প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতি বিভিন্ন বৈশিক ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তার মাঝে তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল অবস্থানে রয়েছে। বিশ্বব্যাংক জানায়, শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদার কারণে চলতি বছরে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাসের তুলনায় বেশি হতে পারে। তবে, দীর্ঘমেয়াদে প্রবৃদ্ধির নতুন উৎস তৈরি, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা (এআই) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে সংস্থাটি মনে করে।
বিশ্বব্যাংকের অক্টোবর ২০২৬-এর ‘রিজিওনাল ইকোনোমিক আপডেট’ প্রতিবেদনে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতি ও এআই গ্রহণের সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, এ অঞ্চলে এআই ব্যবহারের প্রবণতা বৃদ্ধি পেলেও উন্নত অর্থনীতির তুলনায় তা এখনও অনেক পিছিয়ে রয়েছে। সঠিক নীতি ও অবকাঠামো নিশ্চিত করা গেলে, এআই দক্ষিণ এশিয়ার জন্য নতুন প্রবৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
অভ্যন্তরীণ চাহিদায় ভরসা
বিশ্বব্যাংকের মূল্যায়ন অনুসারে, দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতির একটি প্রধান শক্তি হচ্ছে শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা। বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বিভিন্ন ধরনের ধাক্কা সত্ত্বেও, এই অভ্যন্তরীণ চাহিদা অঞ্চলটির অর্থনীতিকে তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করছে।
তবে ঝুঁকির বিষয়টিও উপেক্ষা করা যায় না। দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ জ্বালানি মূল্য দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্ভাব্য শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতিও অর্থনীতির জন্য নেতিবাচক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
নতুন প্রবৃদ্ধির উৎস এআই
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধিতে এআইয়ের সম্ভাবনা। সংস্থাটির মতে, এআই গ্রহণের মাধ্যমে নতুন প্রবৃদ্ধির উৎস তৈরি করা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করা সম্ভব।
বিশ্ব অর্থনীতিতে দ্রুত এআই প্রযুক্তির বিস্তার ঘটলেও দক্ষিণ এশিয়ায় এর ব্যবহার এখনও সীমিত। ফলে, এ অঞ্চলের দেশগুলোর সামনে একদিকে যেমন প্রযুক্তিগত পিছিয়ে থাকার ঝুঁকি রয়েছে, অন্যদিকে দ্রুত এআই গ্রহণ করে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর সুযোগও রয়েছে।
বিশ্বব্যাংক জানাচ্ছে, এআইয়ের সুফল পেতে হলে শুধুমাত্র প্রযুক্তি আমদানি করলেই হবে না। এর সঙ্গে প্রয়োজন দক্ষ মানবসম্পদ, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ এবং শক্তিশালী ভৌত ও ডিজিটাল অবকাঠামো।
দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্ব
এআই অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে সক্ষম। তবে, সেই পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন উপযুক্ত দক্ষতা। বিশ্বব্যাংক তাই দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতিতে কর্মসংস্থানের ধরন বদলে যেতে পারে। নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে না পারলে, অনেক শ্রমিক ও কর্মী পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকবেন। অপরদিকে, প্রয়োজনীয় দক্ষতা তৈরি করা গেলে এআই নতুন ধরনের কাজ ও উৎপাদনশীলতার সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
ছোট ব্যবসায় এআই ব্যবহারে বাধা কমানোর তাগিদ
এআই গ্রহণে বড় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোকেও যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। প্রতিবেদনে ছোট ব্যবসার ক্ষেত্রে এআই গ্রহণের বাধা কমানোর পাশাপাশি স্থানীয় এআই উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করার কথা বলা হয়েছে।
এ ছাড়া, এআই ব্যবহারের জন্য একটি স্পষ্ট নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরির সুপারিশ করেছে সংস্থাটি। এতে বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের অনিশ্চয়তা কমবে এবং একই সঙ্গে তথ্যের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষা করা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশের জন্য কী বার্তা
দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতি নিয়ে বিশ্বব্যাংকের এই মূল্যায়ন বাংলাদেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। বিশেষ করে ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে হলে মানবসম্পদের দক্ষতা, ডিজিটাল অবকাঠামো, ব্যবসার পরিবেশ এবং প্রযুক্তি গ্রহণের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণের মূল বার্তা হলো—এআই শুধুমাত্র প্রযুক্তি খাতের বিষয় নয়; এটি ভবিষ্যতের উৎপাদনশীলতা, প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো যদি দ্রুত এআই গ্রহণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও অবকাঠামো তৈরি করতে পারে, তাহলে বৈশ্বিক অর্থনীতির পরিবর্তনকে ঝুঁকি হিসেবে দেখার পাশাপাশি নতুন প্রবৃদ্ধির সুযোগেও পরিণত করা সম্ভব।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন