প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফুসফুসের ক্যানসার একটি প্রাণঘাতী রোগ, যেটি বিশ্বের অন্যতম। তবে, এই রোগের বড় সমস্যা হলো, শুরুর দিকে এর লক্ষণগুলো সাধারণ ঠান্ডা-কাশি বা মৌসুমি অসুস্থতার মতো হয়ে থাকে, যার কারণে অধিকাংশ মানুষ এটি গুরুত্ব দেন না। ফলে রোগটি অনেক দেরিতে ধরা পড়ে। অথচ যদি এটি প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা যায়, তাহলে চিকিৎসার সাফল্যের সম্ভাবনাও অনেক বেড়ে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফুসফুসের ক্যানসার প্রথমে শরীরে নীরবে বিস্তার লাভ করে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ফুসফুসের ক্ষতি করে। তাই কিছু নির্দিষ্ট উপসর্গ যদি দীর্ঘদিন ধরে দেখা দেয়, তাহলে তা অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া খুবই জরুরি।
দীর্ঘদিনের কাশি হলে সতর্ক হোন। সাধারণ সর্দি-কাশি সাধারণত এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে কমে আসে। কিন্তু যদি কাশি কয়েক সপ্তাহ ধরে স্থায়ী হয় বা সময়ের সঙ্গে আরও তীব্র হতে থাকে, তাহলে এ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। অনেক সময় কাশি গভীর, কর্কশ বা ঘনঘন হতে পারে। অনেকে হলে এটিকে আবহাওয়ার পরিবর্তন বা অ্যালার্জির সমস্যা মনে করে এড়িয়ে যান। তবে, যদি দীর্ঘদিন কাশি থাকে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
ফুসফুসের ভেতরে টিউমারের উপস্থিতির ইঙ্গিত হতে পারে ঘন ঘন নিউমোনিয়া বা ব্রঙ্কাইটিসে আক্রান্ত হওয়া, বিশেষ করে যদি ফুসফুসের একই অংশে বারবার সংক্রমণ দেখা দেয়। সাধারণত বড় ধরনের সংক্রমণের পর শরীর ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে। কিন্তু অল্প সময়ের ব্যবধানে একই সমস্যা ফিরে এলে তা কোনোভাবেই অবহেলা করা উচিত নয়।
বুকে ব্যথা বা অস্বস্তি ফুসফুসের ক্যানসারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। কখনো চাপ লাগার মতো আবার কখনো তীক্ষ্ণ ব্যথা অনুভূত হতে পারে। হাসি, কাশি বা গভীর শ্বাস নেওয়ার সময় ব্যথা বেড়ে যেতে পারে। ফুসফুসের টিস্যু বা আশপাশের স্নায়ু আক্রান্ত হলে এমন উপসর্গ দেখা যেতে পারে।
ঠান্ডা লাগলে বা গলায় সংক্রমণ হলে সাময়িকভাবে গলা বসে যাওয়া স্বাভাবিক। তবে, যদি কণ্ঠস্বর দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কর্কশ থাকে বা স্বাভাবিকের তুলনায় বদলে যায়, তাহলে তা ফুসফুসের টিউমার কাছাকাছি স্নায়ুতে চাপ সৃষ্টি করার লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ নেওয়া উচিত।
হাঁটাহাঁটি, সিঁড়ি ভাঙা বা দৈনন্দিন কাজের সময় যদি আগের তুলনায় সহজেই শ্বাসকষ্ট অনুভূত হয় এবং সময়ের সঙ্গে তা বৃদ্ধি পেতে থাকে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। টিউমার বড় হলে শ্বাসনালিতে চাপ পড়লে, ফলে ফুসফুসের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে।
অকারণে ওজন কমে যাওয়া একটি সতর্কসংকেত হতে পারে, যদি খাদ্যাভ্যাস বা ব্যায়ামে কোনো পরিবর্তন না এনে কিছু সপ্তাহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ওজন কমে যায়। ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি শরীরের বিপাকে পরিবর্তন ঘটায়, ফলে বেশি শক্তি ব্যয় হয়। এতে নিয়মিত খাবার খেলেও শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি ঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারে না এবং ওজন কমতে শুরু করে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, এসব উপসর্গের একটি বা একাধিক যদি দীর্ঘদিন ধরে থাকে, তাহলে নিজে থেকে ওষুধ খেয়ে সময় নষ্ট না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। কারণ প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত হলে চিকিৎসা সহজ হয় এবং সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনাও অনেক বেড়ে যায়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন