প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
২০২৬ সালের অক্টোবরে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিক সীমান্ত এবং প্রধান প্রবেশদ্বার এডেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে হুথি বিদ্রোহীদের দ্বারা। এই হামলাগুলি বিমান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে এবং দেশের বেসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এডেন বিমানবন্দর, যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের অন্তর্বর্তীকালীন রাজধানী হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, সাধারণ নাগরিক ও মানবিক সহায়তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই ধরনের হামলার ধারাবাহিকতায় বেসামরিক নাগরিকরা আহত হচ্ছেন এবং অবকাঠামোগত ক্ষতি হচ্ছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা এডেন বিমানবন্দর খালি করার নির্দেশ দেওয়ার পরপরই সেখানে দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এ বিষয়ে এডেন পুলিশের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এএফপিকে জানান, ‘এডেন বিমানবন্দরের সীমানার ভেতরে সউদী সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা লক্ষ্য করে একটি হুথি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।’
সউদী সমর্থিত ইয়েমেন সরকার জানিয়েছে, ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসেই একাধিকবার এডেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে হুথিরা।
ইয়েমেনি সামরিক মুখপাত্র ও পরিবহন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) সংঘটিত সর্বশেষ হামলায় বিমানবন্দর চত্বরে দুটি ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এসে পড়ে। এতে কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক আহত হন এবং অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি ঘটে।
এ পর্যন্ত যা ঘটেছে
২৮ অক্টোবরের হামলা: রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, হুথিদের খালি করার সতর্কবার্তার পরই ২৮ অক্টোবর এডেন বিমানবন্দরে হামলা চালানো হয়। ইয়েমেন সরকারের সামরিক সূত্র বেসামরিক নাগরিকদের হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির খবর নিশ্চিত করেছে। ঘটনার পর বিমানবন্দরটিতে উড্ডয়ন ও অবতরণসহ সব ধরনের বিমান চলাচল স্থগিত করা হয়।
রানওয়ে সংলগ্ন এলাকায় আঘাত (৭ অক্টোবর): এর আগে ৭ অক্টোবরের এক হামলায় অন্তত দুটি ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও বেশ কয়েকটি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছিল। ইয়েমেনের পরিবহন মন্ত্রণালয় জানায়, কায়রো থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী বিমান অবতরণের ঠিক আগ মুহূর্তে একটি ক্ষেপণাস্ত্র রানওয়ের খুব কাছে এসে পড়ে। ফলে নিরাপত্তার স্বার্থে বিমানটির গতিপথ পরিবর্তন করে সউদী আরবের জেদ্দায় নিয়ে যাওয়া হয়।
উড্ডয়ন ও বিমান নিরাপত্তা নিয়ে ঝুঁকি: অ্যারাব নিউজের বরাতে জানা যায়, ইয়েমেনের পরিবহন মন্ত্রণালয় এসব উপর্যুপরি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে যে, এই আক্রমণগুলো সরাসরি বেসামরিক মানুষের জীবন এবং দেশের আকাশপথের নিরাপত্তাকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলছে।
এডেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি দক্ষিণ ইয়েমেনের প্রধান সংযোগস্থল এবং আন্তর্জাতিক ত্রাণকর্মী, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও জরুরি মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর অন্যতম প্রধান পথ। কিন্তু হুথি বিদ্রোহীদের বারবার ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের কারণে বেসামরিক বিমান চলাচলব্যবস্থা এখন এক অনিশ্চিত সংকটের মুখোমুখি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন