প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নেত্রকোণার পূর্বধলায় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অ্যাডহক কমিটির সভাপতিকে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সেলিম উদ্দিন।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় পূর্বধলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগের প্রতিবাদ জানান তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং থানায় দায়ের করা অভিযোগকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার দাবি করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান সেলিম উদ্দিন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, গত ১ নভেম্বর সন্ধ্যায় কালডোয়ার কুমারখালী বাজার মসজিদে মাগরিবের নামাজ শেষে তিনি তাঁর আল্লমান অটো রাইস মিলের কার্যালয়ে বসেছিলেন। এ সময় পূর্বধলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কয়েকজন প্রধান ও সহকারী শিক্ষক সেখানে উপস্থিত হন।
উপস্থিত শিক্ষকদের মধ্যে ছিলেন আগিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বদরুজ্জামান, পূর্বধলা জগৎমণি সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নূরে আলম সিদ্দিকী মামুন, দেওটকোন আবদুল গণি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিউটন চন্দ্র সরকার, আগিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আশিক মাহমুদ এবং হোগলা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আমিনুল ইসলাম।
সেলিম উদ্দিনের দাবি, আলোচনার একপর্যায়ে আমিনুল ইসলাম জানান, তাঁকে আগিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি করা হয়েছে। তবে অন্য একটি বিদ্যালয়ের তুলনামূলক জুনিয়র সহকারী শিক্ষক হওয়ায় এ দায়িত্ব পালন করতে তিনি বিব্রত বোধ করছেন। এ কারণে পরদিন ২ নভেম্বর শিক্ষা বোর্ডে গিয়ে পদত্যাগ করার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের কথাও জানান। পরে চা ও কোমল পানীয় পান শেষে সবাই সেখান থেকে চলে যান।
তিনি আরও জানান, ওই দিন রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে আমিনুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তাঁকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানো হয়েছে। একই ঘটনায় মধ্যরাতে সেলিম উদ্দিনসহ কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগও করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সেলিম উদ্দিন দাবি করেন, অভিযোগের সঙ্গে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার তারিখের অসংগতি রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে সংগ্রহ করা পদত্যাগপত্রে দেখা যায়, আমিনুল ইসলাম ২ নভেম্বর স্বাক্ষর করে ৩ নভেম্বর সেটি বোর্ডে জমা দিয়েছেন। এ তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন তিনি।
এ ধরনের অভিযোগ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের কারণে তাঁর সামাজিক, রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক সুনামের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের সম্মানহানি হয়েছে বলেও দাবি করেন সেলিম উদ্দিন। সংবাদ সম্মেলন থেকে ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরতে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান ফকির, যুগ্ম আহ্বায়ক ফকির সাইয়েদ আল মামুন শহীদ, আব্দুল হাসনাত বেপারী, সালাউদ্দিন আহম্মদ নওয়াব, উপজেলা বিএনপির সদস্য জাহাঙ্গীর আলম তালুকদারসহ উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন