষা প্রতিবেদনের মাধ্যমে দেখা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত গত ১৭ বছরের নানা অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। এর মধ্যে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার শাসনামল ছিল সাড়ে ১৫ বছর পর্যন্ত।
প্রতিবেদনে উঠে আসে নিম্নমানের বই প্রকাশ করে ১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে। অতিরিক্ত চাহিদার কথা বলে বেশি বই ছাপিয়ে ৫১৬ কোটি ৩৪ লাখ ৪১ হাজার টাকার অপচয় করা হয়েছে। পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহের কাজে ২১৬ কোটি ৪৯ লাখ ২৯ হাজার টাকার অনিয়মও দায়ের করা হয়েছে।
এছাড়াও বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উৎসাহ ভাতার নামে ১ কোটি ৬ লাখ টাকা লোপাট করেছেন। রয়ালিটি বিল থেকে ভ্যাট না কাটার কারণে ১২ কোটি ২৫ লাখ টাকার আর্থিক অনিয়ম ঘটেছে। এইভাবে বিভিন্ন খাতে দুই হাজার ৭১১ কোটি ২০ লাখ টাকার আর্থিক অপচয় ঘটেছে দফতরটিতে।
এনসিটিবির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এসব অনিয়ম বন্ধ করার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফখরুল মাওলা বলেছেন, পূর্ণাঙ্গ অডিট রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর এ বিষয়ে এবং অভিযোগের ব্যাপারে বিস্তারিত কথা বলা যাবে। তিনি জানান, প্রয়োজন হলে এই বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করা হবে। সেইসাথে, অপ্রয়োজনীয় খাতের খরচ কমানোর প্রচেষ্টা করছেন।
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বিগত সময়ে শিক্ষা খাতে ব্যাপক লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেজন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়মিত নজরদারির আওতায় রাখতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক নূর-ই-আলম সিদ্দিকী বলছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নজরদারি থাকা প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সব কাজ করে উঠতে পারবে না। তবে এনসিটিবিতে কিছু সৎ জনবল নিয়ে মনিটরিং করলে দুর্নীতি কিছুটা কমবে বলে মনে করছেন।
স্বৈরশাসনকালে নতুন যে শিক্ষাক্রম প্রণয়ন করা হয়েছিল, সেখানেও শিক্ষক প্রশিক্ষণের নামে ১ হাজার কোটি টাকার অপচয় করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন