প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) নজরুল ইসলাম ছোটনের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ‘লেডি মীর জাফর’ উল্লেখ করে আপত্তিকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা হাইকোর্টে নালিশ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ওই আইন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে লিখিত অভিযোগও জমা দিয়েছেন।
আজ সোমবার বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দ এবং বিচারপতি নাসরিন আক্তারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে তিনি এ নালিশটি উপস্থাপন করেন। আজকের কার্যতালিকায় ৩৬ নম্বরে থাকা একটি মামলার শুনানির জন্য রাষ্ট্রপক্ষে দায়িত্বরত ছিলেন ডিএজি নজরুল ইসলাম ছোটন এবং আসামিপক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। মামলাটি শুনানির জন্য ডাকা হলে রুমিন ফারহানা ডায়াসের সামনে এসে ডিএজির ফেসবুক পোস্টটি আদালতের সামনে তুলে ধরেন।
তিনি আদালতকে জানান, “ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যক্তিগত আক্রোশ ও ক্ষোভ থেকে আমার বিরুদ্ধে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। তিনি রাষ্ট্রপক্ষে আমার কোনো মামলায় শুনানি করলে ক্ষোভ থেকেই বিপক্ষে বলবেন, যাতে আমার মক্কেল ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।”
এ কারণে তিনি আবেদন জানান যে, উক্ত আইন কর্মকর্তা যেন তার কোনো মামলায় শুনানি না করেন। আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে ডিএজি ছোটনের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট আদালতের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সাগর হোসেনকে শুনানি করতে বলেন। পরবর্তীতে মামলার নথি পর্যালোচনা করে হাইকোর্ট বেঞ্চ অবকাশকালীন ছুটির পর বিষয়টি শুনানির আদেশ দেন।
এদিকে, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) নজরুল ইসলাম ছোটনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।
লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেছেন, “অত্যন্ত দুঃখ ও ক্ষোভের সঙ্গে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যে, রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ আইন কর্মকর্তা পদে অধিষ্ঠিত থেকে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) নজরুল ইসলাম ছোটন তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে আমাকে লক্ষ্য করে গত ১১ সেপ্টেম্বর অত্যন্ত আপত্তিকর, মানহানিকর ও কুরুচিপূর্ণ একটি স্ট্যাটাস প্রদান করেছেন।”
রুমিন ফারহানা বলেন, “তিনি লিখেছেন, ‘লেডি মীরজাফর রুমিন ফারহানা আফা অতীত খুব দ্রুতই ভুলে যাচ্ছেন।’ একজন দায়িত্বে থাকা সরকারি আইন কর্মকর্তার কাছ থেকে এ ধরনের হুমকি, অশোভন, কুরুচিপূর্ণ ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত আচরণ কেবল একজন নারী ও জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমার জন্য অপমানজনক নয়, বরং এটি অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের ভাবমূর্তি ও পেশাদারিত্বকে চরমভাবে ক্ষুণ্ন করে। অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে, কোনো দলের নয়।”
রাষ্ট্রপক্ষের একজন ডিএজি-র কাছ থেকে এরূপ শিষ্টাচারবহির্ভূত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অতএব, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নজরুল ইসলাম ছোটনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আপনাকে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন