প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ : চীন থেকে আসা বিপুল সংখ্যক পণ্যের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে আগামী ১ নভেম্বর থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বাইরের দেশগুলো থেকে আসা পার্সেলের ওপর ২ ইউরো (২ দশমিক ২৫ ডলার) হ্যান্ডলিং ফি আরোপ করতে যাচ্ছে জোটটি।
এ খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
ব্ল্যাক ফ্রাইডে, সাইবার মানডে ও বড়দিনের কেনাকাটার মৌসুম শুরুর কয়েক সপ্তাহ আগে এই নতুন ফি কার্যকর হতে যাচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হবে ছোট পার্সেলের ওপর ইইউর আগে থেকে আরোপ করা ৩ ইউরো শুল্ক।
কীভাবে কার্যকর হবে নতুন ফি?
ইইউর বাইরের দেশ থেকে সরাসরি ভোক্তাদের কাছে পাঠানো পার্সেলের সকল ধরনের পণ্যের ওপর এই ফি প্রযোজ্য হবে। পার্সেলের মূল্য যাই হোক না কেন, ফি প্রদান করতে হবে।
যেমন, একটি পার্সেলে ১০টি টি-শার্ট থাকলে ফি হবে ২ ইউরো। কিন্তু একই পার্সেলে দুটি টুপি ও ১০টি টি-শার্ট থাকলে দুটি ভিন্ন ধরনের পণ্যের জন্য মোট ফি হবে ৪ ইউরো।
গত জুলাইয়ে ১৫০ ইউরোর কম মূল্যের ছোট পার্সেলের ওপর যে ৩ ইউরো শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল, নতুন হ্যান্ডলিং ফি তার অতিরিক্ত।
তবে ইইউর দাবি, এই ফি সরাসরি ইউরোপীয় ভোক্তাদের দিতে হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যামাজনের মতো অনলাইন মার্কেটপ্লেস, চীনের আলিএক্সপ্রেস ও টেমুর মতো ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম, বিক্রেতা এবং অন্যান্য মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানকে এ অর্থ পরিশোধ করতে হবে।
তবে এসব প্ল্যাটফর্ম ও বিক্রেতা চাইলে পণ্যের দাম বাড়িয়ে বাড়তি খরচের বোঝা শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপর চাপাতে পারে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রায় ৬০০ কোটি ছোট পার্সেল প্রবেশ করেছে।
ইউরোপে আসা কম দামের এসব পার্সেলের প্রায় ৯৩ শতাংশই এসেছে চীন থেকে। এসব পণ্যের বড় অংশ আলিএক্সপ্রেস ও টেমুর মতো জনপ্রিয় এশীয় অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আসে।
ব্রাসেলসের বক্তব্য, বিপুল সংখ্যক পার্সেল সামলাতে গিয়ে শুল্ক কর্তৃপক্ষের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ তৈরি হচ্ছে। এতে তাদের পরিচালন ব্যয়ও বাড়ছে। নতুন হ্যান্ডলিং ফি থেকে পাওয়া অর্থ দিয়ে এ কার্যক্রমের ব্যয় সামাল দেওয়া হবে।
গত জুলাইয়ে ছোট পার্সেলের ওপর ৩ ইউরো শুল্ক চালুর পর আমদানি প্রায় ৬৪ শতাংশ কমেছে। তবে এ প্রবণতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য এখনই সময় হয়নি বলে সতর্ক করেছেন কর্মকর্তারা।
এ ছাড়া, চীনা ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রবেশ করা এমন কিছু অনিরাপদ পণ্য নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপ, যেগুলোর মধ্যে ইউরোপীয় নিয়ম লঙ্ঘনকারী খেলনাও রয়েছে।
২ ইউরোর হ্যান্ডলিং ফি স্থায়ীভাবে চালু থাকবে। অন্যদিকে, কম মূল্যের পার্সেলের ওপর আরোপিত ৩ ইউরো শুল্কটি সাময়িক ব্যবস্থা হিসেবে ২০২৮ সালের ১ জুলাই পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
ওই তারিখ থেকে পণ্যের ধরন অনুযায়ী প্রচলিত শুল্কহার প্রযোজ্য হবে।
এদিকে, শুল্ক কার্যক্রম পরিচালনার ব্যয়ের সঙ্গে নতুন ফি সামঞ্জস্যপূর্ণ রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে প্রতি দুই বছর পর ফি-র পরিমাণ পর্যালোচনা করতে হবে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন