ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আদমজী ইপিজেডের রপ্তানি টানা দ্বিতীয়বার ছাড়াল ১ বিলিয়ন ডলার


আদমজী ইপিজেডের রপ্তানি টানা দ্বিতীয়বার ছাড়াল ১ বিলিয়ন ডলার

 

দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি ও কর্মসংস্থান কেন্দ্র হিসেবে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) অধীন আদমজী ইপিজেড ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নারায়ণগঞ্জের আদমজী জুট মিলের পরিত্যক্ত শিল্পভূমির উপর গড়ে ওঠা এই ইপিজেডটির রপ্তানির পরিমাণ টানা দ্বিতীয়বারের মতো ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে।

বর্তমানে ইপিজেডটির ৪৭টি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন প্রায় ৭৬ হাজার মানুষ। এই সব প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন ধরনের পোশাক, ব্রাইডাল পোশাক, সেফটি ফুটওয়্যার, অটোমোটিভ যন্ত্রাংশ এবং অন্যান্য বিশেষায়িত পণ্য বিশ্ববাজারে নিয়মিতভাবে রপ্তানি হচ্ছে।

আরও পড়ুন: রাজবাড়ীতে দুর্বৃত্তের গুলিতে যুবক নিহতের ঘটনায় মামলা দায়ের

বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) তথ্য অনুযায়ী, আদমজী ইপিজেডে মোট বিনিয়োগ ৮৪৭ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছে গেছে ইতোমধ্যে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত এখান থেকে রপ্তানি হয়েছে মোট ১১ দশমিক ১১২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।

ইপিজেডটির বার্ষিক রপ্তানি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। এবছরের অর্থবছরে তা আরও বেড়ে ১ দশমিক ১৭৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা মূল প্রকল্প প্রস্তাবে নির্ধারিত ৭৫০ মিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি।

আদমজী ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মো. আবদুর রহমান মন্তব্য করেছেন যে, টানা দ্বিতীয় অর্থবছরে ইপিজেডটির রপ্তানি ১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। প্রকল্প প্রস্তাবে ইপিজেডটি পুরোপুরি চালু হলে বছরে প্রায় ৭৫০ মিলিয়ন ডলার রপ্তানির ধারণা করা হয়েছিল। তবে, প্রতিষ্ঠার দুই দশক পূর্ণ হওয়ার আগেই ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমানে নির্মাণাধীন ১০টি কারখানা উৎপাদনে গেলে বার্ষিক রপ্তানি দেড় বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ এখনও বেশ ভালো। তথাপি, ইপিজেডের সকল প্লট ইতোমধ্যে বরাদ্দ হয়ে গেছে। তাই, আমরা ইপিজেডটি আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছি।

আরও পড়ুন: বন্ধ শিল্পে ঋণ বিতরণে ধীরগতি, পাঁচ মাসে মাত্র ৫৬১ কোটি টাকা

বেপজার তথ্য অনুযায়ী, ২৯২ একর আয়তনের আদমজী ইপিজেডে বর্তমানে ৭৬ হাজার ২৭ জন কর্মরত আছেন। যদি নির্মাণাধীন ১০টি কারখানা উৎপাদনে যায়, তবে এখানে সরাসরি কর্মসংস্থান ১ লাখ ছাড়াতে পারে।

এখানকার কারখানাগুলোতে টমি হিলফিগার, রালফ লরেন, মাইকেল করস ও ভ্যান হিউসেনের মতো বৈশ্বিক ব্র্যান্ডের জন্য পোশাক তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি এখানে তৈরি হচ্ছে সেফটি ইকুইপমেন্ট, ফুটওয়্যার ও অটোমোটিভ পণ্য। এসব পণ্য প্রচলিত পোশাকের বাইরে বিশেষায়িত ও উচ্চমূল্যের রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনছে।

উল্লেখ্য, ১৯৫০ সালে সিদ্ধিরগঞ্জে আদমজী জুট মিলস প্রতিষ্ঠা করা হয় আদমজী পরিবারের দ্বারা। পরবর্তীতে এটিই বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পাটকল হিসেবে পরিচিতি পায়। প্রায় ১ হাজার একর জমির উপর গড়ে ওঠা মিলটি শ্রমিক আবাসন, বাজার ও স্কুলসহ একটি বিশাল শিল্পাঞ্চলে পরিণত হয়েছিল।

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে জাতীয়করণ করে বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) অধীনে নেওয়া হয়েছিল মিলটিকে। কিন্তু, আর্থিক লোকসান, ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা ও শ্রমিক অসন্তোষের কারণে মিলটি ধীরে ধীরে সংকটে পড়ে। শেষ পর্যন্ত ২০০২ সালের ৩০ জুন মিলটি বন্ধ করে দেওয়া হয়, যখন সেখানে কর্মরত ছিলেন প্রায় ২০ হাজার থেকে ২৫ হাজার শ্রমিক।

আরও পড়ুন: ক্যান্সার চিকিৎসায় স্বাস্থ্য খাতের বাজেটের বড় অংশ ব্যয় হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

পরে, পরিত্যক্ত শিল্পভূমিটি নতুনভাবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ২০০৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর জমিটি বেপজার কাছে হস্তান্তরিত হয় এবং ২০০৬ সালের ১৩ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে আদমজী ইপিজেড উদ্বোধন করা হয়।

২০০৫-০৬ অর্থবছরে আদমজী ইপিজেডে বিনিয়োগ ছিল মাত্র ৪ মিলিয়ন ডলার এবং রপ্তানি ছিল শূন্য দশমিক ২৩ মিলিয়ন ডলার।

দুই দশকের ব্যবধানে পাটকলের স্থান দখল করেছে আধুনিক কারখানা। বর্তমানে একই জমিতে ৪৭টি কারখানা চালু রয়েছে, যেখানে কর্মসংস্থান ঘটেছে ৭৬ হাজারেরও বেশি মানুষের।

মূলত, ঢাকা ও চট্টগ্রামের মাঝামাঝি কৌশলগত অবস্থান, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং আধুনিক সুবিধার কারণে স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করেছে আদমজী ইপিজেড। বেপজার প্রত্যাশা, নির্মাণাধীন ১০টি কারখানা উৎপাদনে গেলে ইপিজেডটিতে কর্মসংস্থান ১ লাখেরও বেশি মানুষের হবে; সেইসঙ্গে বার্ষিক রপ্তানি ছাড়াবে দেড় বিলিয়ন ডলার।

আরও পড়ুন: ককরোচদের মোকাবিলায় এবার ‘লাল হিট’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নে গাইবান্ধায় অবৈধ ইটভাটায় অভিযান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:৩৩ পি.এম


হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নে গাইবান্ধায় অবৈধ ইটভাটায় অভিযান

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে, যা হাইকোর্টের নির্দেশনার বাস্তবায়নের একটি অংশ। এই অভিযানের প্রথম ধাপে উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের বাটি গ্রামে অবস্থিত এআরবি ব্রিকস ইটভাটার চিমনি ভাঙার কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

রবিবার (১৬ আগস্ট) দুপুর ১ টা ৪৫ মিনিটে এই অভিযান পরিচালনা করেন গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার রোমেন পাল। জেলা পুলিশ থেকে এসআই নাজমুল ইসলাম এবং আনসার সদস্য নায়েক মো. কাসেম অভিযানে সহযোগিতা প্রদান করেন।

পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গাইবান্ধা জেলায় মোট ১২৫টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে বৈধ ইটভাটা মাত্র ১৬টি এবং হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ১০৯টির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা রয়েছে।

গাইবান্ধার সহকারী কমিশনার ও ম্যাজিস্ট্রেট রোমেন পাল বলেন, "হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সাঘাটায় প্রথম পর্যায়ে এআরবি ব্রিকসের চিমনি ভাঙার মধ্য দিয়ে অভিযান শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে হাইকোর্টের নির্দেশনার আওতাধীন অন্যান্য অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধেও অভিযান পরিচালনা করা হবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলিতে একধাপ অগ্রগতি, সুযোগ মিলবে ৩ এলাকায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:৩৪ পি.এম


এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলিতে একধাপ অগ্রগতি, সুযোগ মিলবে ৩ এলাকায়

বেসরকারি স্কুল ও কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি আবেদন গ্রহণের পরিকল্পনা করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। এই আবেদন গ্রহণ আগামী ২১ আগস্ট থেকে শুরু হবে। যদি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়া যায়, তবে চলতি সপ্তাহেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হতে পারে। রবিবার (১৬ আগস্ট) শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সঙ্গে এক বৈঠকে মাউশি মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। সোমবার (১৭ আগস্ট) মন্ত্রণালয়ে বিজ্ঞপ্তির আনুষ্ঠানিক খসড়া জমা দেওয়ার কাজ শুরু করবে মাউশি। প্রস্তাবিত খসড়া বলছে, ২১ আগস্ট থেকে বদলির আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং এটি চলবে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত। আবেদন জমা দেওয়ার জন্য মোট সাত দিন সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। তার পরবর্তী সাত থেকে ১০ দিনের মধ্যে আবেদনসমূহ যাচাই-বাছাই করা হবে। যাচাই-বাছাই শেষে শিক্ষকদের বদলি কার্যকর করা হবে। নীতিমালার ভিত্তিতে, শিক্ষকরা নির্ধারিত তিনটি এলাকার বাইরে কোথাও বদলির আবেদন করতে পারবেন না। যদি কেউ নির্ধারিত এলাকার বাইরে আবেদন করতে চান, তাহলে সফটওয়্যার ‘আবেদন যোগ্য নন’ হিসেবে নোটিফিকেশন দেখাবে। মাউশি সূত্র জানায়, শিক্ষকদের বদলি নীতিমালা অনুযায়ী, নিজ জেলা, স্বামী বা স্ত্রীর নিজ জেলা এবং স্বামী-স্ত্রীর কর্মস্থলের বাইরে অন্য কোথাও বদলি আবেদন করা যাবে না। এই উল্লেখিত এলাকাগুলোর বাইরে আবেদন গ্রহণ করবে না সফটওয়্যার। সফটওয়্যারটি এভাবেই প্রস্তুত করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিক্ষোভে জড়িত থাকার অভিযোগে ইরানে এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:৩৪ পি.এম


বিক্ষোভে জড়িত থাকার অভিযোগে ইরানে এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

ইরান সরকার বিরোধী বিক্ষোভের সময় গাড়ি দিয়ে কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে চাপা দেওয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার খবর দিয়েছে দেশটির বিচার বিভাগ।

গত জানুয়ারি মাসে এই ঘটনাটি ঘটে এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। রোববার (১৬ আগস্ট) বিচার বিভাগের ওয়েবসাইট মিজান অনলাইন জানায়, শাহরাম সাদেগি নামের ওই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড আজ সকালে কার্যকর করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ‘ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে কর্মকাণ্ড পরিচালনা’ করার অভিযোগ ছিল।

বিচার বিভাগের দাবি অনুযায়ী, গত ৮ জানুয়ারি তেহরানের পশ্চিমে কারাজ শহরে বিক্ষোভের সময় সাদেগি গাড়ি চালিয়ে কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে চাপা দেয়। এর ফলে সাতজন পুলিশ সদস্য আহত হয়।

জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে গত ডিসেম্বরের শেষের দিকে ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে সেই বিক্ষোভ দ্রুত সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। ৮ ও ৯ জানুয়ারি এই বিক্ষোভ সবচেয়ে ব্যাপক আকার ধারণ করে।

এছাড়া, ইরানি কর্তৃপক্ষ জানায় যে, ওই বিক্ষোভ ও সহিংসতায় ৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। সরকার এই ঘটনাগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পরিকল্পিত ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তবে বিদেশভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো দাবি করেছে যে, বিক্ষোভকারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর ইরানে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা ক্রমবর্ধমান। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের ইরানে হামলার মধ্য দিয়ে এই যুদ্ধ শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে কার্যকর করা মৃত্যুদণ্ডের বড় একটি অংশের সঙ্গে ওই বিক্ষোভের সম্পর্ক রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ইরান হিউম্যান রাইটস এবং প্যারিসভিত্তিক টুগেদার অ্যাগেইনস্ট দ্য ডেথ পেনাল্টি (ইসিপিএম)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ইরানে অন্তত ১ হাজার ৬৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। ১৯৮৯ সালের পর এটি ইরানে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সর্বোচ্চ সংখ্যা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল-এর তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা অনুযায়ী বিশ্বে চীনের পর ইরানের অবস্থান দ্বিতীয়।

সূত্র: এএফপি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকারি ক্রয়ব্যবস্থা আধুনিক করতে আসছে ই-জিপি ২.০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:৩৬ পি.এম


সরকারি ক্রয়ব্যবস্থা আধুনিক করতে আসছে ই-জিপি ২.০

সরকার ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ই-জিপি) ২.০ চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করে দেশের সরকারি ক্রয়ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও নাগরিকবান্ধব করতে আগ্রহী। এই উদ্যোগের জন্য একটি রোডম্যাপও তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি, সরকারি ক্রয় আইন ও বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

রোববার (১৬ অগাস্ট) গণমাধ্যমের সাথে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির (বিপিপিএ) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সাঈদ মো. কামরুজ্জামান এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, ২০০১ সালে যাত্রা শুরু করা সরকারি ক্রয়ব্যবস্থা বর্তমানে দেশের ডিজিটাল সুশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাতে পরিণত হয়েছে এবং এ খাতে সংস্কার এখনও চলমান রয়েছে।

কামরুজ্জামান জানান, সরকারি ক্রয়ব্যবস্থার সংস্কার ২০০৩ সালের সরকারি ক্রয় প্রবিধানের মাধ্যমে শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে ২০০৬ সালে সরকারি ক্রয় আইন এবং ২০০৮ সালে সরকারি ক্রয় বিধিমালা প্রণীত হয়। সর্বশেষ ২০২৫ সালের সরকারি ক্রয় বিধিমালা এবং সরকারি ক্রয় আইন সংশোধনের মাধ্যমে এ প্রক্রিয়া আরও সমৃদ্ধ করা হয়েছে।

২০২৩ সালে বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিটকে (সিপিটিইউ) একটি স্বায়ত্তশাসিত নিয়ন্ত্রক সংস্থায় রূপান্তর করা হয়। এর ফলে সংস্থাটির দায়িত্ব ও কার্যপরিধি বেড়ে যায়।

বিপিপিএ কর্তৃপক্ষ জানান, সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা, নতুন উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করা এবং সরকারি ক্রয়ব্যবস্থাকে আরও আধুনিকীকরণের জন্য সরকার একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটি সরকারি ক্রয় আইন ও সরকারি ক্রয় বিধিমালা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের সুপারিশ করবে। বিপিপিএ এসব সংস্কারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

সরকারি ক্রয়ের পরিধি গত দুই দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, বলে মন্তব্য করেছেন কামরুজ্জামান। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ২০০৩ সালে সরকারি ক্রয়ের বার্ষিক বাজার ছিল প্রায় ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার। ২০১০ সালে এটি বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজার কোটি ডলারে এবং বর্তমানে এর পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছেছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, জাতীয় বাজেট ও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সরকারি ক্রয়ের পরিমাণও বাড়বে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, উন্নত প্রযুক্তি এবং দক্ষ জনবল।

বিপিপিএ সম্প্রতি এই লক্ষ্যে তিনটি অংশীজন পরামর্শ কর্মশালার আয়োজন করেছে। এসব কর্মশালায় ই-জিপি ব্যবস্থার উন্নয়ন, বাধ্যতামূলক ই-জিপির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং বিপিপিএ’র প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।

সরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি খাত, শিক্ষাবিদ ও ক্রয় বিশেষজ্ঞরা এসব কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন এবং সেখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ ওঠে।

তিনি টেকসই ক্রয়ব্যবস্থার বিষয়ে বলেন, সরকারি ক্রয় শুধুমাত্র ব্যয় সাশ্রয়, দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং এটিকে দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত, সামাজিক ও অর্থনৈতিক মূল্য সৃষ্টির পাশাপাশি একটি কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

তার মতে, সরকারি ক্রয়ব্যবস্থায় টেকসই উন্নয়নের নীতি অন্তর্ভুক্ত করা, পরিবেশবান্ধব ও জলবায়ুসহনশীল ক্রয়ব্যবস্থার প্রসার, উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা, স্থানীয় শিল্পকে সহায়তা দেওয়া, ডিজিটাল ক্রয়ব্যবস্থা সম্প্রসারণ এবং পুরো প্রক্রিয়ায় অর্থের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার প্রয়োজন রয়েছে।

এসডিজির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিপিপিএ সরকারি ক্রয়ব্যবস্থার সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে যাবে বলেও তিনি জানান।

সরকারি ক্রয়ব্যবস্থার ডিজিটাল রূপান্তরের অগ্রগতি তুলে ধরে কামরুজ্জামান বলেন, ২০১০ সালে একটি সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে গড়ে প্রায় ১০০ দিন লেগে যায়। বর্তমানে এটি কমে ৫৪ দিনে এসে পৌঁছেছে।

ই-জিপি চালুর আগে মূল দরপত্রের মেয়াদের মধ্যে মাত্র ১২ শতাংশ চুক্তি স্বাক্ষরিত হতো, কিন্তু বর্তমানে এ হার ৯৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

এছাড়া, চুক্তি প্রদানসংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের হার ১৫ শতাংশ থেকে বেড়ে শতভাগে পৌঁছেছে এবং দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের হারও ২০ শতাংশ থেকে বেড়ে শতভাগে উন্নীত হয়েছে।

বিপিপিএ প্রধান জানান, এসব পরিবর্তনের ফলে সরকারি ক্রয়ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, দক্ষতা, জবাবদিহি ও প্রতিযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%