প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
৬২ কেজি গাঁজা উদ্ধারের পরও প্রকাশ্যে চলছে মাদক কারবার। এর নেপথ্যে রয়েছে অসাধু সখ্যতা ও অভিযানের আগাম খবরের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। রাজ্জাক স্মৃতি কলোনি এলাকার সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহল প্রশাসনের কাছে এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছে।
সরকারের মাদকবিরোধী ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বরিশাল নগরীর কেডিসি ও রাজ্জাক স্মৃতি কলোনি এলাকায় ফের মাদক কারবার শুরু করেছে একটি চিহ্নিত সিন্ডিকেট। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী মালেকের স্ত্রী নিলুফা নিলু এবং তার বর্তমান স্বামী রাসেল প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ওই এলাকায় পুনরায় গড়ে তুলেছেন এক বিশাল মাদকের সাম্রাজ্য।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর নিয়মিত অভিযানে মাঝেমধ্যে কিছু খুচরা কারবারি গ্রেপ্তার হলেও মূল হোতা এই মাদক দম্পতি বরাবরই অধরা থেকে যান। সম্প্রতি গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এক অভিযানে ৬২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হলেও সে সময় আটক হননি নিলুফা নিলু। পরে তিনি গ্রেপ্তার হয়ে জেলে গেলেও রহস্যজনকভাবে মাত্র ১৫ দিন জেল খেটে জামিনে মুক্ত হন। জামিনে বের হয়েই তিনি পুনরায় প্রকাশ্যেই মাদকের বড় নেটওয়ার্ক সক্রিয় করে তুলেছেন।
অভিযানের আগাম খবর ফাঁস ও অসাধু সখ্যতার অভিযোগ: 'তালাশ বিডি'র প্রাপ্ত সূত্র অনুযায়ী জানা গেছে, নিলুফা নিলুর এই অবাধ মাদক কারবারের পেছনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার গোপন আশ্রয় রয়েছে। বিশেষ করে ডিবি পুলিশের কিছু অসাধু কর্মকর্তা অভিযানের আগাম খবর পৌঁছে দেওয়ার কারণেই তৎকালীন অভিযানে ৬২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা সম্ভব হলেও মূল কারবারি নিলুফা নিলুকে ঘটনাস্থل থেকে আটক করতে সক্ষম হয়নি ডিবির অভিযান টিম। পরবর্তীতে মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেনের বিনিময়ে তাকে 'স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ' করানোর গুঞ্জনও চাউর হয়। এই অদৃশ্য শক্তির ওপর ভর করেই এত বড় চালানের মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও মাত্র ১৫ দিনে জামিনে বেরিয়ে এসে ফের একই অপরাধে লিপ্ত হয়েছেন তিনি।
আইনকে তোয়াক্কা না করায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী: স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম ক্ষোভ ও অভিযোগ, একাধিক অভিযান, মামলা কিংবা জেল খাটার পরও নিলুফা-রাসেল দম্পতি কোনো আইনি তোয়াক্কা না করে কেডিসি ও তৎসংলগ্ন রাজ্জাক স্মৃতি কলোনি এলাকায় অবাধে মাদক বিক্রি চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের এই অপতৎপরতা অতি দ্রুত বন্ধ করা না গেলে বরিশাল নগরীর তরুণ ও যুবসমাজ পুরোপুরি ধ্বংসের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
পুলিশ প্রশাসনের বক্তব্য: এ বিষয়ে অনলাইন নিউজ পোর্টাল 'তালাশ বিডি'র পক্ষ থেকে উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) সুশান্ত সরকার, পিপিএম-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। অতি দ্রুত অভিযান চালিয়ে নিলুফা নিলু ও তার স্বামী রাসেলকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে এবং রাজ্জাক স্মৃতি কলোনিতে যেকোনো সময় বড় ধরনের বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে।
মাদকের এই ভয়াল থাবা থেকে কেডিসি ও রাজ্জাক স্মৃতি কলোনি এলাকাকে পুরোপুরি মুক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর ও ধারাবাহিক পদক্ষেপ কামনা করেছেন নগরীর সচেতন নাগরিকরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন