প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার, সঙ্গে তেল শোধন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জ্বালানি আমদানির উৎস বহুমুখীকরণের দিকে গুরুত্বারোপ করেছে সরকার, যাতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। আগামী তিন বছরে ব্যাপক ভূতাত্ত্বিক ও সাইসমিক জরিপ, নতুন কূপ খনন, অফশোর গ্যাস অনুসন্ধান এবং নতুন রিফাইনারি নির্মাণসহ একাধিক উদ্যোগ বাস্তবায়নের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
এই পরিকল্পনার বিষয়ে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় আলোচনার সময় তথ্য তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী।
মন্ত্রী জানান, পূর্ববর্তী সরকারের দীর্ঘদিনের ভুল নীতি, প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা এবং আমদানিনির্ভরতার বিরুদ্ধে গুরুতর সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন হয়েছে। সেই সময় মূলত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও জ্বালানি তেল আমদানির ওপর নির্ভরতা বৃদ্ধি পেলেও স্থলভাগ ও বঙ্গোপসাগরে গ্যাস অনুসন্ধান, তেল পরিশোধন এবং মজুদ সক্ষমতা বৃদ্ধিতে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সংকটের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেল ও এলএনজির স্পট মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে।
তবে সাধারণ মানুষের স্বার্থ বিবেচনায় সরকার বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিয়ে, জ্বালানি তেলের দাম সীমিতভাবে সমন্বয় করেছে এবং গ্যাসের সরবরাহ ও মূল্য অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
সরকারের পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে আগামী তিন বছরে বাপেক্সের মাধ্যমে ২৭০ কিলোমিটার ভূতাত্ত্বিক জরিপ, ৭০০ লাইন কিলোমিটার দ্বিমাত্রিক (টু-ডি) সাইসমিক জরিপ এবং ৭০০ বর্গকিলোমিটার ত্রিমাত্রিক (থ্রি-ডি) সাইসমিক জরিপ সম্পন্ন করানো। তবে এই ছাড়া, বাপেক্সের নিজস্ব রিগ ব্যবহার করে ৬৯টি কূপ খনন ও ৩১টি কূপের ওয়ার্কওভার সম্পন্ন করারও পরিকল্পনা আছে।
এছাড়া, বর্তমানে জ্বালানি অনুসন্ধান কার্যক্রমে সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য নতুন অনুসন্ধান রিগ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সমুদ্র অঞ্চলে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য নতুন করে ‘বাংলাদেশ অফশোর বিডিং রাউন্ড’ ঘোষণা করা হবে এবং দেশের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখেই মডেল প্রোডাকশন শেয়ারিং কনট্রাক্ট (পিএসসি) পরিবর্তন করা হবে।
বাজেটে আরো উল্লেখ করা হয়েছে যে, জ্বালানি আমদানিতে একক উৎসের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বহুমুখীকরণের নীতি অনুসরণ করা হবে। মহেশখালীতে বিদ্যমান দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের সঙ্গে নতুন টার্মিনাল স্থাপনের বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। মাতারবাড়িতে একটি স্থলভিত্তিক (ল্যান্ড-বেজড) এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের জন্য জমি অধিগ্রহণ ও পরামর্শক নিয়োগের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
জ্বালানি তেল পরিবহনে নির্মিত ৬০১ দশমিক ৫০ কিলোমিটার পাইপলাইনের সর্বাধিক ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।
এছাড়া, তেল খালাস কার্যক্রমে সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) সম্পূর্ণভাবে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, চট্টগ্রাম বা উপকূলীয় শিল্পাঞ্চলে ধাপে ধাপে ৫০ লাখ মেট্রিকটন পরিশোধন সক্ষমতার নতুন ক্রুড অয়েল রিফাইনারি নির্মাণ করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরো শক্তিশালী হবে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জন্য ১৭ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকার বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে। আগের অর্থবছরে এই খাতে বরাদ্দ ছিল ১৬ হাজার ৯৫২ কোটি টাকা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন