প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার মন্তব্য করেছেন যে, পীর-ফকিরের দরবারে ধরনা দিয়ে লাভ হবে না এবং জনগণের স্বার্থ নিশ্চিত করতে না পারলে সরকারকে শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতার সম্মুখীন হতে হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, সরকার বর্তমানে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলার পরিবর্তে জামায়াত ও ১১-দলীয় জোটকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে।
শুক্রবার চট্টগ্রাম বন্দরে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের চট্টগ্রাম মহানগর শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি এবং অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক তুলে ধরে তিনি সরকারের নীতির সমালোচনা করেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আমাদের মূল্যস্ফীতির হার এখন ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ, জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ। মাথাপিছু আয় তিন হাজার ডলার, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬ দশমিক ২১ এবং রেমিট্যান্স ৮ দশমিক ৯৮ মার্কিন ডলার।’ এসব পরিসংখ্যান উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের চাপ সামলাতেই সরকার হিমশিম খাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ওনারা এখন জামায়াতকে সামলাতে চাইছেন, ১১ দলকে সামলাতে চাইছেন। সামলাতে না পেরে এখন পীর-ফকিরের দরবারে ধরনা দিচ্ছেন। জনগণের প্রকৃত স্বার্থ নিশ্চিত করতে না পারলে কোনো দোয়া-ফুঁতে কাজ হবে না।’
গোলাম পরওয়ার আগের সরকারের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, তারাও দোয়া করিয়েছে, বিভিন্ন পদবি দিয়েছে এবং র্যাব-পুলিশ ব্যবহার করেছে। কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি।
তিনি অভিযোগ করেন যে, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়লেও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষের মধ্যে হাহাকার চলছে। একদিকে আয় বাড়ানোর উদ্যোগ না নিয়ে, অন্যদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষ চরম চাপে পড়ছে।
জ্বালানির দাম বৃদ্ধির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ছয় মাসের মধ্যে তিনবার পেট্রল, কেরোসিন, অকটেন, ডিজেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। এত অল্প সময়ে বারবার দাম বাড়লে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কীভাবে ভালো থাকবে, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।
গোলাম পরওয়ার দাবি করেন যে, জামায়াতে ইসলামী দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মহলের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। কূটনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি তাদের দল বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে। বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা জামায়াত নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আন্দোলনের কারণ ও দলটির দাবিদাওয়া সম্পর্কে জানতে চাইছেন।
জুলাইয়ের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দেশের মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষা থেকেই জুলাইয়ে মানুষ রক্ত দিয়েছে। এ ছাড়া দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, শিল্পকারখানা, বিনিয়োগ, রেমিট্যান্স ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন জামায়াতের এই নেতা।
এমই
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন