প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে মঙ্গলবার ঢাকায় ‘বাংলাদেশের পাটখাতের কৌশলগত অর্থনৈতিক কূটনীতি ও রপ্তানি সম্প্রসারণ’ শীর্ষক এক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এই সমন্বয় সভাটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম দুই মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন এবং অচিরেই একটি ভিন্ন মাত্রার আন্তর্জাতিক পাট এক্সপো আয়োজনের ঘোষণা দেন।
সভায় উভয় মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, পাট অধিদপ্তর, পাটশিল্প, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং উন্নয়ন-সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
সভা শুরুর সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পাটশিল্পকে পুনরুজ্জীবীত করার জন্য বর্তমান সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং তিনি পাটখাতকে সর্বাধিক অগ্রাধিকার দিয়ে সোনালী আঁশের সোনালী দিন ফিরিয়ে আনতে পাট ও পাটজাত পণ্যের প্রদর্শনীর গুরুত্ব তুলে ধরেন।
বিশেষভাবে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পাটশিল্পের উন্নয়নে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোর সহায়তা এবং অর্থনৈতিক কূটনীতির ওপর জোর দেন। বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী বিশেষ উদ্যোগের বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি পাটের উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং পাটের নতুন বাজার সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে সরকারের দুই মন্ত্রণালয় এবং বেসরকারি খাতের সমন্বয়ের ওপর জোর দেন।
সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে, দুই মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে ‘যৌথ কার্যনির্বাহী গ্রুপ’ জাতীয় পর্যায়ে পাট প্রদর্শনীর জন্য কর্মপন্থা ঠিক করা, পাট শিল্পের উন্নয়নে বাণিজ্য বাধা দূরী করার পাশাপাশি পাটের জন্য গবেষণাকেন্দ্র স্থাপন এবং এই শিল্পে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। মিল-আধুনিকায়নের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের বিষয়েও আলোচনা হয়।
এছাড়া, প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক পাট এক্সপোতে দেশি-বিদেশি ক্রেতা, গবেষক ও বিনিয়োগকারীদের আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পাটের বাধ্যতামূলক ডিসপ্লে সেন্টার ও গিফট শপ স্থাপন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য পাটজাত স্কুল ব্যাগ তৈরির প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন এবং পাটবীজের আমদানিনির্ভরতা কাটিয়ে উঠতে আগামী ৩ বছরের মধ্যে দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি করে পূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করার বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়।
উভয় মন্ত্রণালয় পাটকে একটি আধুনিক শিল্পে রূপান্তর এবং কৃষকের জন্য ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতকরণ এবং বাংলাদেশকে জলবায়ুবান্ধব পাট-সমাধানের একটি বিশ্বস্ত বৈশ্বিক উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠার অভিন্ন লক্ষ্যে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন