প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। চিকিৎসা সরঞ্জামের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে, হাসপাতালগুলোর ওপর ধারাবাহিক হামলা এবং রোগী সরিয়ে নেয়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ায় বহু মানুষের জীবন ঝুঁকিতে পড়েছে। এর মধ্যে নতুন করে হামলায় অন্তত পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। পশ্চিম তীরেও ইসরাইলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের নাসের হাসপাতাল বর্তমানে গাজার স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম প্রধান ভরসা হিসেবে কাজ করছে। উত্তর গাজার অধিকাংশ হাসপাতাল ধ্বংসের কারণে আল-মাওয়াসি এলাকা সহ হাজারো রোগীর চিকিৎসা চাপ সামলাতে হচ্ছে এই হাসপাতালকে। তবে চিকিৎসকরা জানান, প্রয়োজনীয় ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও বিশেষায়িত যন্ত্রপাতির তীব্র সংকট রয়েছে। এর মধ্যেও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সীমিত সহায়তায় ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবা চালিয়ে যতোটা সম্ভব চেষ্টা করা হচ্ছে।
গাজায় বর্তমানে মাত্র একটি বিশেষায়িত কার্ডিয়াক মেশিন সচল রয়েছে, যার ফলে হৃদরোগীদের চিকিৎসার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
চিকিৎসা সংকট আরো গভীর করেছে চলমান সামরিক অভিযান। হাসপাতালটির কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে, ইসরাইলি বাহিনী দুই দফা নাসের হাসপাতালে অভিযান চালিয়েছে। হাসপাতালের চত্বরে আটকে পড়া বহু ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে গণকবর দেয়ার অভিযোগও উঠেছে। উদ্ধারকারী দল মরদেহগুলো উদ্ধার করলেও, অনেক পরিবার স্বজনদের মরদেহ শনাক্ত করতে হিমশিম খাচ্ছে।
অ্যাম্বুলেন্সে গুলিবর্ষণ, আগুন ও যন্ত্রাংশ ধ্বংসের ঘটনায় আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দেয়া কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যে জানা গেছে, গত অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া সমঝোতা অনুযায়ী, প্রায় ২১ হাজার মানুষকে চিকিৎসার জন্য গাজার বাইরে নেয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জরুরি চিকিৎসাপ্রার্থী। তবে এখনও ৭ হাজার ৫শ’রও কম মানুষ গাজা ছাড়তে পেরেছে, যা প্রতিশ্রুতির মাত্র ৩৬ শতাংশ বাস্তবায়ন।
জরুরি চিকিৎসার অনুমোদন পাওয়া হাজারো রোগী এখনও অবরুদ্ধ গাজায় আটকে আছেন। অনেক রোগী যদি সময়মতো চিকিৎসা না পান, তাহলে তাদের প্রাণহানির ঝুঁকি রয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) ইসরাইলি হামলার ফলে গাজায় শিশুসহ কয়েকজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। খান ইউনিসে একটি তাঁবুতে বিমান হামলায় আরও বেশ কয়েকে হতাহত হয়েছেন।
একই সময় অধিকৃত পশ্চিম তীরেও অভিযান অব্যাহত আছে। এল-বিরেহ শহরে ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে ১৫ বছর বয়সি এক কিশোর নিহত হয়েছে। নাবলুসের দক্ষিণে বেইতা শহরে এক ফিলিস্তিনি নিরাপত্তারক্ষীকে মারধর করেছে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীরা। নতুন বসতি স্থাপনের উদ্যোগ, হেবরনের ইব্রাহিমি মসজিদে নতুন স্থাপনা নির্মাণ এবং বিভিন্ন এলাকায় সম্পত্তি ধ্বংসের ঘটনাও ঘটছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন