প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশ্বব্যাংকের নতুন কর্মসংস্থান কৌশলে তিনটি বিষয়কে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়গুলো হলো ভৌত ও মানব অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগের জন্য স্থিতিশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য নীতি নিশ্চিত করা এবং বিনিয়োগের পরিমাণ ও পরিসর বাড়ানো।
এ কৌশলের আওতায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের অর্থায়ন সহজতর করা, উদ্যোক্তাদের ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা এবং উৎপাদনশীল খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্বের ১১০টি দেশের বিনিয়োগকারীরা বিশ্বব্যাংক-সংশ্লিষ্ট অর্থায়নে অংশগ্রহণ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ভারতের পাশাপাশি রোমানিয়া, চিলি, পোল্যান্ড ও ব্রাজিলের বিনিয়োগকারীরাও এতে যুক্ত হয়েছেন।
বিশ্বব্যাংক মনে করে, শুধুমাত্র ঋণ দিয়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোর কর্মসংস্থান সংকট সমাধান করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন এমন একটি অর্থনৈতিক পরিবেশ, যেখানে দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হবেন এবং নতুন শিল্প ও ব্যবসা সম্প্রসারণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
বড় এআই নয়, কার্যকর প্রযুক্তিতে গুরুত্ব
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন অজয় বাঙ্গা। তিনি বড় ও ব্যয়বহুল এআই মডেলের পাশাপাশি ‘স্মল এআই’ বা ছোট, সহজলভ্য ও ব্যবহারিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির ওপর গুরুত্ব দেন।
তার মতে, উন্নয়নশীল দেশের জন্য সব সময় বিশাল কম্পিউটিং সক্ষমতাসম্পন্ন প্রযুক্তি প্রয়োজন নেই। বরং সহজে ব্যবহারযোগ্য এআই টুলস কৃষকের উৎপাদন বাড়াতে, শিক্ষকের পাঠদান উন্নত করতে এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করতে পারে।
এ জন্য বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট সংযোগ ও প্রয়োজনীয় ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর জোর দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। প্রযুক্তির সুবিধা যেন শুধু উন্নত দেশ বা বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিদ্যুৎ, পানি ও স্বাস্থ্যসেবায় ২০৩০ সালের লক্ষ্য
উন্নয়নশীল দেশগুলোর জীবনযাত্রার মান বাড়াতে কয়েকটি বড় কর্মসূচির অগ্রগতিও তুলে ধরেন বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট।
আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত ‘মিশন ৩০০’ কর্মসূচির আওতায় ২০৩০ সালের মধ্যে আফ্রিকার ৩০ কোটি মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে। এরই মধ্যে ৫ কোটি ৯০ লাখ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পেয়েছেন। গত এক বছরেই নতুন করে ২ কোটি ৮০ লাখ মানুষের বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত হয়েছে।
পানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী ১০০ কোটি মানুষের জন্য নিরাপদ পানি ও পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের লক্ষ্যের অংশ হিসেবে বিশ্বব্যাংক ৪০ কোটি মানুষের কাছে পৌঁছানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। এর মধ্যে ১৫ কোটি মানুষের জন্য কার্যক্রম চলমান।
কৃষি খাতে ‘অ্যাগ্রিকানেক্ট’ কর্মসূচির আওতায় ২০ কোটি ক্ষুদ্র কৃষককে সহায়তার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম বছরেই ৮ কোটি ২০ লাখ কৃষককে সহায়তার জন্য প্রকল্পের পাইপলাইন তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবায় ‘হেলথওয়ার্কস’ কর্মসূচির আওতায় ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫০ কোটি মানুষের কাছে উন্নত ও সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। এরই মধ্যে ৬০ কোটি মানুষের কাছে মানসম্মত সেবা পৌঁছেছে বলে ভাষণে উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ খনিজসম্পদ, উৎপাদনশিল্প ও অর্থনৈতিক করিডোর উন্নয়নের মাধ্যমে নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। লোভিতো করিডোরের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্প সম্প্রসারণের মাধ্যমে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
উন্নয়ন অর্থায়নে নতুন সম্পদশ্রেণি গঠনের উদ্যোগ
দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থের জোগান বাড়াতে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ আরো পাঁচটি শীর্ষ বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংকের সঙ্গে নতুন অর্থায়নব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ করছে। এর লক্ষ্য হলো উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে নির্দিষ্ট মানদণ্ডের আওতায় এনে পেনশন তহবিল ও সার্বভৌম সম্পদ তহবিলের মতো বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণীয় করে তোলা।
এ উদ্যোগের মাধ্যমে উদীয়মান বাজারের উন্নয়ন প্রকল্পকে একটি স্বতন্ত্র বিনিয়োগ সম্পদশ্রেণি হিসেবে প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে বিশ্বব্যাংক ও অন্যান্য উন্নয়ন সংস্থার নিজস্ব ব্যালান্স শিটের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদি বেসরকারি মূলধন কাজে লাগানোর সুযোগ বাড়বে।
উন্নয়নের সুফল সবার কাছে পৌঁছানোর আহ্বান
১৯৪৪ সালের ব্রেটন উডস সম্মেলনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন অজয় বাঙ্গা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও পুনর্গঠনের উদ্দেশ্যে ওই সম্মেলন থেকে বিশ্বব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার পথ তৈরি হয়েছিল।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক সমৃদ্ধি কোনো একটি দেশের একক অর্জন নয়। এর সুফল সবার কাছে পৌঁছানো প্রয়োজন। আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে বিপুলসংখ্যক তরুণের কর্মবাজারে প্রবেশের বিষয়টি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলেও এটি অনিবার্য ভবিষ্যৎ নয়।
বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্টের মতে, সরকারি অর্থায়ন, বেসরকারি মূলধন, প্রযুক্তি ও উন্নয়ন সহযোগিতাকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগাতে পারলে কর্মসংস্থানের ঘাটতি কমানো সম্ভব। এখন প্রয়োজন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সম্মিলিত উদ্যোগ, যেন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি মানুষের জন্য মর্যাদাপূর্ণ কাজ ও স্থায়ী আয়ের সুযোগ তৈরি হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন