প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
একটি পরিত্যক্ত কনটেইনারে চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার কথা বলে ৩৮ বছর বয়সী ছেলেকে হত্যার অভিযোগ তার ৬৪ বছর বয়সী বাবার বিরুদ্ধে উঠেছে। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির কালিন্দি কুঞ্জ এলাকায় ঘটে যাওয়া এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের বাবা এবং তার এক সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
নিহতের নাম গুল হাসান। গ্রেপ্তারকৃত দুজন হলেন তার বাবা তালুকদার আনসারি এবং আনসারির সহযোগী মোহাম্মদ ওয়াসিম, যিনি আকরাম নামেও পরিচিত। শুক্রবার তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৩ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টা ১৩ মিনিটের দিকে কালিন্দি কুঞ্জ এলাকায় বাবলু কা কনটেইনার নামে পরিচিত একটি পরিত্যক্ত কনটেইনারের ভেতরে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মরদেহ পড়ে থাকার খবর পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর পুলিশ নিহতের মাথায় আঘাতের চিহ্ন দেখতে পায়। সেখান থেকে রক্তমাখা একটি পাথরও উদ্ধার করা হয়।
মরদেহ উদ্ধারের পর হত্যার রহস্য উদঘাটনের জন্য কালিন্দি কুঞ্জ থানার পুলিশ, স্পেশাল স্টাফ, নারকোটিকস টিম এবং অ্যান্টি অটো থেফট স্কোয়াডের সদস্যদের নিয়ে চারটি দল গঠন করা হয়।
তদন্তের সময় সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানতে পারে, গুল হাসান দুই ব্যক্তির সঙ্গে ওই পরিত্যক্ত কনটেইনারের দিকে গিয়েছিলেন। এরপর গুল হাসানকে আর সেখান থেকে বের হতে দেখা যায়নি। ক্যামেরা থেকে ক্যামেরায় ফুটেজ অনুসরণ করে পুলিশ দুই সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করে।
পরে তাদের দিল্লির গোবিন্দপুরীর একটি পোশাক কারখানা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ দাবি করেছে, জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা জানান, গুল হাসানকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ওই নির্জন স্থানে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে ওয়াসিম তাকে পাথর দিয়ে আঘাত করেন এবং আনসারিও তাকে আঘাত করেন। পরে কাপড়ের বর্জ্য দিয়ে তৈরি রশি দিয়ে গুল হাসানকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এরপর তার মরদেহ কনটেইনারের ভেতর রেখে দেওয়া হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গুল হাসান সিজোফ্রেনিয়া সহ বিভিন্ন মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার মানসিক সমস্যার বিষয়টি সম্পর্কিত বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ এবং পুরো ঘটনা জানতে তদন্ত চলছে।
ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত পাথর, রক্তমাখা পোশাক এবং শ্বাসরোধে ব্যবহৃত কাপড়ের রশি উদ্ধার করা হয়েছে। ফরেনসিক ও প্রযুক্তিগত তথ্যের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাক্রম যাচাই এবং চূড়ান্ত চিকিৎসা প্রতিবেদন পাওয়ার কাজ চলছে।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, হিন্দুস্তান টাইমস
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন