প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী সাময়িকী ‘দ্য ইকোনমিস্ট’-এর সাম্প্রতিক একটি নিবন্ধে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে একসময়ের সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠন ‘মুসলিম ব্রাদারহুড’ বর্তমানে চরম অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং কাঠামোগত সংকটের সম্মুখীন হয়েছে।
এই সংগঠনটি, যা প্রায় এক শতাব্দী প্রাচীন, এখন বিভক্ত হয়ে নিজেদের ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বলতম অবস্থানে এসে দাঁড়িয়েছে। এক সময় মিশরসহ গোটা আরব বিশ্বে যাদের ব্যাপক রাজনৈতিক আধিপত্য ছিল, তারা আজ অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার কঠিন লড়াইয়ে নেমেছে।
নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে, এই পতনের অন্যতম প্রধান কারণ হলো তাদের অভ্যন্তরীণ তীব্র বিভক্তি। ব্রাদারহুডের শীর্ষ নেতৃত্ব বর্তমানে দুটি প্রধান শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়েছে, একটির কেন্দ্র লন্ডনে এবং অন্যটির অবস্থান তুরস্কের ইস্তাম্বুলে।
নেতৃত্বের বৈধতা, তহবিলের নিয়ন্ত্রণ এবং সংগঠনের ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে এই দুটি শিবিরের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব চলছে। প্রবীণ নেতাদের মধ্যে ক্ষমতা দখলের লড়াই এবং দিকনির্দেশনাহীনতার কারণে সংগঠনের তৃণমূল পর্যায়ের তরুণ কর্মীরা ক্রমশ হতাশ হয়ে পড়ছেন। এর ফলে অনেকেই সংগঠন থেকে নিজেদের পুরোপুরি গুটিয়ে নিচ্ছেন।
২০১৩ সালে মিশরের রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে উৎখাত হওয়ার পর থেকেই ব্রাদারহুড গত কয়েক বছর ধরে দেশটির সরকারের ধারাবাহিক ও কঠোর দমন-পীড়নের শিকার হয়ে আসছে। সংগঠনের শীর্ষ নেতাসহ হাজার হাজার নেতাকর্মী এই সময়ে কারাগারে বন্দি হয়েছেন অথবা বিদেশে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন।
অবশ্য, আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে সংগঠনটির উপর একটি বড় ধরনের ধাক্কা পড়েছে। এক সময়ে তুরস্ক ও কাতার মুসলিম ব্রাদারহুডকে প্রকাশ্য সমর্থন ও আশ্রয় দিলেও, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তারা মিশর এবং উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিয়েছে। এতে করে ইস্তাম্বুল এবং দোহার মতো নির্বাসিত ব্রাদারহুড নেতাদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলগুলোতে তাদের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে সীমিত হয়ে পড়েছে।
এছাড়া, শুধু মিশর নয়, বরং তিউনিসিয়া ও মরক্কোর মতো উত্তর আফ্রিকার অন্যান্য দেশগুলোতেও ব্রাদারহুডের রাজনৈতিক ও আদর্শিক মিত্ররা ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। দ্য ইকোনমিস্টের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতি, রাষ্ট্রীয় কঠোর নজরদারি এবং নতুন প্রজন্মের ভিন্ন রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার কারণে মুসলিম ব্রাদারহুড সাধারণ মানুষের কাছে তাদের পুরনো আবেদন হারিয়ে ফেলেছে। ধারাবাহিক ব্যর্থতা ও বিভক্তির প্রেক্ষিতে সংগঠনটি আদৌ এই গভীর সংকট থেকে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি না, তা নিয়ে এখন আন্তর্জাতিক মহলে বড় ধরনের সংশয় তৈরি হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন