প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হবে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ প্রকল্পের। সলঙ্গা থানার হাটিকুমরুল গোলচত্বরে আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক ‘ক্লোভারলিফ ইন্টারচেঞ্জ’ নির্মাণ করা হচ্ছে। এটি ঢাকা, উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২২ জেলার যান চলাচল নির্বিঘ্ন করতে তৈরি হচ্ছে। প্রকল্পের ৭২ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হওয়ায় ছয়টি সার্ভিস লেন যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন করতে নির্মাণযজ্ঞ চলছে দিন-রাত। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পের কাজ শেষ হলে যানবাহনের গতি বাড়বে এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, যা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল গোলচত্বর এলাকা রাজধানীর সঙ্গে যুক্ত করেছে দেশের ২২ জেলার মানুষকে। এই অঞ্চলের যান চলাচল নির্বিঘ্ন ও গতিশীল করতে ২০২২ সালে শুরু হয় দেশের দ্বিতীয় সর্বাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জের নির্মাণকাজ। প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত থাকলেও ভূমি অধিগ্রহণসহ নানা জটিলতার কারণে তা চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
এখন পর্যন্ত বালি ভরাট, বাউন্ডারি ওয়াল, এসএমবিডি ব্রিজ নির্মাণ, সার্ভিস এরিয়া সহ বড় অংশের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। মূল ইন্টারচেঞ্জের পাইল, র্যাম্পের পাইল, পাইল ক্যাপ, ডায়ার স্ট্যাম্প ও গার্ডার নির্মাণের কাজও শেষ হয়েছে, ফলে মূল স্থাপনার দৃশ্যমানতা বাড়ছে।
অর্থনীতিবিদ ও সড়ক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যমুনা সেতুর পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার সম্ভব হয়নি দুপাশের সংযোগ সড়কের সংকটের কারণে। হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ চালু হলে সেতুটির পূর্ণাঙ্গ সুবিধা পাওয়া যাবে। ব্যবসায়ীদের মতে, প্রকল্পটি চালু হলে এই অঞ্চলে শিল্পায়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। ৭৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পটির কাজ বাস্তবায়ন করছে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘চায়না রেলওয়ে ব্রিজ করপোরেশন’। দেশের সড়ক অবকাঠামোর মধ্যে এই প্রকল্পেই প্রথম স্থাপিত হতে যাচ্ছে অত্যাধুনিক ‘ইন্টেলিজেন্ট ট্রাফিক সিস্টেম’ (আইটিএস)।
সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, ‘ইন্টারচেঞ্জটি চালু হলে দেশের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে দ্রুততম সময়ে পণ্য সরবরাহ করা যাবে। এতে সময় ও খরচ দুটোই কমবে। কৃষক ও ব্যবসায়ীরা পণ্যের সঠিক দাম পাবেন এবং এই অঞ্চলে বড় বড় কলকারখানা গড়ে উঠবে।’
সাসেক ২-এর প্রকল্প পরিচালক মো. ওয়ালিউর রহমান জানান, সড়ক যোগাযোগব্যবস্থাকে সহজ ও গতিময় করতে দিন-রাত দুই শিফটে কাজ চলছে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান বলেন, ‘ইন্টেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম (আইটিএস) হলো একটি অটোমেটিক কন্ট্রোল সিস্টেম। এটি চালু হলে গাড়ি কখন কোন লেনে যাবে, কোথায় থামবে—তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে। কেউ ভুল লেনে প্রবেশ করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যালার্ম বেজে উঠবে।
আইটিএস ব্যবহারের ফলে যানজটের তীব্রতা কমে যাবে এবং সড়ক নিরাপত্তার ব্যবস্থাপনা আরো জোরদার হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন