প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুমিল্লা নগরীর ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করতে পরিচালিত দুই দিনের অভিযানে দুই শতাধিক ভ্যান ও ফুডকার্ট উচ্ছেদ করা হয়েছে। তবে শুধু উচ্ছেদ নয়, এবার ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের স্থায়ীভাবে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়েছে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন (কুসিক)। এর অংশ হিসেবে নগরীর সিটি মার্কেটে হকারদের জন্য দুই শতাধিক দোকান প্রস্তুত করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ও রোববার (২৮ জুন) নগরীর কান্দিরপাড়, চকবাজার ও রানীরবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে এসব এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ফুটপাত দখল করে হকাররা পসরা সাজিয়ে বসতেন। এতে পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটার পাশাপাশি তীব্র যানজট ও জনভোগান্তি তৈরি হতো। সমস্যা নিরসনে এর আগে একাধিকবার উদ্যোগ নেয়া হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান মেলেনি।
দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই নগরীর ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেন কুসিকের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু। প্রায় দুই মাস আগে তিনি চকবাজার, রাজগঞ্জ, কান্দিরপাড়, পূবালী চত্বর, টমছম ব্রিজ, রানীরবাজার ও শাসনগাছাসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকার হকারদের স্বেচ্ছায় স্থান ছেড়ে দেয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে পুনরায় সড়ক দখল করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ারও সতর্কবার্তা দেয়া হয়।
কিন্তু প্রশাসনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে পরদিনই হকাররা আগের জায়গায় বসে পড়েন। পরবর্তীতে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি।
অবশেষে কুসিকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া হোসেন এবং জেলা প্রশাসনের আরও দুই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের অংশগ্রহণে গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) কান্দিরপাড় জিলা স্কুল এলাকা থেকে চকবাজার পর্যন্ত প্রথম দিনের অভিযান পরিচালিত হয়। এরপর রোববার (২৮ জুন) রানীরবাজার থেকে কান্দিরপাড় পর্যন্ত দ্বিতীয় দিনের অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ভেকু দিয়ে সড়ক দখল করে রাখা ভ্রাম্যমাণ দোকান, ভ্যান ও ফুডকার্ট অপসারণ করা হয়। কুসিকের তথ্যমতে, এই দুই দিনে প্রায় দুই শতাধিক ভ্যানগাড়ি ও ফুডকার্ট উচ্ছেদ করা হয়েছে।
অভিযানের পর নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তবে ফুটপাতে ব্যবসা করা হকারদের জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পুনর্বাসনের পদক্ষেপ নিয়েছে সিটি কর্পোরেশন। নগরীর সিটি মার্কেটের দ্বিতীয় থেকে ষষ্ঠ তলা পর্যন্ত চারটি ফ্লোরে হকারদের জন্য দুই শতাধিক দোকান প্রস্তুত করা হয়েছে। নামমাত্র সেলামি এবং সামর্থ্য অনুযায়ী স্বল্প ভাড়ায় এসব দোকান বরাদ্দ দেয়া হবে। কুসিকের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে এই মার্কেটের নাম রাখা হবে ‘হকার মার্কেট’।
এ বিষয়ে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য শুধু হকার উচ্ছেদ করা নয়, তাদের পুনর্বাসন নিশ্চিত করা। তাই সিটি মার্কেটে দুই শতাধিক দোকান প্রস্তুত করা হয়েছে। যে কেউ চাইলে এখনই দোকান বরাদ্দ নিয়ে ব্যবসা শুরু করতে পারবেন। আমরা এই মার্কেটকে হকার মার্কেট হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘কুমিল্লাকে যানজটমুক্ত করতে ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত রাখার বিকল্প নেই। তবে জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
নগরবাসীর প্রত্যাশা, উচ্ছেদের পর হকারদের পরিকল্পিতভাবে পুনর্বাসন করা গেলে দীর্ঘদিনের যানজট ও জনভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও একটি স্থায়ী ও নিরাপদ ব্যবসার পরিবেশ পাবেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন