প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দেশজুড়ে হামের সংক্রমণ ও মৃত্যুর উদ্বেগজনক পরিস্থিতির মধ্যে সরকার দ্বিতীয় দফার বিশেষ কর্মসূচি শুরু করেছে, যার মাধ্যমে প্রায় ৩৪ লাখ শিশুকে হাম-রুবেলা (এমআর) টিকার আওতায় আনা হবে। এই কর্মসূচির নাম ‘ইনটেনসিফায়েড এমআর ক্যাচ-আপ ভ্যাকসিনেশন’। আজ শনিবার থেকে শুরু হয়ে আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। এই কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের খুঁজে বের করে টিকা দেওয়া হবে, যারা টিকা পায়নি বা তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।
শনিবার সকালে রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তির টিএনটি খেলার মাঠে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এবার স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীদের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিশুদের টিকা নেওয়ার অবস্থা যাচাই করা হবে, শুধু নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্রে নয়। আগের তালিকা বা কোনো ক্যাম্পেইনের তথ্যে নেই—এমন শিশুকেও শনাক্ত করে টিকার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেন, ২০২০ সালের পর নিয়মিত বিরতিতে এমআর টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হওয়ার কথা থাকলেও তা যথাসময়ে হয়নি। এর ফলে বিপুলসংখ্যক শিশু টিকার সুরক্ষা থেকে বাইরে থেকে গেছে। এর পরিণতিতে চলতি বছর হামের প্রাদুর্ভাবের সময় অনেক পরিবারকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। শিশুদের মৃত্যু ও মায়েদের কষ্টের কথা তুলে ধরে এ পরিস্থিতিতে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, হাম নিয়ন্ত্রণে টিকাদানের পাশাপাশি নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি জোরদার, রোগ শনাক্তকরণ ও নজরদারি এবং আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার জন্য জাতীয় পর্যায়ে ‘মিজলস-রুবেলা ক্লিনিক্যাল কেস ম্যানেজমেন্ট’ নির্দেশিকা তৈরি করা হয়েছে এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে ধাপে ধাপে পরিচালিত এমআর টিকাদান কর্মসূচিতে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৯৮ লাখ ৫৫ হাজার ২৭৪ শিশু টিকা পেয়েছে। এর আগে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের লক্ষ্য করে বিশেষ কর্মসূচি পরিচালনা করা হলেও মাঠপর্যায়ের তথ্য, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও ইউনিসেফের দ্রুত পর্যবেক্ষণ এবং হাসপাতালে হামে আক্রান্ত শিশুদের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিশু টিকার আওতার বাইরে রয়েছে।
টিকা থেকে বাদ পড়া শিশু শনাক্তের ক্ষেত্রে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের তথ্যও ব্যবহার করা হচ্ছে। একই বয়সী শিশুদের নিয়ে ২৮ জুনের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইনে প্রায় ২ কোটি ২৩ লাখ শিশু অংশ নেয়। অন্যদিকে এমআর কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিশুর সংখ্যা ছিল এর চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কম। দুই কর্মসূচির তথ্যের পার্থক্য থেকেই টিকাদান তালিকায় বাদ পড়া শিশুদের একটি বড় অংশের বিষয়টি সামনে আসে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, নতুন কর্মসূচিতে আগের এমআর টিকাদান তালিকা, ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইনের তথ্য, স্থানীয় টিকাদান পরিকল্পনা, আগের কর্মসূচির হিসাব এবং মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণ—সবকিছু মিলিয়ে শিশুদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। কোনো শিশু বর্তমানে ৬ মাস বয়সে পৌঁছালে তাকেও কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। ফলে কর্মসূচি চলাকালে নতুন করে যোগ্য হওয়া শিশুরাও টিকা পাওয়ার সুযোগ পাবে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে গণসচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যমসহ সমাজের সব পক্ষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, হামসহ মহামারি মোকাবিলা সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন সংকট ও জরুরি পরিস্থিতিতে দেশের চিকিৎসকেরা নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
তিনি বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে হামের জটিলতার ঝুঁকির কথা তুলে ধরেন। অপুষ্ট শিশুর হাম হলে নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে এবং এতে মৃত্যুঝুঁকি বাড়ে। তাই টিকার পাশাপাশি শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন