সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:৪২ পি.এম
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যার ঘটনায় নতুন তথ্য উদ্ঘাটিত হয়েছে। পুলিশ একটি আসামিকে গ্রেফতার করার পর তার মোবাইল ফোনে আসা একাধিক কলের সূত্র ধরে হত্যার রহস্য উন্মোচনের কাজ শুরু করে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আইফোন নেওয়ার পাশাপাশি ৫ হাজার টাকা ধার নিয়ে বিরোধও হত্যার কারণ হতে পারে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আব্দুল কাইয়ুম চত্বরে শিক্ষক সমিতির আয়োজিত মানববন্ধনে এসব তথ্য তুলে ধরেন বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কামরুন নাহাত শীলা।
অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের দায়ের করা হত্যা মামলায় সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিনসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৯টার দিকে তুহিনকে হেফাজতে নেওয়া হয়। এ সময় পুলিশ জানতো না যে অপ্রতিম মারা গেছে। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তারা অপ্রতিমের লাশ পাওয়ার খবর পায়।
তদন্তকারীরা জানান, শুরুতে তুহিন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে। তবে রাতে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে সে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে। কিন্তু অন্যদের নাম প্রকাশে সে রাজি হয়নি। তুহিন জানায়, সে অন্যদের নাম প্রকাশ না করার জন্য ‘ওয়াদাবদ্ধ’ ছিল।
এ সময় তুহিনের মোবাইল ফোনে বারবার কল আসছিল। অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানে কাজ করা এক কিশোর ওই ফোনে কল করছিল। বিষয়টি তদন্তকারীদের নজরে আসলে ওই কিশোরকেও হেফাজতে নেওয়া হয়। তখন তার পরনে ছিল অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানের নাম লেখা টি-শার্ট।
পরে তুহিন আরেকজনের নাম জানালে তাকেও পুলিশ হেফাজতে নেয়। জিজ্ঞাসাবাদে আইফোনের পাশাপাশি ৫ হাজার টাকা ধার নিয়ে বিরোধের তথ্যও পাওয়া যায়।
অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ বিক্রির প্রতিষ্ঠান ইয়েসটেকে ওই কিশোর কাজ করত। অপ্রতিম তাকে ৫ হাজার টাকা ধার দিয়েছিল। সেই টাকা ফেরত চাওয়া নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, টাকা ফেরত চাওয়ায় ওই কিশোর অপ্রতিমের ওপর বিরক্ত ছিল। অপ্রতিম মারা গেলে টাকা ফেরত দিতে হবে না—এমন চিন্তা থেকেও হত্যাকাণ্ডটি ঘটতে পারে বলে ধারণা করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে গ্রেফতার কিশোরটি অপ্রতিমের বাবার দোকানে ঘটনার ১০ দিন আগে বিনা বেতনে কাজ শুরু করেছিল বলে জানান ড. কামরুন নাহাত শীলা।
তিনি আরও জানান, অপ্রতিমের মা ড. নাহিদা বেগম সহকারী প্রক্টর থাকাকালে মাদকবিরোধী অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের কয়েকজন সদস্যকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছিলেন। ওই ঘটনার সঙ্গে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা তদন্ত করে বের করার দাবি জানিয়েছেন নাহিদা বেগম।
ড. কামরুন নাহাত শীলা বলেন, ম্যাডাম চান, পুলিশ তদন্ত করে বিষয়টি বের করুক—এই প্রতিশোধের জেরেই তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে কি না।
নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২২ ঘণ্টা পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের জঙ্গলে অপ্রতিমের লাশ পাওয়া যায়। গত শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে বাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। পরে শনিবার বেলা ১টার দিকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন ফেসবুকে একটি রহস্যময় স্ট্যাটাস শেয়ার করেছেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘অন্ধের দেশে চশমা বিক্রি করতে এসেছি।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘ভাবছিলাম মানুষ চোখ খুলবে, পরে বুঝলাম… এখানে চশমার অভাব নেই, অভাব শুধু চোখ খুলে সত্যিটা দেখার ইচ্ছের।’
মিঠুন তার স্ট্যাটাসে কোনো নাম উল্লেখ করেননি এবং তিনি কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা ঘটনার কথা বলেননি। তাই তার বক্তব্যের সঠিক উদ্দেশ্য এখনও পরিষ্কার নয়।
এই স্ট্যাটাস প্রকাশের পর, তার একটি সাক্ষাৎকারও প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে তিনি এই বিষয় নিয়ে কোনো ইঙ্গিত দেননি।
কোয়াবের সভাপতি হিসেবে মিঠুনের এই মন্তব্য ফেসবুকে নতুন আলোচনা শুরু করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মানিকগঞ্জের ঘিওর এলাকায় শ্বশুরের বাসা থেকে প্রায় ১৩ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার চুরির অভিযোগে মো. সামিউল (৪০) নামের এক ‘ঘরজামাই’কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আজ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঘিওর থানার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মুহব্বত কবীর এ তথ্য প্রকাশ করেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ৩০ আগস্ট ঘিওর উপজেলার বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের পাটাইকোনা এলাকায় ব্যবসায়ী আকবর আলী খানের বাড়ি থেকে ছয় ভরি স্বর্ণালংকার চুরি হয়। ঘটনার সময় ভুক্তভোগী দম্পতি চিকিৎসার জন্য ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। পরে ৮ সেপ্টেম্বর ঘিওর থানায় এ বিষয়ে মামলা দায়ের করা হয়।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘিওরের এসআই সুমন চক্রবর্তীর নেতৃত্বে পুলিশ রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাজশাহীর বোয়ালিয়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্ত সামিউলকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় চুরি হওয়া সাড়ে ছয় ভরি স্বর্ণালংকার, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১৩ লাখ টাকা।
গ্রেপ্তারকৃত সামিউল নওগাঁর নিয়ামতপুরের মৃত আজিজুল হকের সন্তান এবং বাদীর মেয়ের জামাই। উদ্ধারকৃত মালামাল আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে এবং আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে এশার নামাজের সময় সেজদারত অবস্থায় মো. জাহাঙ্গীর হোসেন (৫৫) নামে এক মুসল্লির মৃত্যু ঘটে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টা ১০ মিনিটে উপজেলার মদনগঞ্জ এমএল ঘোষাল রোডের নূরনবী জামে মসজিদে এশার নামাজের তৃতীয় রাকাতে সেজদায় থাকার সময় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়।
জাহাঙ্গীর হোসেন খুলনা নিউ মার্কেট এলাকার মৃত আশ্রাফ আলীর পুত্র ছিলেন। বর্তমানে তিনি বন্দরের রূপালী আবাসিক এলাকার ওয়াসা গলিতে আলিনুর মিয়ার বাড়িতে ভাড়া বসবাস করতেন। পেশায় তিনি বেঙ্গল গ্রুপের সেলসম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
মসজিদ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, এশার নামাজের তৃতীয় রাকাতে সেজদায় অবস্থানকালে জাহাঙ্গীর হোসেন আর উঠতে পারেননি। নামাজ শেষে মুসল্লিরা বিষয়টি বুঝতে পেরে তার পরিচয় ও ঠিকানা জানার চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয় মুসল্লি এবং মসজিদ পঞ্চায়েত কমিটির সদস্যরা অনুসন্ধান চালিয়ে তার ঠিকানা শনাক্ত করেন।
পরবর্তীতে তার আত্মীয়-স্বজন ও পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হলে তারা মসজিদে এসে মরদেহ শনাক্ত করে নিয়ে যান। এ সময় তার বেঙ্গল গ্রুপের সহকর্মী এবং রূপালী আবাসিক এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
জাহাঙ্গীর হোসেনের নামাজরত অবস্থায় মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় মুসল্লি, সহকর্মী ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অনেকেই তার এইভাবে মৃত্যুকে আল্লাহর বিশেষ রহমত হিসেবে উল্লেখ করে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন।
মদনগঞ্জ এমএল ঘোষাল রোডের নূরনবী জামে মসজিদের ইমাম বলেন, মৃত্যুর সময় তিনি আল্লাহর ঘরে, নামাজের সেজদারত অবস্থায় ছিলেন। এমন মৃত্যু একজন মুমিনের জন্য আল্লাহর বিশেষ রহমত ও সৌভাগ্যের নিদর্শন হতে পারে। মহান আল্লাহ মরহুমের সব গুনাহ মাফ করে তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন— এই দোয়া করি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে, দলীয় নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই মিছিলটি শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গন থেকে শুরু হয়ে কোটালীপাড়া পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শিল্পকলা চত্ত্বরে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।
মিছিলের সময় সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান শোনা যায়। এতে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।
মিছিল শেষে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম মহিউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার হাওলাদার, পৌর বিএনপি'র সভাপতি ইউসুফ আলী দাড়িয়া, সাধারণ সম্পাদক অলিউর রহমান হাওলাদারসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের সিনিয়র নেতারা বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা উল্লেখ করেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তারা গণতান্ত্রিক অধিকার ও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এছাড়া বক্তারা আরও বলেন, কোনো ধরনের ভয়ভীতি বা রাজনৈতিক চাপ দিয়ে মানুষের কণ্ঠরোধ করা যাবে না। রাজপথে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচির মাধ্যমে এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ অব্যাহত রাখার কথাও তারা জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ