প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজশাহীর বাগমারায় ডিশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট, চাঁদাবাজি ও মারধরের অভিযোগে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার বাগমারা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী গোয়ালকান্দি ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি আসাদুল ইসলাম লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি ছাত্রদল ও যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় দলীয় আদর্শ অনুসরণ করে আসছেন এবং কখনো আইন নিজের হাতে তুলে নেননি।
লিখিত বক্তব্যে আসাদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ডিশ ব্যবসাকে কেন্দ্র করে ফাহিমা, তার ছেলে শাওন, ফাহিম এবং তাদের সহযোগীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও এলাকার মানুষের বিরোধ চলে আসছে। তিনি দাবী করেন, অতীতেও এ ব্যবসাকে কেন্দ্র করে একাধিক বিরোধ, মামলা, সমঝোতা ও অর্থ লেনদেনের ঘটনা ঘটেছে। তিনি এসব বিষয় নিরপেক্ষভাবে তদন্তের আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে যে ডিশ লাইনটি তিনি পরিচালনা করছেন, সেটি পূর্বে ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলমগীর সরকারের লোকজন পরিচালনা করতেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তারা ব্যবসা ছেড়ে দিলে দীর্ঘদিন সংযোগ বন্ধ ছিল। পরে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও গ্রাহকদের অনুরোধে কয়েক লাখ টাকা বিনিয়োগ করে নতুন যন্ত্রপাতি স্থাপন করে তিনি পুনরায় ডিশ লাইন চালু করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আসাদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, গত ১৭ জুলাই রাতে তিনি ডিশ কন্ট্রোল রুমে অবস্থানকালে পারভেজ রানার নেতৃত্বে শাহীন, সুমনসহ কয়েকজন সেখানে এসে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলার কারণে তিনি গুরুতর আহত হন। একই সময়ে ডিশ লাইনের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ভাঙচুর, মালামাল লুটপাট এবং নগদ অর্থ নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন। তিনি দাবি করেন, স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন, তার বিরুদ্ধে পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলন করে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর। তিনি সমঝোতার জন্য কাউকে ডাকেননি এবং অভিযুক্তদের সঙ্গে তার কোনো বৈঠকও হয়নি। আসাদুল ইসলাম জানান, অভিযুক্তদের মধ্যে একজন অতীতে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং বর্তমানে বিএনপির নাম ব্যবহার করে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছেন। বিষয়টি নিয়েও তদন্তের দাবি জানান তিনি।
তিনি প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থার কাছে ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেন, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, চিকিৎসা নথি এবং অন্যান্য আলামত যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হোক। একই সঙ্গে হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি করেন।
সাংবাদিকদের প্রতি তিনি উভয় পক্ষের বক্তব্য ও প্রকৃত তথ্য যাচাই করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানান। সংবাদ সম্মেলনে আসাদুল ইসলাম বলেন, তিনি প্রতিশোধ চান না, তিনি ন্যায়বিচার চান। প্রকৃত অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন আসাদুল ইসলামের মা, সন্তান, গোয়ালকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুর রহমান, জুলাই যোদ্ধা ও ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুনসুর রহমান, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রায়হান শেখ, ভবানীগঞ্জ পৌর যুবদলের সদস্য সচিব জহুরুল ইসলাম, ওলামা দল রাজশাহী জেলা শাখার সদস্য মুখলেছুর রহমান, গোয়ালকান্দি ইউনিয়ন কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান সহ আরও অনেকে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন