০৭:৩০ পি.এম
দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি ও কর্মসংস্থান কেন্দ্র হিসেবে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) অধীন আদমজী ইপিজেড ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নারায়ণগঞ্জের আদমজী জুট মিলের পরিত্যক্ত শিল্পভূমির উপর গড়ে ওঠা এই ইপিজেডটির রপ্তানির পরিমাণ টানা দ্বিতীয়বারের মতো ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে।
বর্তমানে ইপিজেডটির ৪৭টি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন প্রায় ৭৬ হাজার মানুষ। এই সব প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন ধরনের পোশাক, ব্রাইডাল পোশাক, সেফটি ফুটওয়্যার, অটোমোটিভ যন্ত্রাংশ এবং অন্যান্য বিশেষায়িত পণ্য বিশ্ববাজারে নিয়মিতভাবে রপ্তানি হচ্ছে।
আরও পড়ুন: রাজবাড়ীতে দুর্বৃত্তের গুলিতে যুবক নিহতের ঘটনায় মামলা দায়ের
বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) তথ্য অনুযায়ী, আদমজী ইপিজেডে মোট বিনিয়োগ ৮৪৭ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছে গেছে ইতোমধ্যে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত এখান থেকে রপ্তানি হয়েছে মোট ১১ দশমিক ১১২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।
ইপিজেডটির বার্ষিক রপ্তানি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। এবছরের অর্থবছরে তা আরও বেড়ে ১ দশমিক ১৭৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা মূল প্রকল্প প্রস্তাবে নির্ধারিত ৭৫০ মিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি।
আদমজী ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মো. আবদুর রহমান মন্তব্য করেছেন যে, টানা দ্বিতীয় অর্থবছরে ইপিজেডটির রপ্তানি ১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। প্রকল্প প্রস্তাবে ইপিজেডটি পুরোপুরি চালু হলে বছরে প্রায় ৭৫০ মিলিয়ন ডলার রপ্তানির ধারণা করা হয়েছিল। তবে, প্রতিষ্ঠার দুই দশক পূর্ণ হওয়ার আগেই ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমানে নির্মাণাধীন ১০টি কারখানা উৎপাদনে গেলে বার্ষিক রপ্তানি দেড় বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ এখনও বেশ ভালো। তথাপি, ইপিজেডের সকল প্লট ইতোমধ্যে বরাদ্দ হয়ে গেছে। তাই, আমরা ইপিজেডটি আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছি।
আরও পড়ুন: বন্ধ শিল্পে ঋণ বিতরণে ধীরগতি, পাঁচ মাসে মাত্র ৫৬১ কোটি টাকা
বেপজার তথ্য অনুযায়ী, ২৯২ একর আয়তনের আদমজী ইপিজেডে বর্তমানে ৭৬ হাজার ২৭ জন কর্মরত আছেন। যদি নির্মাণাধীন ১০টি কারখানা উৎপাদনে যায়, তবে এখানে সরাসরি কর্মসংস্থান ১ লাখ ছাড়াতে পারে।
এখানকার কারখানাগুলোতে টমি হিলফিগার, রালফ লরেন, মাইকেল করস ও ভ্যান হিউসেনের মতো বৈশ্বিক ব্র্যান্ডের জন্য পোশাক তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি এখানে তৈরি হচ্ছে সেফটি ইকুইপমেন্ট, ফুটওয়্যার ও অটোমোটিভ পণ্য। এসব পণ্য প্রচলিত পোশাকের বাইরে বিশেষায়িত ও উচ্চমূল্যের রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনছে।
উল্লেখ্য, ১৯৫০ সালে সিদ্ধিরগঞ্জে আদমজী জুট মিলস প্রতিষ্ঠা করা হয় আদমজী পরিবারের দ্বারা। পরবর্তীতে এটিই বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পাটকল হিসেবে পরিচিতি পায়। প্রায় ১ হাজার একর জমির উপর গড়ে ওঠা মিলটি শ্রমিক আবাসন, বাজার ও স্কুলসহ একটি বিশাল শিল্পাঞ্চলে পরিণত হয়েছিল।
স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে জাতীয়করণ করে বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) অধীনে নেওয়া হয়েছিল মিলটিকে। কিন্তু, আর্থিক লোকসান, ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা ও শ্রমিক অসন্তোষের কারণে মিলটি ধীরে ধীরে সংকটে পড়ে। শেষ পর্যন্ত ২০০২ সালের ৩০ জুন মিলটি বন্ধ করে দেওয়া হয়, যখন সেখানে কর্মরত ছিলেন প্রায় ২০ হাজার থেকে ২৫ হাজার শ্রমিক।
আরও পড়ুন: ক্যান্সার চিকিৎসায় স্বাস্থ্য খাতের বাজেটের বড় অংশ ব্যয় হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
পরে, পরিত্যক্ত শিল্পভূমিটি নতুনভাবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ২০০৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর জমিটি বেপজার কাছে হস্তান্তরিত হয় এবং ২০০৬ সালের ১৩ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে আদমজী ইপিজেড উদ্বোধন করা হয়।
২০০৫-০৬ অর্থবছরে আদমজী ইপিজেডে বিনিয়োগ ছিল মাত্র ৪ মিলিয়ন ডলার এবং রপ্তানি ছিল শূন্য দশমিক ২৩ মিলিয়ন ডলার।
দুই দশকের ব্যবধানে পাটকলের স্থান দখল করেছে আধুনিক কারখানা। বর্তমানে একই জমিতে ৪৭টি কারখানা চালু রয়েছে, যেখানে কর্মসংস্থান ঘটেছে ৭৬ হাজারেরও বেশি মানুষের।
মূলত, ঢাকা ও চট্টগ্রামের মাঝামাঝি কৌশলগত অবস্থান, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং আধুনিক সুবিধার কারণে স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করেছে আদমজী ইপিজেড। বেপজার প্রত্যাশা, নির্মাণাধীন ১০টি কারখানা উৎপাদনে গেলে ইপিজেডটিতে কর্মসংস্থান ১ লাখেরও বেশি মানুষের হবে; সেইসঙ্গে বার্ষিক রপ্তানি ছাড়াবে দেড় বিলিয়ন ডলার।
আরও পড়ুন: ককরোচদের মোকাবিলায় এবার ‘লাল হিট’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন