প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জ্যামাইকা সরকার আফ্রিকানদের দাসত্বের ইতিহাস এবং এর ক্ষতিপূরণ সম্পর্কিত একটি আবেদন ব্রিটিশ রাজপরিবারের কাছে করতে যাচ্ছে। সংস্কৃতিমন্ত্রী অলিভিয়া গ্রেঞ্জ জানিয়েছেন, সোমবার রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছে এ বিষয়ে একটি আবেদনপত্র জমা দেওয়া হবে।
আবেদনপত্রে জ্যামিকার রাষ্ট্রপ্রধান রাজা চার্লসকে প্রিভি কাউন্সিলের বিচার বিভাগীয় কমিটির (জেসিপিসি) কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন পাঠানোর অনুরোধ করা হবে। প্রশ্নগুলো হলো, জ্যামাইকায় আফ্রিকানদের দাসত্ব ইংরেজ আইনে বৈধ ছিল কি না, দাসত্ব আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছিল কি না এবং ব্রিটেনের এখন কোনো আইনি প্রতিকার দেওয়ার দায়িত্ব আছে কি না।এই খবর বলা হয়েছে।
গ্রেঞ্জ উল্লেখ করেছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে আফ্রিকান পূর্বপুরুষদের ওপর শত শত বছর ধরে চলা ভয়াবহ নির্যাতনের একটি দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয়ে সমাধানের পথ তৈরি হতে পারে। তিনি আরো জানান, ঔপনিবেশিক আমলে জ্যামাইকা থেকে নিয়ে যাওয়া প্রত্নবস্তু দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়েও ব্রিটিশ মিউজিয়ামের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন।
তবে আবেদনপত্রটিতে সরাসরি কোনো অর্থ ক্ষতিপূরণ দাবি করা হচ্ছে না। আবেদনটি প্রথমে রাজা চার্লসের কাছে যাবে এবং পরে তিনি এটি জেসিপিসির কাছে পাঠাবেন।
এ ক্ষেত্রে কোনো বিষয় জেসিপিসির কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় রাজা চার্লসের ব্যক্তিগতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নেই।
গ্রেঞ্জ বলেন, জেসিপিসি এসব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করা হবে। আবেদনপত্রটি সঠিকভাবে দাখিল করা নিশ্চিত করতে বাকিংহাম প্যালেস জ্যামাইকার গভর্নর জেনারেলের কার্যালয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।
রাজপ্রাসাদের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, রাজা তৃতীয় চার্লস দাসপ্রথার ইতিহাস সম্পর্কে মানুষের মধ্যে আরো সচেতনতা বাড়ানোর এবং ঐতিহাসিক অন্যায়ের প্রভাব মোকাবেলায় বর্তমান প্রজন্মের জন্য উপায় খুঁজে বের করার বিষয়ে তার ব্যক্তিগত ও আন্তরিক অঙ্গীকারের কথা বহুবার জানিয়েছেন।
১৮৩৩ সালে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বেশিরভাগ অঞ্চলে দাসপ্রথা বিলুপ্ত করা হয়।
ওই সময় ব্রিটিশ সরকার দাস মালিকদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২ কোটি পাউন্ড দেয়। এই অর্থের জন্য ব্রিটিশ সরকার যে ঋণ নিয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত ২০১৫ সালে পরিশোধ করা হয়।
জ্যামাইকার সংস্কৃতিমন্ত্রী অলিভিয়া গ্রেঞ্জ বলেন, দাসপ্রথার সময় আফ্রিকানদের সম্পত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হতো। তিনি বলেন, ‘২০১৫ সাল পর্যন্ত ব্রিটেন দাস মালিকদের অর্থ পরিশোধ করেছিল, কারণ আমাদের সম্পত্তি হিসেবে গণ্য করা হতো।’
জ্যামাইকার পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, দাসপ্রথা বিলুপ্তির সময় যদি দাস মালিকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে যেসব মানুষকে দাস হিসেবে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং যাদের পূর্বপুরুষরা এই অন্যায়ের শিকার হয়েছিলেন, তাদের কেন ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না?
এদিকে ঔপনিবেশিক আমলে জ্যামাইকা থেকে ব্রিটেনে নিয়ে যাওয়া বিভিন্ন প্রত্নবস্তু দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা করতে জ্যামাইকার প্রতিনিধিরা ব্রিটিশ মিউজিয়ামের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। জ্যামাইকার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এসব প্রত্নবস্তু অমূল্য এবং দেশটির ইতিহাস ও ঐতিহ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এগুলো জ্যামাইকায় ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করা হচ্ছে।
এর আগে ২০১৫ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন জ্যামাইকা সফরের সময় ঐতিহাসিক দাস ব্যবসায় ব্রিটেনের ভূমিকার জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে দেন। জ্যামাইকার সংসদে দেওয়া এক ভাষণে ক্যামেরন বলেন, দাসপ্রথা ‘এর সব রূপেই ঘৃণ্য’।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, জ্যামাইকা এই ‘বেদনাদায়ক উত্তরাধিকার’ পেছনে ফেলে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে পারবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন