প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বগুড়ায় বুধবার বিকেল থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত বৃষ্টির ফলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। কখনো মাঝারি আবার কখনো মুষলধারে হওয়া এই বৃষ্টির ফলে মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতার প্রভাব পড়েছে। সাতমাথা সহ শহরের প্রধান সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ার কারণে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় ময়লা পানি সড়কে উপচে পড়ছে। ফলে চলাচলরত পথচারীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বগুড়া আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বুধবার বিকেল তিনটা থেকে রাত পর্যন্ত শহরে ৭৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এদিকে, জলাবদ্ধতার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে বুধবার রাতে শহরের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন। তার সঙ্গে সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তিনি জলাবদ্ধ কবলিত এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি দেখেন এবং ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন।
পরিদর্শনের পর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন জলাবদ্ধতার বর্তমান অবস্থা এবং নাগরিকদের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি নির্দেশ দেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জলাবদ্ধতা দ্রুত নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে। তিনি বলেন, "শহরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার কারণগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে চিহ্নিত করে সমাধানের ব্যবস্থা নিতে হবে।"
পর্যবেক্ষণে জানা যায়, বৃষ্টির তীব্রতা এবং ড্রেনগুলোর পানি নিষ্কাশনের মুখ বন্ধ থাকায় শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথা, শেরপুর রোড, বড়গোলা, সূত্রাপুর, চকসূত্রাপুর, কান্দাপাড়া, পার্ক রোড ও নারুলিসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে যায়। অনেক স্থানেই রাস্তাঘাট পানির নিচে চলে যাওয়ায় রিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ অন্যান্য যানবাহনের চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এসব কারণে, অনেক পথচারীকে হাঁটুসমান পানি পেরিয়ে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে।
এম আর ইসলাম স্বাধীন জানান, বগুড়া মহানগরে জলাবদ্ধতা ও যানজট একদিনের সমস্যা নয়। এই সমস্যা প্রায় ২০ থেকে ২৫ বছরের চলমান বিষয়। তিনি নগরবাসীর কাছে এই সমস্যার সমাধানের জন্য তিন মাসের সময় চেয়েছেন, এবং বলেন যে, "এর মধ্যেই সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে।" তিনি আরও বলেন, মহানগরের অধিকাংশ ড্রেন ফাস্টফুডের পরিত্যক্ত প্যাকেটে ভরপুর হয়ে রয়েছে। এর কারণে পানি নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে, যা জলাবদ্ধতা তৈরি করছে। তিনি আশ্বাস দেন যে, দ্রুত সময়ের মধ্যে যানজট ও জলাবদ্ধতা দূর করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন