প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ ‘সাদাপাথর’ পর্যটন কেন্দ্রে বর্তমানে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পাহাড়ের বুক চিরে নেমে আসা স্বচ্ছ পানির ধারা এবং ধবধবে সাদা পাথরের মিতালি দেখতে দেশ-বিদেশের হাজারো পর্যটক এখানে ভিড় জমিয়েছে। শারদীয় দুর্গাপূজার দীর্ঘ ছুটিকে কেন্দ্র করে সীমান্তঘেরা এই দৃষ্টিনন্দন এলাকা এখন মুখরিত হয়ে উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঈদ, পূজা কিংবা যেকোনো লম্বা ছুটিতে সাদাপাথরে পর্যটকদের আগমন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এবারের পরিস্থিতিও তার ব্যতিক্রম নয়। গত মঙ্গলবার থেকে সরকারি ছুটি শুরু হওয়ার পর থেকেই এখানে পর্যটকদের ঢল নেমেছে। সাধারণ সময়ে যেখানে দৈনিক গড়ে পাঁচ হাজার পর্যটক আসতেন, সেখানে পূজার ছুটিতে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজারে।
সরেজমিনে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সব বয়সের মানুষ সাদাপাথরের হিমশীতল পানিতে গা ভিজিয়ে ভ্রমণের ক্লান্তি দূর করছেন। কেউ কেউ ধলাই নদীর তীরে বিছানো চেয়ারে বসে ভারতীয় পাহাড়ের মেঘ-রোদ্দুরের খেলা উপভোগ করছেন। আবার অনেকেই এই চমৎকার মুহূর্তগুলোকে ক্যামেরাবন্দি করে স্মৃতির অ্যালবামে সংরক্ষণ করছেন। পর্যটকদের এই বিপুল সমাগম স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে তুলেছে। সাদাপাথর এলাকার খাবারের হোটেল, প্রসাধনসামগ্রীর দোকান, কাপড় রাখার লকার ও বসার চেয়ারের ব্যবসা থেকে শুরু করে ঝালমুড়ি-ফুচকা বিক্রেতা—সবাই এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেনাবেচা ভালো হওয়ায় বিক্রেতাদের মুখে হাসি ফুটেছে এবং পর্যটকরাও তাদের প্রয়োজনীয় সেবা ও পণ্য পেয়ে আনন্দিত।
ঢাকা থেকে সপরিবারে আসা পর্যটক সুমাইয়া আরেফিন তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, ‘পরিবারের ছয় সদস্য মিলে সাদাপাথরে ঘুরতে এসেছি। এখানকার রূপ আমাদের মুগ্ধ করেছে। বিশেষ করে পাহাড়ের কোলঘেঁষা কাচের মতো স্বচ্ছ পানিতে পাথরের ওপর বসে সময় কাটানো জীবনের অন্যতম সেরা মুহূর্ত। পানিতে নামতেই ভ্রমণের সব ক্লান্তি নিমিষেই দূর হয়ে গেছে।’ সাদাপাথর ট্যুরিস্ট পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) আব্দুল কাইয়ুম গাজী জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সহায়তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ সার্বক্ষণিক নিয়োজিত রয়েছে। সাদাপাথর নৌকা ঘাটের বুথ থেকে পর্যটকদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও সেবা প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়া পূজার ছুটি উপলক্ষে পুরো পর্যটন এলাকায় নিরাপত্তা টহল জোরদার করা হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন