প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পিরোজপুর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের আওতায় ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের লক্ষ্যে খণ্ডকালীন সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও দলীয়করণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিজ্ঞ ও উচ্চশিক্ষিত প্রার্থীদের বাদ দিয়ে রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে অদক্ষ ও দলীয় কর্মী-সমর্থকদের নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীরা।
পিরোজপুর থেকে স্থানীয় প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, প্রায় এক মাস আগে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের জন্য খণ্ডকালীন সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর ওই পদগুলোর বিপরীতে প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার প্রার্থী আবেদন করেন। আবেদনকারীদের মধ্যে অনেকেই স্নাতকোত্তর (এমএ) পাস। এছাড়া প্রায় ২০০ জন প্রার্থীর বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি জরিপ ও তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে ৮ থেকে ১০টি পর্যন্ত অভিজ্ঞতার সনদ রয়েছে বলে দাবি করেছেন তারা।
বঞ্চিত প্রার্থীদের ভাষ্য, তারা অতীতে আদমশুমারি, কৃষিশুমারি, আর্সেনিক জরিপ, ভোটার তালিকা হালনাগাদ, পুকুর জরিপ, টিআইবি ও সুশীলনসহ বিভিন্ন জরিপ ও তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করেছেন। এসব কাজে অর্জিত অভিজ্ঞতার সনদও নিয়োগের সময় যথাযথভাবে দাখিল করা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এসব অভিজ্ঞতা ও শিক্ষাগত যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।
ভুক্তভোগীদের দাবি, মৌখিক পরীক্ষার সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও কৃষি কর্মকর্তার সমন্বয়ে গঠিত নিয়োগ বোর্ড প্রার্থীদের অভিজ্ঞতার সনদ দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তবে পরবর্তীতে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে অভিজ্ঞ ও যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্য থেকে নতুন তালিকা তৈরি করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এমনকি নিয়োগ বোর্ডের কর্মকর্তারাও প্রশাসনিক চাপ কিংবা হয়রানির আশঙ্কায় ওই তালিকায় স্বাক্ষর করতে বাধ্য হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন বঞ্চিত প্রার্থীরা। যদিও এ অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার ব্যক্তিগত সহকারীর (পিএস) নিকটাত্মীয়দের কয়েকজনের প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও উত্তীর্ণ তালিকায় তাদের নাম স্থান পেয়েছে। অন্যদিকে, এসএসসি পাস প্রার্থীরা সুযোগ পেলেও একাধিক জরিপ ও তথ্য সংগ্রহের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী প্রার্থীদের বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীরা তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে বলেন, বিগত স্বৈরাচারী শাসনামলের বৈষম্য ও দলীয়করণের বিরুদ্ধে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে হাজারো ছাত্র-জনতা আত্মত্যাগ করেছেন। সেই পরিবর্তনের পরও যদি একটি ছোট পরিসরের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় একই ধরনের বৈষম্য, দলীয় প্রভাব ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ওঠে, তাহলে জুলাইয়ের সেই আত্মত্যাগের সুফল কোথায়—এমন প্রশ্নই এখন তাদের।
তাদের দাবি, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম বা রাজনৈতিক প্রভাবের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে বিতর্কিত নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত বা বাতিল করে শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও মেধার ভিত্তিতে নতুন করে প্রার্থী বাছাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, দলীয় প্রভাব ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বোর্ড এবং জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কাছ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন