প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশের টেস্ট খেলার খুব একটা সুযোগ হয় না, কারণ অস্ট্রেলিয়া বড় দল। শেষবার বাংলাদেশের টাইগাররা অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়েছিল ২০১৭ সালে, যখন তারা ঘরের মাঠে অজিদের বিরুদ্ধে খেলেছিল। সেই সময় মিরপুরে তারা টেস্ট ম্যাচ জিতে অজিদের বিরুদ্ধে ঘরের মাটিতে লাল বলে জয়ের খরা কাটিয়েছিল। তবে, অপেক্ষা ছিল অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয়ের, যা বাংলাদেশ দলের জন্য দীর্ঘ সময়ের অপেক্ষা ছিল।
বাংলাদেশ দলকে সেই মাহেন্দ্রক্ষণের জন্য ২৩ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। ২০০৩ সালের পর এবারই প্রথমবার অজিদের মাটিতে টেস্ট খেলার সুযোগ পেল লিটন-শান্তরা। সেই সুযোগে বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা বাজিমাত করেছে। শান্ত বাহিনী স্বাগতিকদের প্রথম টেস্টে ৮ উইকেটে পরাজিত করেছে।
ডারইউনে আগে ব্যাটিং করতে নেমে অস্ট্রেলিয়া ১৯৮ রান করেছে। এরপর নিজেদের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ৪২৬ রান করে লিড পায়। দ্বিতীয় ইনিংসে স্বাগতিকরা ২৮৪ রানে অলআউট হলে টাইগারদের জন্য ৫৬ রানের মামুলি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। বাংলাদেশ ৯ উইকেটসহ পুরো এক দিন বাকি থাকতেই সেই লক্ষ্য পূরণ করে জয় তুলে নিয়েছে।
সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশের তানজিদ তামিম শুরুতেই সাজঘরে ফিরে যান। দ্বিতীয় ওভারে তিনি হ্যাজেলউডের বলে বোল্ড হন। তবে, দলে নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিংয়ে মুমিনুল ও সাদমান ইসলাম জয়ের দিকে নিয়ে যেতে থাকেন। মুমিনুলের ৩০ রান এবং সাদমানের অপরাজিত ২৫ রানের সুবাদে বাংলাদেশ ৯ উইকেটে বড় জয় পায়।
এর আগে রোববার (১৬ আগস্ট) অস্ট্রেলিয়া ৪ উইকেটে ১৬১ রান নিয়ে চার দিনের খেলা শুরু করে। ৭২ বলে ৩০ রান করা অ্যালেক্স ক্যারিকে ফিরিয়ে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। মিরাজ টানা আরও ২টি উইকেট তুলেছিলেন।
২১ বলে ৫ রান করা বিউ ওয়েবস্টার এবং ৩২ বলে ৮ করা অজি অধিনায়ক প্যাট কামিন্সকেও বিদায় করেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
এক প্রান্ত আগলে ক্যামেরন গ্রিন লড়াই চালিয়ে গেছেন। তিনি রান বের করতে সক্ষম হন। সুযোগ বুঝে তিনি বাউন্ডারি হাঁকান। তিনি ফিফটি ছুঁয়ে ফেলেছিলেন। আরেক প্রান্তে উইকেট পড়লেও গ্রিন অটল থেকে লড়াই চালিয়ে গেছেন।
ক্যামেরন গ্রিনকে শেষ দিকে ভালো সঙ্গ দিয়েছেন মিচেল স্টার্ক। দুজনের ব্যাটে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশের লিড ছাড়িয়ে নিজেদের লিড নেয়। গ্রিন এবং স্টার্ক দুজনেই লড়াই চালিয়ে যান এবং উইকেটের চারপাশে দারুণ শট খেলে রান তৈরি করতে থাকেন।
তবে স্টার্ক ইনিংস লম্বা করতে পারেননি এবং ৩৪ বলে ১৮ রান করে আউট হন। কিন্তু ক্যামেরন গ্রিন সেঞ্চুরি তুলে নেন। সেঞ্চুরির পর বেশিক্ষণ পিচে থাকতে পারেননি তিনি এবং হাসান মাহমুদরের বলে ২০১ বলে ১০৪ রান করে বোল্ড হয়ে যান। অজিরা এই পরিস্থিতে চাপে পড়ে যায়। শেষ দিকে নাথান লায়ন হ্যাজেলউডের সঙ্গে লড়াই করার চেষ্টা করে, কিন্তু মিরাজের বলে লেগ বিফোর হয়ে আউট হন। এর ফলে অস্ট্রেলিয়া ২৮৪ রানে অলআউট হয়ে যায়। বাংলাদেশের জন্য ৫৬ রান চূড়ান্ত লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ হয়।
বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৫ উইকেট শিকার করেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। এছাড়াও হাসান মাহমুদ তিনটি ও তাসকিন ও তাইজুল মিলে বাকি দুটি উইকেট নিয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন