প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের কারণে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে গণপরিবহণের সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে গাজীপুর ও ময়মনসিংহ থেকে ঢাকামুখী বাসের সংখ্যা কমে যাওয়ার ফলে যাত্রীদের বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অফিসগামী মানুষ বাসে উঠতে না পারার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না। ফলে নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে পৌঁছানোর ব্যাপারে তারা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুরা, কলেজ গেট, চেরাগ আলী, মিল গেট, স্টেশন রোড, টঙ্গী, আব্দুল্লাহপুর, হাউজ বিল্ডিং, বিএনএস ও জসিমউদ্দীন রোড এলাকা ঘুরে এমন পরিস্থিতি দেখা গেছে। এসব এলাকায় ঢাকাগামী বাসের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম ছিল। একইভাবে ঢাকা থেকে গাজীপুর ও ময়মনসিংহগামী গণপরিবহণের চলাচলও কম দেখা গেছে। কোথাও কোথাও যানবাহনের ধীরগতির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কে চলাচলকারী বাসগুলোতে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় ছিল। কোনো বাস স্টেশনে থামার সঙ্গে সঙ্গেই যাত্রীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়। কিন্তু অধিকাংশ বাস আগে থেকেই যাত্রীতে পরিপূর্ণ থাকায় অনেকেই উঠতে পারছেন না। কেউ কেউ দীর্ঘ অপেক্ষার পরও বাস না পেয়ে বিকল্প যানবাহনের খোঁজ করছেন। আবার অনেকে বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে গাদাগাদি করে বাসে উঠছেন।
কলেজ গেট এলাকায় বাসের অপেক্ষায় থাকা রবিউল ইসলাম জানান, তিনি সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ঢাকাগামী বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও বাসের দেখা মিলছে খুব কম। দু-একটি বাস এলেও সেগুলোতে তিল ধারণের জায়গা থাকছে না। বাস থামার সঙ্গে সঙ্গে ওঠার জন্য সবাই হুড়োহুড়ি করছেন। কিন্তু অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে চেষ্টা করেও বাসে উঠতে পারছেন না। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, এভাবে চলতে থাকলে সময়মতো অফিসে পৌঁছানো সম্ভব হবে না। গত কয়েক দিন ধরে শ্রমিক আন্দোলনের কারণে যাতায়াতে এমন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সাইফুল ইসলাম নামের আরেক যাত্রী একই পরিস্থিতির কথা জানান। তিনি বলেন, সড়কে বাসের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। একটি বাসের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। বাস এলেও ভেতরে দাঁড়ানোর জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে অনেকে গাদাগাদি করে উঠছেন। আবার অনেকেই বাসে ওঠার সুযোগ পাচ্ছেন না। এতে কর্মস্থলে পৌঁছাতে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অনেক বেশি সময় লাগছে।
এদিকে শ্রমিক আন্দোলনের কারণে গাজীপুরের বোর্ডবাজার, বাইপাসসহ বিভিন্ন এলাকায় মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও সড়কে অবস্থানের কারণে পরিবহণ চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ সদস্যদের মোতায়েন থাকতে দেখা গেছে।
পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে গত ৩১ অক্টোবর থেকে গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে আন্দোলন চলছে। শ্রমিকদের দাবি, বর্তমান ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করতে হবে। তাদের ভাষ্য, দ্রব্যমূল্য ও বাড়িভাড়া বৃদ্ধির সঙ্গে বর্তমান মজুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ বেতনে সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ আন্দোলনের মধ্যে গত ২ নভেম্বর গাজীপুরের বাহাদুরপুর এলাকায় সংঘর্ষে পোশাকশ্রমিক তৌফিক শেখ (২১) আহত হন। পরদিন ৩ নভেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর শ্রমিকদের মধ্যে নতুন করে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ও কর্মসূচি অব্যাহত থাকায় শিল্পাঞ্চলের স্বাভাবিক কার্যক্রমের পাশাপাশি সড়ক পরিবহণেও এর প্রভাব পড়ছে।
শ্রমিকদের আন্দোলনের কারণে একদিকে শিল্পকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে গণপরিবহণ সংকটে প্রতিদিনের যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারীদের ভোগান্তি বেড়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন