প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাজ্যে নতুন সরকারের অধীনে মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত লেবার পার্টির বার্ষিক সম্মেলনে ফরেন অফিসের মিনিস্টার উমা কুমারান স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, বিগত বছরগুলোতে ব্রিটিশ মুসলিমদের আওয়াজ এবং মতামত যথাযথভাবে শোনা হয়নি। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, বর্তমান সরকার এই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
লিভারপুলের হিলটন হোটেলে ব্রিটিশ মুসলিমভিত্তিক থিঙ্কট্যাঙ্ক সংস্থা ‘ইকুই’ (Equi)-এর দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সংসদ সদস্য এবং মুসলিম নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী উমা কুমারান বলেন, “আমি জানি, গত দুই বছরে ব্রিটিশ মুসলিম সম্প্রদায় এবং তাঁদের নেতৃত্ব বহুবার মনে করেছেন যে তাঁদের কথা শোনা হচ্ছে না। কথাটি সত্য এবং আমি এখানে এসে তা অস্বীকার করতে চাই না। আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডও মনে করেন এই পরিস্থিতির পরিবর্তন হওয়া জরুরি।” তিনি আরও সতর্ক করে বলেন যে, কট্টর ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলো দেশকে বিভক্ত করার যে চেষ্টা করছে, তা প্রতিহত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৎকালীন কনজারভেটিভ (কনজারভেটিভ/টোরি) সরকারের আমলে মুসলিম নাগরিক সমাজের সাথে সরকারের যোগাযোগ প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। বিশেষ করে গাজা পরিস্থিতির কারণে লেবার পার্টির সাথেও মুসলিম ভোটারদের সম্পর্কে ফাটল ধরেছিল। তবে নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর এই সম্পর্কে নতুন আশা বা “A New Hope” সঞ্চারিত হয়েছে।
সম্প্রতি যুক্তরাজ্য সরকার অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের ওপর বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা জারি করার পর মুসলিম সমাজের পক্ষ থেকেও সরকারের এমন পদক্ষেপের প্রশংসা করা হয়েছে। ইকুই-এর ডিরেক্টর প্রফেসর জাভেদ খান জানান, পররাষ্ট্র নীতি ও তার অভ্যন্তরীণ প্রভাব নিয়ে সরকার যেভাবে মুসলিম প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা করছে, তা অতীতে দেখা যায়নি।
তবে সম্পূর্ণ পরিবর্তন হতে এখনও কিছুটা সময় লাগবে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। কারণ যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বড় মুসলিম প্রতিনিধিত্বকারী ছাতা সংগঠন ‘মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেন’ (MCB)-এর সঙ্গে সরকারের আনুষ্ঠানিক দূরত্ব এখনও পুরোপুরি মেটেনি। তবুও, বার্নহাম সরকারের অধীনে ব্রিটেনে বসবাসরত মুসলিমদের অধিকার ও মর্যাদা সুসংহত করতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন